ঢাকা ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

করোনার তথ্য লুকানোতে প্রথম বলা যায় যে দেশকে

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনা মহামারিতে আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল দেখে বিশ্বনেতারা যখন আতঙ্কগ্রস্ত, তখন এমন এক দেশ আছে যাদের সরকার চিন্তিত নয় বরং সত্য লুকাতেই ব্যস্ত। স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু চলছে আগের মতোই। শুধু রোগীতে ঠাসা হাসপাতালগুলো। মৃত্যু হলেই কবর হয় অজানা কোথাও, জানেনা স্বজনরা। মধ্যআমেরিকার দেশটি নিকারাগুয়া।

রাজনীতিবিদ ও মানবধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছেন, ৬৫  লাখ মানুষের এ দেশটিতে সামাজিক দূরত্ব কার্যকর হয়নি, স্কুল-কলেজে আগের মতোই যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, স্বাভাবিক গতিতে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি অফিসগুলো খোলা, এমনকি ফুটবল লিগসহ কয়েকটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও হয়েছে মে মাসে। যা দেখতে দর্শকরাও জড়ো হন। এছাড়া অন্যান্য জনসমাগমও হচ্ছে। এতে সরকারের কোনা বিধিনিষেধ বা লকডাউন ব্যবস্থা নেই। মাস্ক পরাসহ যতটুকু সচেতনতা আছে তা জনগণের নিজের থেকেই।

নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ডানিয়েল ওর্তেগা এতোদিন করোনায় আক্রান্ত মাত্র ২৫ জন বললেও গত সপ্তাহে প্রথম দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আক্রান্ত ২৫৪ জন এবং মারা গেছে ১৭ জন। যা তাদের পূর্বের ঘোষণার চেয়ে ১০ গুণ বেশি। মানবধিকার সংগঠনগুলো বলছে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি।  বেসরকারি সংস্থা সিটিজেন অবজারভেটরি জানায়, ১৬ মে পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৩৬৬  জন। আর আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৬৯ জন।

দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং বিরোধীরা অভিযোগ করছে করোনার সঠিক তথ্য গোপন করতে সরকার লাশ দ্রুত কবরস্থ করে ফেলছে।  কেউ মারা গেলে সরকার মিথ্যা বলছে এবং স্বজনদের ভুল তথ্য দিয়ে মৃত্যুর সার্টিফিকেট দিচ্ছে। সিভিক অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিজ অ্যান্ড ডেমোক্রেসির নেতা জুয়ান সেবাসটিয়ান চামোরো বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ডানিয়েল ওর্তেগার কৌশল হচ্ছে কিছুই করোনা, এমন ভাব কর যেনো সবই স্বাভাবিক চলছে। আর এভাবেই বিপদ ডেকে এনেছে।’

দেশটির মহামারি বিশেষজ্ঞ আলভারো রামিরেজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখন কমিউনিটি সংক্রমণের অবস্থায় চলে গেছি। কারণ দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হতে চলেছে।’ অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশগুলো করোনা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মানুষের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু নিকারাগুয়ায় তেমন কোন পদক্ষেপ বা পরিকল্পনা নেয়া হয়নি ।

হাসপাতাল কর্মীরা বলছেন, শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে গেছে। এতে যারা মারা যাচ্ছে তাদের লাশ স্বজনদের সম্মতি ছাড়াই পিক-আপে করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কবর দেয়ার জন্য। সাদা পোশাকের পুলিশ হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে কোন সাংবাদিক বা ফটোগ্রাফার হাসপাতালে ঢুকতে না পারে এবং রোগীর স্বজনরা কথা বলতে না পারে।

সূত্র: স্টার ট্রিবিউন, রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে মিছিলের প্রস্তুতি: আ.লীগের চার কর্মী গ্রেপ্তার

করোনার তথ্য লুকানোতে প্রথম বলা যায় যে দেশকে

আপডেট সময় ০৪:১৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনা মহামারিতে আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল দেখে বিশ্বনেতারা যখন আতঙ্কগ্রস্ত, তখন এমন এক দেশ আছে যাদের সরকার চিন্তিত নয় বরং সত্য লুকাতেই ব্যস্ত। স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু চলছে আগের মতোই। শুধু রোগীতে ঠাসা হাসপাতালগুলো। মৃত্যু হলেই কবর হয় অজানা কোথাও, জানেনা স্বজনরা। মধ্যআমেরিকার দেশটি নিকারাগুয়া।

রাজনীতিবিদ ও মানবধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছেন, ৬৫  লাখ মানুষের এ দেশটিতে সামাজিক দূরত্ব কার্যকর হয়নি, স্কুল-কলেজে আগের মতোই যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, স্বাভাবিক গতিতে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি অফিসগুলো খোলা, এমনকি ফুটবল লিগসহ কয়েকটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও হয়েছে মে মাসে। যা দেখতে দর্শকরাও জড়ো হন। এছাড়া অন্যান্য জনসমাগমও হচ্ছে। এতে সরকারের কোনা বিধিনিষেধ বা লকডাউন ব্যবস্থা নেই। মাস্ক পরাসহ যতটুকু সচেতনতা আছে তা জনগণের নিজের থেকেই।

নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ডানিয়েল ওর্তেগা এতোদিন করোনায় আক্রান্ত মাত্র ২৫ জন বললেও গত সপ্তাহে প্রথম দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আক্রান্ত ২৫৪ জন এবং মারা গেছে ১৭ জন। যা তাদের পূর্বের ঘোষণার চেয়ে ১০ গুণ বেশি। মানবধিকার সংগঠনগুলো বলছে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি।  বেসরকারি সংস্থা সিটিজেন অবজারভেটরি জানায়, ১৬ মে পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৩৬৬  জন। আর আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৬৯ জন।

দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং বিরোধীরা অভিযোগ করছে করোনার সঠিক তথ্য গোপন করতে সরকার লাশ দ্রুত কবরস্থ করে ফেলছে।  কেউ মারা গেলে সরকার মিথ্যা বলছে এবং স্বজনদের ভুল তথ্য দিয়ে মৃত্যুর সার্টিফিকেট দিচ্ছে। সিভিক অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিজ অ্যান্ড ডেমোক্রেসির নেতা জুয়ান সেবাসটিয়ান চামোরো বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ডানিয়েল ওর্তেগার কৌশল হচ্ছে কিছুই করোনা, এমন ভাব কর যেনো সবই স্বাভাবিক চলছে। আর এভাবেই বিপদ ডেকে এনেছে।’

দেশটির মহামারি বিশেষজ্ঞ আলভারো রামিরেজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখন কমিউনিটি সংক্রমণের অবস্থায় চলে গেছি। কারণ দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হতে চলেছে।’ অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশগুলো করোনা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মানুষের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু নিকারাগুয়ায় তেমন কোন পদক্ষেপ বা পরিকল্পনা নেয়া হয়নি ।

হাসপাতাল কর্মীরা বলছেন, শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে গেছে। এতে যারা মারা যাচ্ছে তাদের লাশ স্বজনদের সম্মতি ছাড়াই পিক-আপে করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কবর দেয়ার জন্য। সাদা পোশাকের পুলিশ হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে কোন সাংবাদিক বা ফটোগ্রাফার হাসপাতালে ঢুকতে না পারে এবং রোগীর স্বজনরা কথা বলতে না পারে।

সূত্র: স্টার ট্রিবিউন, রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড