ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শক্তিশালী করতে হবে: ববি হাজ্জাজ বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান চলছে, তবে আলোচনার পরিস্থিতি নেই: ইরান শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ:শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভা ভৈরবে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক

করোনার তথ্য লুকানোতে প্রথম বলা যায় যে দেশকে

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনা মহামারিতে আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল দেখে বিশ্বনেতারা যখন আতঙ্কগ্রস্ত, তখন এমন এক দেশ আছে যাদের সরকার চিন্তিত নয় বরং সত্য লুকাতেই ব্যস্ত। স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু চলছে আগের মতোই। শুধু রোগীতে ঠাসা হাসপাতালগুলো। মৃত্যু হলেই কবর হয় অজানা কোথাও, জানেনা স্বজনরা। মধ্যআমেরিকার দেশটি নিকারাগুয়া।

রাজনীতিবিদ ও মানবধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছেন, ৬৫  লাখ মানুষের এ দেশটিতে সামাজিক দূরত্ব কার্যকর হয়নি, স্কুল-কলেজে আগের মতোই যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, স্বাভাবিক গতিতে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি অফিসগুলো খোলা, এমনকি ফুটবল লিগসহ কয়েকটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও হয়েছে মে মাসে। যা দেখতে দর্শকরাও জড়ো হন। এছাড়া অন্যান্য জনসমাগমও হচ্ছে। এতে সরকারের কোনা বিধিনিষেধ বা লকডাউন ব্যবস্থা নেই। মাস্ক পরাসহ যতটুকু সচেতনতা আছে তা জনগণের নিজের থেকেই।

নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ডানিয়েল ওর্তেগা এতোদিন করোনায় আক্রান্ত মাত্র ২৫ জন বললেও গত সপ্তাহে প্রথম দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আক্রান্ত ২৫৪ জন এবং মারা গেছে ১৭ জন। যা তাদের পূর্বের ঘোষণার চেয়ে ১০ গুণ বেশি। মানবধিকার সংগঠনগুলো বলছে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি।  বেসরকারি সংস্থা সিটিজেন অবজারভেটরি জানায়, ১৬ মে পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৩৬৬  জন। আর আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৬৯ জন।

দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং বিরোধীরা অভিযোগ করছে করোনার সঠিক তথ্য গোপন করতে সরকার লাশ দ্রুত কবরস্থ করে ফেলছে।  কেউ মারা গেলে সরকার মিথ্যা বলছে এবং স্বজনদের ভুল তথ্য দিয়ে মৃত্যুর সার্টিফিকেট দিচ্ছে। সিভিক অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিজ অ্যান্ড ডেমোক্রেসির নেতা জুয়ান সেবাসটিয়ান চামোরো বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ডানিয়েল ওর্তেগার কৌশল হচ্ছে কিছুই করোনা, এমন ভাব কর যেনো সবই স্বাভাবিক চলছে। আর এভাবেই বিপদ ডেকে এনেছে।’

দেশটির মহামারি বিশেষজ্ঞ আলভারো রামিরেজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখন কমিউনিটি সংক্রমণের অবস্থায় চলে গেছি। কারণ দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হতে চলেছে।’ অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশগুলো করোনা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মানুষের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু নিকারাগুয়ায় তেমন কোন পদক্ষেপ বা পরিকল্পনা নেয়া হয়নি ।

হাসপাতাল কর্মীরা বলছেন, শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে গেছে। এতে যারা মারা যাচ্ছে তাদের লাশ স্বজনদের সম্মতি ছাড়াই পিক-আপে করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কবর দেয়ার জন্য। সাদা পোশাকের পুলিশ হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে কোন সাংবাদিক বা ফটোগ্রাফার হাসপাতালে ঢুকতে না পারে এবং রোগীর স্বজনরা কথা বলতে না পারে।

সূত্র: স্টার ট্রিবিউন, রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী

করোনার তথ্য লুকানোতে প্রথম বলা যায় যে দেশকে

আপডেট সময় ০৪:১৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনা মহামারিতে আক্রান্ত আর মৃত্যুর মিছিল দেখে বিশ্বনেতারা যখন আতঙ্কগ্রস্ত, তখন এমন এক দেশ আছে যাদের সরকার চিন্তিত নয় বরং সত্য লুকাতেই ব্যস্ত। স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু চলছে আগের মতোই। শুধু রোগীতে ঠাসা হাসপাতালগুলো। মৃত্যু হলেই কবর হয় অজানা কোথাও, জানেনা স্বজনরা। মধ্যআমেরিকার দেশটি নিকারাগুয়া।

রাজনীতিবিদ ও মানবধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছেন, ৬৫  লাখ মানুষের এ দেশটিতে সামাজিক দূরত্ব কার্যকর হয়নি, স্কুল-কলেজে আগের মতোই যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা, স্বাভাবিক গতিতে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি অফিসগুলো খোলা, এমনকি ফুটবল লিগসহ কয়েকটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও হয়েছে মে মাসে। যা দেখতে দর্শকরাও জড়ো হন। এছাড়া অন্যান্য জনসমাগমও হচ্ছে। এতে সরকারের কোনা বিধিনিষেধ বা লকডাউন ব্যবস্থা নেই। মাস্ক পরাসহ যতটুকু সচেতনতা আছে তা জনগণের নিজের থেকেই।

নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ডানিয়েল ওর্তেগা এতোদিন করোনায় আক্রান্ত মাত্র ২৫ জন বললেও গত সপ্তাহে প্রথম দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আক্রান্ত ২৫৪ জন এবং মারা গেছে ১৭ জন। যা তাদের পূর্বের ঘোষণার চেয়ে ১০ গুণ বেশি। মানবধিকার সংগঠনগুলো বলছে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি।  বেসরকারি সংস্থা সিটিজেন অবজারভেটরি জানায়, ১৬ মে পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৩৬৬  জন। আর আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৬৯ জন।

দেশটিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং বিরোধীরা অভিযোগ করছে করোনার সঠিক তথ্য গোপন করতে সরকার লাশ দ্রুত কবরস্থ করে ফেলছে।  কেউ মারা গেলে সরকার মিথ্যা বলছে এবং স্বজনদের ভুল তথ্য দিয়ে মৃত্যুর সার্টিফিকেট দিচ্ছে। সিভিক অ্যালায়েন্স ফর জাস্টিজ অ্যান্ড ডেমোক্রেসির নেতা জুয়ান সেবাসটিয়ান চামোরো বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ডানিয়েল ওর্তেগার কৌশল হচ্ছে কিছুই করোনা, এমন ভাব কর যেনো সবই স্বাভাবিক চলছে। আর এভাবেই বিপদ ডেকে এনেছে।’

দেশটির মহামারি বিশেষজ্ঞ আলভারো রামিরেজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখন কমিউনিটি সংক্রমণের অবস্থায় চলে গেছি। কারণ দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নৈরাজ্যকর হতে চলেছে।’ অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশগুলো করোনা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মানুষের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু নিকারাগুয়ায় তেমন কোন পদক্ষেপ বা পরিকল্পনা নেয়া হয়নি ।

হাসপাতাল কর্মীরা বলছেন, শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে গেছে। এতে যারা মারা যাচ্ছে তাদের লাশ স্বজনদের সম্মতি ছাড়াই পিক-আপে করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কবর দেয়ার জন্য। সাদা পোশাকের পুলিশ হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে কোন সাংবাদিক বা ফটোগ্রাফার হাসপাতালে ঢুকতে না পারে এবং রোগীর স্বজনরা কথা বলতে না পারে।

সূত্র: স্টার ট্রিবিউন, রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড