ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নতুন করে সুরক্ষিত হয়েছে চব্বিশে: তারেক রহমান গুলশানে একটি ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ ৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের আবারও বিক্ষোভে নামার ডাক রেজা পাহলভির, মেলেনি সাড়া মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় আপনাদের সহযোগিতা চাই : নজরুল ইসলাম

করোনাকালে ঘাপটি মেরে আছে বিত্তশালীরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগ উত্তরণ চেষ্টার সময়টায় দেশের বিত্তশালীদের কোনো ভূমিকা নেই, তাদের কোনো খোঁজ নেই। বিত্তশালী বেশির ভাগই ঘাপটি মেরে রয়েছেন। এমনকি ঘাপটি মেরে আছেন বিত্তশালী মন্ত্রী-এমপিরাও। তাদের বেশির ভাগই মাঠছাড়া। তাদের পাওয়া যাচ্ছে না দরিদ্র, অসহায় মানুষের পাশে। তবে হাতে গোনা কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি এ সংকটের শুরু থেকেই আছেন মানুষের পাশে। নেই বেশির ভাগ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র। রাজধানীতে নবনির্বাচিত মেয়রকে দেখা যায়নি এই দুর্দিনে। ব্যাংক লুটেরা, মালয়েশিয়ায়, কানাডার বেগমপাড়ায় সেকেন্ড হোমের মালিক যারা হয়েছেন তাদেরও দেখা যাচ্ছে না এই দুর্যোগের সময়। এদের পাশাপাশি আবার কিছু কিছু প্রতিমন্ত্রী, এমপি সামান্যসংখ্যক মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে তা আবার ফলাও করে পত্রিকায় তুলে ধরছেন- এ নিয়ে সমালোচনাও করা ‘ধিক’! আওয়াজ দিচ্ছেন।

বিশিষ্টজনেরা বলছেন, এটা খুবই দুঃখজনক। এই দুর্দিনে বিত্তশালী, ধনী, সম্পদশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত। মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তারা বলছেন, বিত্তশালীরা প্রণোদনা নিয়ে ব্যস্ত। তাদের সময় কই দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর! তবে তারা এ কথা বলছেন, কিছু কিছু বিত্তশালী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন গোপনে। তারা প্রচার-প্রচারণার কোনো পরোয়া করেন না। আন্তরিকতার সঙ্গে প্রসারিত করে রেখেছেন সহযোগিতার হাত।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে প্রায় দুই মাস ধরে দেশ বিপর্যস্ত। প্রায় সব জেলায় এ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া লাগাতার সাধারণ ছুটিতে নাকাল খেটে খাওয়া, স্বল্প আয়ের আর দিন আনে খায় এমন মানুষ। সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বারবার সরকারের তরফ থেকে আহ্বান জানানোর পরও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানবকল্যাণে অবদান রাখতে দেখা যাচ্ছে না দেশের বিত্তশালীদের, নামিদামি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অর্থ পাচারকারী হিসেবে খ্যাত বিত্তশালী, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন এমন শিল্পমালিক, ব্যাংক লুটেরাদের। করোনাকালে সবাই যেন ঘাপটি মেরে আছেন। তাদের পক্ষ থেকে নেই কোনো মানবিক উদ্যোগ। এই বিত্তশালী ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের মতো মাঠে নেই দরিদ্র মানুষের বন্ধু হিসেবে গলা ফাটানো রাজনীতিবিদের বেশির ভাগই। সরকারের বেশির ভাগ মন্ত্রী ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের বড় অংশও ঘাপটি মেরে আছেন। কিছু কিছু এলাকায় হাতে গোনা কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মাঠে থেকে দরিদ্র মানুষের সমস্যার কথা শুনে তাদের সহায়তার চেষ্টা করছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি বড় হাসপাতাল বিক্রি হয়েছে মোটা অঙ্কে। ওই হাসপাতালে সরকারের একজন মন্ত্রীরও শেয়ার ছিল। বিত্তশালী সেই মন্ত্রীকেও দরিদ্র মানুষের পাশে দেখা যাচ্ছে না। তার মতো আরও অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন যারা বড় ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী। তাদের কাউকেই মানবিক সাহায্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি গত দেড় মাসেও। আবার কতিপয় প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অনেক বিত্তশালী হলেও তারা যে পরিমাণ সাহায্য দিয়েছেন তা নিয়েও নানা সমালোচনা আছে। অনেকেই বলছেন, এসব প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য দান করেছেন ‘পিঁপড়ে’ আর সংবাদপত্রে প্রচার পাওয়ার জন্য ‘হাতি’ দান করার ভঙ্গিতে ফটোসেশন করছেন। অথচ তারা এক দুই মাস নিজ এলাকার দরিদ্র মানুষের তো বটেই আশপাশ এলাকার মানুষকেও খাবার দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো মাঠে নেই দেশের বেশির ভাগ পৌরসভার মেয়র। রাজধানীতেও নেই নবনির্বাচিত মেয়র। বিরোধী দলের অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সংসদ সদস্যকেও বক্তৃতা-বিবৃতি দেওয়া ছাড়া কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ তাদের অনেকে বিত্তশালী। সাহায্য দেওয়া বা মানুষের পাশে দাঁড়ানো দূরের কথা, এই সংকটের সময় ফোনেও তারা মানুষের কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না।

বিত্তশালী ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক লুটের অভিযোগ রয়েছে, যারা মালয়েশিয়া ও কানাডায় সেকেন্ড হোম করেছেন, কানাডার বেগমপাড়ায় বাড়ি করেছেন তাদের ছায়াও চোখে পড়ে না দেশের এই দুর্যোগের সময়ে। সবাই নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। ঘাপটি মেরে আছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিকালে সবার এগিয়ে আসা উচিত। বিশেষ করে ধনবান ব্যক্তি, শিল্পপতি, সমাজপতিদের এগিয়ে আসা উচিত। দরিদ্র মানুষ ও সরকারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। কিন্তু দু-একটি গ্রুপ অব কোম্পানি বাদে অন্যরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এটা খুবই দুঃখজনক।’

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সমাজের বিত্তশালী, মন্ত্রী ও এমপিরা দুর্যোগে মানুষের পাশে না থাকার বিষয়টি ভালোভাবে দেখছি না। মন্ত্রী-এমপিরা নীতিনির্ধারক, তাদের প্রতি মানুষে প্রত্যাশা বেশি। কিন্তু এখন তারা কোথাও নেই। একদিকে অনাহার, আরেকদিকে অসুস্থতা। এটা অমানবিক। অথচ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আর বিত্তশালীরা এখন সরকারের নগদ প্রণোদনা পাওয়া নিয়ে ব্যস্ত। আবার অনেকে গোপনে সাহায্য করছেন, কিন্তু কাউকে বলতে চান না। দুটো দিকই আছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

করোনাকালে ঘাপটি মেরে আছে বিত্তশালীরা

আপডেট সময় ১০:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগ উত্তরণ চেষ্টার সময়টায় দেশের বিত্তশালীদের কোনো ভূমিকা নেই, তাদের কোনো খোঁজ নেই। বিত্তশালী বেশির ভাগই ঘাপটি মেরে রয়েছেন। এমনকি ঘাপটি মেরে আছেন বিত্তশালী মন্ত্রী-এমপিরাও। তাদের বেশির ভাগই মাঠছাড়া। তাদের পাওয়া যাচ্ছে না দরিদ্র, অসহায় মানুষের পাশে। তবে হাতে গোনা কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি এ সংকটের শুরু থেকেই আছেন মানুষের পাশে। নেই বেশির ভাগ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র। রাজধানীতে নবনির্বাচিত মেয়রকে দেখা যায়নি এই দুর্দিনে। ব্যাংক লুটেরা, মালয়েশিয়ায়, কানাডার বেগমপাড়ায় সেকেন্ড হোমের মালিক যারা হয়েছেন তাদেরও দেখা যাচ্ছে না এই দুর্যোগের সময়। এদের পাশাপাশি আবার কিছু কিছু প্রতিমন্ত্রী, এমপি সামান্যসংখ্যক মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে তা আবার ফলাও করে পত্রিকায় তুলে ধরছেন- এ নিয়ে সমালোচনাও করা ‘ধিক’! আওয়াজ দিচ্ছেন।

বিশিষ্টজনেরা বলছেন, এটা খুবই দুঃখজনক। এই দুর্দিনে বিত্তশালী, ধনী, সম্পদশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসা উচিত। মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তারা বলছেন, বিত্তশালীরা প্রণোদনা নিয়ে ব্যস্ত। তাদের সময় কই দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর! তবে তারা এ কথা বলছেন, কিছু কিছু বিত্তশালী মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন গোপনে। তারা প্রচার-প্রচারণার কোনো পরোয়া করেন না। আন্তরিকতার সঙ্গে প্রসারিত করে রেখেছেন সহযোগিতার হাত।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে প্রায় দুই মাস ধরে দেশ বিপর্যস্ত। প্রায় সব জেলায় এ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া লাগাতার সাধারণ ছুটিতে নাকাল খেটে খাওয়া, স্বল্প আয়ের আর দিন আনে খায় এমন মানুষ। সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বারবার সরকারের তরফ থেকে আহ্বান জানানোর পরও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে মানবকল্যাণে অবদান রাখতে দেখা যাচ্ছে না দেশের বিত্তশালীদের, নামিদামি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অর্থ পাচারকারী হিসেবে খ্যাত বিত্তশালী, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন এমন শিল্পমালিক, ব্যাংক লুটেরাদের। করোনাকালে সবাই যেন ঘাপটি মেরে আছেন। তাদের পক্ষ থেকে নেই কোনো মানবিক উদ্যোগ। এই বিত্তশালী ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের মতো মাঠে নেই দরিদ্র মানুষের বন্ধু হিসেবে গলা ফাটানো রাজনীতিবিদের বেশির ভাগই। সরকারের বেশির ভাগ মন্ত্রী ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের বড় অংশও ঘাপটি মেরে আছেন। কিছু কিছু এলাকায় হাতে গোনা কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মাঠে থেকে দরিদ্র মানুষের সমস্যার কথা শুনে তাদের সহায়তার চেষ্টা করছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি বড় হাসপাতাল বিক্রি হয়েছে মোটা অঙ্কে। ওই হাসপাতালে সরকারের একজন মন্ত্রীরও শেয়ার ছিল। বিত্তশালী সেই মন্ত্রীকেও দরিদ্র মানুষের পাশে দেখা যাচ্ছে না। তার মতো আরও অনেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন যারা বড় ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী। তাদের কাউকেই মানবিক সাহায্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি গত দেড় মাসেও। আবার কতিপয় প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অনেক বিত্তশালী হলেও তারা যে পরিমাণ সাহায্য দিয়েছেন তা নিয়েও নানা সমালোচনা আছে। অনেকেই বলছেন, এসব প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য দান করেছেন ‘পিঁপড়ে’ আর সংবাদপত্রে প্রচার পাওয়ার জন্য ‘হাতি’ দান করার ভঙ্গিতে ফটোসেশন করছেন। অথচ তারা এক দুই মাস নিজ এলাকার দরিদ্র মানুষের তো বটেই আশপাশ এলাকার মানুষকেও খাবার দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মতো মাঠে নেই দেশের বেশির ভাগ পৌরসভার মেয়র। রাজধানীতেও নেই নবনির্বাচিত মেয়র। বিরোধী দলের অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সংসদ সদস্যকেও বক্তৃতা-বিবৃতি দেওয়া ছাড়া কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ তাদের অনেকে বিত্তশালী। সাহায্য দেওয়া বা মানুষের পাশে দাঁড়ানো দূরের কথা, এই সংকটের সময় ফোনেও তারা মানুষের কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না।

বিত্তশালী ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক লুটের অভিযোগ রয়েছে, যারা মালয়েশিয়া ও কানাডায় সেকেন্ড হোম করেছেন, কানাডার বেগমপাড়ায় বাড়ি করেছেন তাদের ছায়াও চোখে পড়ে না দেশের এই দুর্যোগের সময়ে। সবাই নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। ঘাপটি মেরে আছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিকালে সবার এগিয়ে আসা উচিত। বিশেষ করে ধনবান ব্যক্তি, শিল্পপতি, সমাজপতিদের এগিয়ে আসা উচিত। দরিদ্র মানুষ ও সরকারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। কিন্তু দু-একটি গ্রুপ অব কোম্পানি বাদে অন্যরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এটা খুবই দুঃখজনক।’

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সমাজের বিত্তশালী, মন্ত্রী ও এমপিরা দুর্যোগে মানুষের পাশে না থাকার বিষয়টি ভালোভাবে দেখছি না। মন্ত্রী-এমপিরা নীতিনির্ধারক, তাদের প্রতি মানুষে প্রত্যাশা বেশি। কিন্তু এখন তারা কোথাও নেই। একদিকে অনাহার, আরেকদিকে অসুস্থতা। এটা অমানবিক। অথচ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আর বিত্তশালীরা এখন সরকারের নগদ প্রণোদনা পাওয়া নিয়ে ব্যস্ত। আবার অনেকে গোপনে সাহায্য করছেন, কিন্তু কাউকে বলতে চান না। দুটো দিকই আছে।’