ঢাকা ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

হোয়াইট হাউসের সামনের রাস্তার নাম ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার প্লাজা’

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

বর্ণবিদ্বেষ ও পুলিশি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আমেরিকায় দেড় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভ মিছিল।

কিন্তু জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার দ্বাদশতম দিনে ওয়াশিংটনে এ যাবৎ সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটি ছিল শান্তিপূর্ণ। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

হাজার হাজার মানুষ তাতে শামিল হলেও সে মিছিলে ছিল উচ্ছ্বাস, উদ্যাপনের আনন্দ, এমনকি জয়ের সুরও। মিছিল হয় নিউইয়র্ক, শিকাগো, লসঅ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, বোস্টন থেকে শুরু করে ছোট ছোট প্রদেশগুলোতেও। আমেরিকা ছাড়িয়ে যা ছড়িয়ে পড়ে টরন্টো, সিডনি থেকে লন্ডন পর্যন্ত।

স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকেই উপচে পড়ে ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়াল ও হোয়াইট হাউসের সামনের রাস্তা, যার সদ্য নামকরণ হয়েছে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার প্লাজ়া’।

তবে হোয়াইট হাউসের দিকে এগোনোর সব পথই বন্ধ করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। যদিও তার প্রয়োজন ছিল না। প্রতিবাদ এতটাই শান্তিপূর্ণ ছিল, ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট মেয়র মুরিয়েল বাউসার শহর থেকে ন্যাশনাল গার্ডসহ যাবতীয় রক্ষীবাহিনী তুলে নেয়ার অনুরোধ জানান।

রোববার বিক্ষোভে শামিল হন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক মেয়র মুরিয়েল বাউসারও। ন্যাশনাল গার্ড তুলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্পও।

মেমোরিয়াল চত্বরে ছোট-বড়, সব বয়সের বিক্ষোভকারীর হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। কোথাও লেখা– ‘আমরা বিরক্ত’, কোথাও আবার– ‘কৃষ্ণাঙ্গের জীবনের দাম না দিলে কারও জীবনের দাম নেই’।

পুলিশ ছিল সংখ্যায় অনেক কম এবং ভঙ্গিও গত ১১ দিনের মতো আক্রমণাত্মক নয়। গায়ে বর্ম মাথায় হেলমেটের বদলে তারা ছিল সাধারণ পোশাকে। উত্তেজনা শিথিল হয়ে আসায় রোববার বহু শহর থেকেই কারফিউ তুলে নেয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কের বাফেলোয় ৭৫ বছরের এক বিক্ষোভকারীকে মাটিতে ফেলে হেনস্তা করায় সাসপেন্ড করা হয়েছে দুই পুলিশকর্মীকে। এর প্রতিবাদে ৫৭ পুলিশকর্মী পদত্যাগ করেছেন।

ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পেরিয়ে এগিয়ে যায় মিছিল। ‘বিচার ছাড়া শান্তি নেই’ স্লোগান তোলেন ফিলাডেলফিয়া শিল্প প্রদর্শনশালায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা। সান ফ্রান্সিসকোতে গোল্ডেন গেট ব্রিজ অবরুদ্ধ করেন প্রতিবাদীরা।

সংহতি জানাতে একযোগে বেজে ওঠে মোটরসাইকেলের হর্ন। মায়ামিতে ট্রাম্পের গলফ রিসোর্টের বাইরে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা।

এসবের মধ্যেই শনিবার নর্থ ক্যারোলাইনায় জর্জ ফ্লয়েডের জন্মস্থানে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে একটি গির্জায় জড়ো হন কয়েকশ মানুষ। রোববার সকালে হিউস্টনে নেয়া হয় ফ্লয়েডের মৃতদেহ। সেখানেই তার শেষকৃত্য হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

হোয়াইট হাউসের সামনের রাস্তার নাম ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার প্লাজা’

আপডেট সময় ০১:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

বর্ণবিদ্বেষ ও পুলিশি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আমেরিকায় দেড় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে প্রতিবাদ আর বিক্ষোভ মিছিল।

কিন্তু জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার দ্বাদশতম দিনে ওয়াশিংটনে এ যাবৎ সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটি ছিল শান্তিপূর্ণ। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

হাজার হাজার মানুষ তাতে শামিল হলেও সে মিছিলে ছিল উচ্ছ্বাস, উদ্যাপনের আনন্দ, এমনকি জয়ের সুরও। মিছিল হয় নিউইয়র্ক, শিকাগো, লসঅ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, বোস্টন থেকে শুরু করে ছোট ছোট প্রদেশগুলোতেও। আমেরিকা ছাড়িয়ে যা ছড়িয়ে পড়ে টরন্টো, সিডনি থেকে লন্ডন পর্যন্ত।

স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকেই উপচে পড়ে ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়াল ও হোয়াইট হাউসের সামনের রাস্তা, যার সদ্য নামকরণ হয়েছে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার প্লাজ়া’।

তবে হোয়াইট হাউসের দিকে এগোনোর সব পথই বন্ধ করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। যদিও তার প্রয়োজন ছিল না। প্রতিবাদ এতটাই শান্তিপূর্ণ ছিল, ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাট মেয়র মুরিয়েল বাউসার শহর থেকে ন্যাশনাল গার্ডসহ যাবতীয় রক্ষীবাহিনী তুলে নেয়ার অনুরোধ জানান।

রোববার বিক্ষোভে শামিল হন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক মেয়র মুরিয়েল বাউসারও। ন্যাশনাল গার্ড তুলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্পও।

মেমোরিয়াল চত্বরে ছোট-বড়, সব বয়সের বিক্ষোভকারীর হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। কোথাও লেখা– ‘আমরা বিরক্ত’, কোথাও আবার– ‘কৃষ্ণাঙ্গের জীবনের দাম না দিলে কারও জীবনের দাম নেই’।

পুলিশ ছিল সংখ্যায় অনেক কম এবং ভঙ্গিও গত ১১ দিনের মতো আক্রমণাত্মক নয়। গায়ে বর্ম মাথায় হেলমেটের বদলে তারা ছিল সাধারণ পোশাকে। উত্তেজনা শিথিল হয়ে আসায় রোববার বহু শহর থেকেই কারফিউ তুলে নেয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কের বাফেলোয় ৭৫ বছরের এক বিক্ষোভকারীকে মাটিতে ফেলে হেনস্তা করায় সাসপেন্ড করা হয়েছে দুই পুলিশকর্মীকে। এর প্রতিবাদে ৫৭ পুলিশকর্মী পদত্যাগ করেছেন।

ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পেরিয়ে এগিয়ে যায় মিছিল। ‘বিচার ছাড়া শান্তি নেই’ স্লোগান তোলেন ফিলাডেলফিয়া শিল্প প্রদর্শনশালায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা। সান ফ্রান্সিসকোতে গোল্ডেন গেট ব্রিজ অবরুদ্ধ করেন প্রতিবাদীরা।

সংহতি জানাতে একযোগে বেজে ওঠে মোটরসাইকেলের হর্ন। মায়ামিতে ট্রাম্পের গলফ রিসোর্টের বাইরে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা।

এসবের মধ্যেই শনিবার নর্থ ক্যারোলাইনায় জর্জ ফ্লয়েডের জন্মস্থানে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে একটি গির্জায় জড়ো হন কয়েকশ মানুষ। রোববার সকালে হিউস্টনে নেয়া হয় ফ্লয়েডের মৃতদেহ। সেখানেই তার শেষকৃত্য হয়।