ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আরেক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ট্রাম্প

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনীহা কারো অজানা নয়৷ এবার তিনি এক আন্তর্জাতিক সামরিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে রাশিয়ার সমালোচনার পাত্র হয়েছেন৷ জার্মানিও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে৷

গোটা বিশ্বে করোনা সংকটের মাঝে যুদ্ধ নিয়ে ভাবার সময় থাকার কথা নয়৷ কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে এমন এক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন, যার ফলে এখনই কোনো যুদ্ধ শুরু না হলেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত আন্তর্জাতিক সামরিক চুক্তি উপেক্ষা করে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বিপজ্জনক পথে অগ্রসর হচ্ছেন৷ খবর ডয়চে ভেলের।

‘ওপেন স্কাইস ট্রিটি’ চুক্তির আওতায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলি একে অপরের আকাশসীমার মধ্যে নিরস্ত্র বিমান পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাতে পারে৷ স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক আস্থা মজবুত করাই প্রায় তিন দশক আগে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির লক্ষ্য৷ আমেরিকা ও রাশিয়াসহ মোট ৩৪টি দেশ এই কাঠামোর অংশ৷

কিন্তু ট্রাম্পের যুক্তি, রাশিয়া এই চুক্তি লঙ্ঘন করায় আমেরিকাও আর এই কাঠামোর অংশ থাকতে চায় না৷ উল্লেখ্য, মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী রাশিয়া কালিনিনগ্রাড এলাকা, জর্জিয়া সীমান্তসহ কিছু এলাকা এবং রুশ সামরিক মহড়ার সময় আকাশসীমা বন্ধ রেখে ‘ওপেন স্কাইস ট্রিটি’ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে৷ ট্রাম্প বলেন, সেদেশ এই চুক্তি না মানলে তিনিও সেটি বর্জন করবেন৷ তবে রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে ভবিষ্যতে বোঝাপড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাম্প৷

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ওয়াশিংটন চুক্তি ত্যাগের নোটিশ পেশ করতে চলেছে৷ ছয় মাস পর আমেরিকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে৷

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই প্রসঙ্গে শীতল যুদ্ধের সময়কার ‘সেকেলে’ বোঝাপড়া সম্পর্কে অবজ্ঞা দেখিয়েছেন৷ তাদের মতে, অন্যরা এমন সব চুক্তি না মানায় আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ আর রক্ষা করা যাচ্ছে না৷ তাই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে৷ একমাত্র এভাবেই গোটা বিশ্বকে নিরাপদ রাখা সম্ভব৷

রাশিয়া আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে৷ মস্কোর মতে, ‘ভিত্তিহীন’ কারণ দেখিয়ে ওয়াশিংটন এমন বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে৷ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির ইয়েরমাকাভ বলেন, ‘তার দেশ মোটেই এই চুক্তি লঙ্ঘন করেনি৷ আমেরিকা এর আগেও রাশিয়া সম্পর্কে মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ত্যাগ করেছে’৷

উল্লেখ্য, আমেরিকা দুই বছর আগে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ত্যাগ করেছিল৷

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস-ও ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷ তার মতে, এই চুক্তি ইউরোপের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ এটি গোটা উত্তর গোলার্ধে নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে অবদান রেখে চলেছে৷

মাস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাশিয়ায় এই চুক্তির বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে বটে, কিন্তু সেই কারণ চুক্তি ত্যাগ করার জন্য যথেষ্ট নয়৷ তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে এই চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর করার আহ্বান জানান৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আরেক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৯:০১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনীহা কারো অজানা নয়৷ এবার তিনি এক আন্তর্জাতিক সামরিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে রাশিয়ার সমালোচনার পাত্র হয়েছেন৷ জার্মানিও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে৷

গোটা বিশ্বে করোনা সংকটের মাঝে যুদ্ধ নিয়ে ভাবার সময় থাকার কথা নয়৷ কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে এমন এক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াতে চলেছেন, যার ফলে এখনই কোনো যুদ্ধ শুরু না হলেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত আন্তর্জাতিক সামরিক চুক্তি উপেক্ষা করে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বিপজ্জনক পথে অগ্রসর হচ্ছেন৷ খবর ডয়চে ভেলের।

‘ওপেন স্কাইস ট্রিটি’ চুক্তির আওতায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলি একে অপরের আকাশসীমার মধ্যে নিরস্ত্র বিমান পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাতে পারে৷ স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক আস্থা মজবুত করাই প্রায় তিন দশক আগে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির লক্ষ্য৷ আমেরিকা ও রাশিয়াসহ মোট ৩৪টি দেশ এই কাঠামোর অংশ৷

কিন্তু ট্রাম্পের যুক্তি, রাশিয়া এই চুক্তি লঙ্ঘন করায় আমেরিকাও আর এই কাঠামোর অংশ থাকতে চায় না৷ উল্লেখ্য, মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী রাশিয়া কালিনিনগ্রাড এলাকা, জর্জিয়া সীমান্তসহ কিছু এলাকা এবং রুশ সামরিক মহড়ার সময় আকাশসীমা বন্ধ রেখে ‘ওপেন স্কাইস ট্রিটি’ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে৷ ট্রাম্প বলেন, সেদেশ এই চুক্তি না মানলে তিনিও সেটি বর্জন করবেন৷ তবে রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে ভবিষ্যতে বোঝাপড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাম্প৷

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ওয়াশিংটন চুক্তি ত্যাগের নোটিশ পেশ করতে চলেছে৷ ছয় মাস পর আমেরিকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে৷

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই প্রসঙ্গে শীতল যুদ্ধের সময়কার ‘সেকেলে’ বোঝাপড়া সম্পর্কে অবজ্ঞা দেখিয়েছেন৷ তাদের মতে, অন্যরা এমন সব চুক্তি না মানায় আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ আর রক্ষা করা যাচ্ছে না৷ তাই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে৷ একমাত্র এভাবেই গোটা বিশ্বকে নিরাপদ রাখা সম্ভব৷

রাশিয়া আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে৷ মস্কোর মতে, ‘ভিত্তিহীন’ কারণ দেখিয়ে ওয়াশিংটন এমন বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে৷ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির ইয়েরমাকাভ বলেন, ‘তার দেশ মোটেই এই চুক্তি লঙ্ঘন করেনি৷ আমেরিকা এর আগেও রাশিয়া সম্পর্কে মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ত্যাগ করেছে’৷

উল্লেখ্য, আমেরিকা দুই বছর আগে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ত্যাগ করেছিল৷

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস-ও ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দুঃখ প্রকাশ করেছেন৷ তার মতে, এই চুক্তি ইউরোপের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ৷ এটি গোটা উত্তর গোলার্ধে নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে অবদান রেখে চলেছে৷

মাস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাশিয়ায় এই চুক্তির বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে বটে, কিন্তু সেই কারণ চুক্তি ত্যাগ করার জন্য যথেষ্ট নয়৷ তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে এই চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর করার আহ্বান জানান৷