আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপটি গত শনিবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ‘ফণী’ নামের এই ঘূর্ণিঝড় তিন দিন ধরে বেশ মন্থর গতিতে উত্তর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গতি মন্থর হলেও বঙ্গোপসাগরে বেশ শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ফণী।
ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘণ্টায় ১৬ কিলোমিটার গতিতে ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে থাকা এ ঘূর্ণিঝড় আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল ফণী।
আর ভারতের আবহাওয়া অফিসের হিসাবে সকাল ৬টায় ফনীর অবস্থান ছিল শ্রীলঙ্কার ত্রিঙ্কোমালি থেকে ৬৭০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে, তামিল নাড়ুর চেন্নাই থেকে ৬৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে এবং অন্ধ্রের মাচিলিপত্তম থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে।
ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
ভারতীয় আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস ঠিক হলে মঙ্গলবার সারাদিনে এ ঝড়ের শক্তি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে। বুধবার বিকালের দিকে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসতে পারে বলে মনে হচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে রূপ নিয়েছে এটি। কিন্তু বাংলাদেশ উপকূলে আগামী ৩ মে রাতে অথবা ৪ মে দুপুরের দিকে আঘাত হানতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় রূপে এ দেশে আঘাত করলেও ফণী কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















