ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

তৃণমূলের আস্থা অর্জন করে মানুষের সেবা করতে চাই: রুহেল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘ ৫০ বছরের বর্ণিল রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। বার্ধক্য তাঁকে মাঠের রাজনীতিতে এখনও কাবু করতে না পারলেও করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে পরিবারের সিদ্ধান্তে থাকতে হচ্ছে ঘরে।

তাই বলে থেমে থাকেনি অসহায় মানুষের পাশে থাকার কর্মযজ্ঞ। গত ১৫ মে নিষেধ উপেক্ষা করে মিরসরাইয়ে দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর মেজ ছেলে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান রুহেলের সরব উপস্থিতি জানান দিয়েছে, বাবার সঙ্গে মিরসরাই আওয়ামী লীগের হাল ধরেছেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ সাত বছর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান রুহেল  বলেন, তরুণ বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে কাজ করে আসছেন আমার বাবা। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে পুনরায় পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত শুরু হলে বাবা (ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ) বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চরম প্রতিকূল অবস্থায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দলের চরম দুর্দিনে কাজ করতে গিয়ে তিনি দুবার স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হামলার শিকার হন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর সামনে প্রলোভনের হাতছানিও ছিল। কিন্তু লোভ-লালসা কিংবা চাপ কোনো কিছুই তাঁকে বশীভূত করতে পারেনি। এরকম নিষ্ঠাবান একজন রাজনীতিক হিসেবে তিনি নিজের সমগ্র জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে ছিলেন উৎসর্গীকৃত মানুষ।

রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মাহবুবুর রহমান রুহেল বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে বাংলাদেশকে সমগ্র পৃথিবীতে ব্র্যান্ডিং করার জন্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। যেহেতু পারিবারিকভাবে রাজনীতির রক্ত আমার শরীরে, তাই রাজনীতি আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে। প্রথমে আমি আমার গ্রাম এবং ২০১২ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই।

তিনি বলেন, করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাস থেকে বাবার প্রতিনিধি হয়ে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় দরিদ্র মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে প্রত্যন্ত এলাকায় যাচ্ছি। এ পর্যন্ত ১২ হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান রুহেল বলেন, বর্তমানে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বলেছেন-আমাদের কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই এবং হবেও না। তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন চালিয়ে যেতে হবে। উৎপাদন চালিয়ে যেতে কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সরকার প্রধান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হচ্ছে- খাদ্য উৎপাদন চালু রাখতে হবে, অধিক প্রকার ফসল ফলাতে এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা যাবে না। সেই লক্ষ্যে আমি এলাকায় কাজ করছি।

তিনি বলেন, মিরসরাইয়ের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এই দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে সাহায্য-সহযোগীতা করছে। এই করোনাযুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ আমার কাজে সাহস জুগিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

তৃণমূলের আস্থা অর্জন করে মানুষের সেবা করতে চাই: রুহেল

আপডেট সময় ১২:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দীর্ঘ ৫০ বছরের বর্ণিল রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। বার্ধক্য তাঁকে মাঠের রাজনীতিতে এখনও কাবু করতে না পারলেও করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে পরিবারের সিদ্ধান্তে থাকতে হচ্ছে ঘরে।

তাই বলে থেমে থাকেনি অসহায় মানুষের পাশে থাকার কর্মযজ্ঞ। গত ১৫ মে নিষেধ উপেক্ষা করে মিরসরাইয়ে দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর মেজ ছেলে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান রুহেলের সরব উপস্থিতি জানান দিয়েছে, বাবার সঙ্গে মিরসরাই আওয়ামী লীগের হাল ধরেছেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ সাত বছর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান রুহেল  বলেন, তরুণ বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে কাজ করে আসছেন আমার বাবা। স্বাধীনতার পর তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে পুনরায় পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত শুরু হলে বাবা (ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ) বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চরম প্রতিকূল অবস্থায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দলের চরম দুর্দিনে কাজ করতে গিয়ে তিনি দুবার স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হামলার শিকার হন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর সামনে প্রলোভনের হাতছানিও ছিল। কিন্তু লোভ-লালসা কিংবা চাপ কোনো কিছুই তাঁকে বশীভূত করতে পারেনি। এরকম নিষ্ঠাবান একজন রাজনীতিক হিসেবে তিনি নিজের সমগ্র জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে ছিলেন উৎসর্গীকৃত মানুষ।

রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মাহবুবুর রহমান রুহেল বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে বাংলাদেশকে সমগ্র পৃথিবীতে ব্র্যান্ডিং করার জন্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। যেহেতু পারিবারিকভাবে রাজনীতির রক্ত আমার শরীরে, তাই রাজনীতি আমাকে কাছে টেনে নিয়েছে। প্রথমে আমি আমার গ্রাম এবং ২০১২ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই।

তিনি বলেন, করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাস থেকে বাবার প্রতিনিধি হয়ে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় দরিদ্র মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে প্রত্যন্ত এলাকায় যাচ্ছি। এ পর্যন্ত ১২ হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান রুহেল বলেন, বর্তমানে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বলেছেন-আমাদের কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই এবং হবেও না। তবে আমাদের কৃষি উৎপাদন চালিয়ে যেতে হবে। উৎপাদন চালিয়ে যেতে কৃষকদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সরকার প্রধান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হচ্ছে- খাদ্য উৎপাদন চালু রাখতে হবে, অধিক প্রকার ফসল ফলাতে এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা যাবে না। সেই লক্ষ্যে আমি এলাকায় কাজ করছি।

তিনি বলেন, মিরসরাইয়ের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এই দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে সাহায্য-সহযোগীতা করছে। এই করোনাযুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ আমার কাজে সাহস জুগিয়েছে।