ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: তারেক রহমান একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হবে না : আবুল কালাম শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প আত্মসাৎ: ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বার্তা দিল জাতিসংঘ বিশ্বকাপ খেলতে চায় বাংলাদেশও, বন্ধ হয়নি সব দরজা : বুলবুল নিউজিল্যান্ডে ভয়াবহ ভূমিধস, বহু মানুষ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান জোরদার ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিল জার্মানি তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি জনসভা, সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসমুদ্র ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী এখনো ওত পেতে আছে : উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

অর্থনৈতিক মুক্তির অবদানে নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েলের জাতীয় সমবায় পুরস্কার অর্জন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের উন্নয়কে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সমবায় একটি পরীক্ষিত কৌশল। দেশের অর্থনৈতিক মুক্তিতে সমবায়ের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করে সামাজিক নানা পরিবর্তন আনা সম্ভব, প্রতিনিয়তই এর প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে কিংশুক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এর স্বীকৃতি সরুপ সমিতির কর্নধার জনাব নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল বহুমূখী সমবায় শ্রেনীতে জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৭ স্বর্ণপদক লাভ করেন।

জনাব নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল, একজন সফল সমবায়ী। তার যোগ্য নেতৃত্বে কিংশুক সমবায় বাজার, প্রথমা বিক্রয় ও বিপণন কেন্দ্র, কিংশুক আবাসন প্রকল্প, কিংশুক সি . এন . জি ফিলিং ষ্টেশন, কিংশুক প্লাজা, কিংশুক ইকোটুরিজম, কিংশুক ইলেকট্রো প্রোডাক্ট, কিংশুক পার্টিসিপেটরী হাই স্কুল এন্ড কলেজ, কিংশুক গ্রিন হাউজ নার্সারী প্রভৃতি প্রকল্প সফল ভাবে চলমান রয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান, দুঃস্থদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান প্রভৃতি সামাজিক কাজে তাঁর অবদান রয়েছে। সমিতির সার্বিক উন্নয়নে তাঁর অবদান বিবেচনা করে বহুমূখী সমবায় শ্রেনীতে জনাব নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েলকে জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৭ প্রদান করা হয়।

সমাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, জার্মানি, ফান্স, স্পেন, ইটালি, সুইজারল্যান্ড, ভরত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, দক্ষিন কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, চীন, হংকং, ভিয়েতনাম সহ প্রভৃতি দেশে সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে যোগদান করেন।

কম্পিউটার বিষয়ে তিনি জাপান ও যুক্তরাজ্য থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৮৭ সালের শুরুর দিকে সকলে ‘মিলে মিশে চলবো’এমনি একটি ধারণা থেকে নামকরণ করা হয়েছিল ‘মিশুক সমবায় সমিতি’। সে সময় ১১টি দলের ১২১ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা সমিতিটি বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট ডোবা-নালা পরিষ্কার করে মৎস্য চাষ, পতিত জমিতে শাকসবজির আবাদ করার মতো কিছু কার্যক্রম করে প্রথম তিন বছর। যদিও পরে এই নাম পরিবর্তন করে ‘কিংশুক বহুমুখী সমবায় সমিতি’ নাম দেওয়া হয়। সমিতির একজন উদ্যোক্তা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামানুসারে ‘কিংশুক-আতাউল হক স্মৃতি পাঠাগার’ তৈরি করা হয়। বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরনো বই সংগ্রহ করে এই পাঠাগারটির কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় পাঠাগারকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়ে থাকে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম।

সমিতির কর্মকর্তারা জানান, একসময় বিদেশ যাওয়া নিয়ে অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হতে শুরু করল, তখন সমিতিটি তাদের প্রথম বাণিজ্যিক কার্যক্রমে হাত দেয়। ‘বিদেশ নয় স্বদেশ’ স্লোগানে শুরু করে কিংশুক সমবায় সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত মূলধন কাজে লাগিয়ে একটি অটোরিকশা প্রকল্প শুরু হয়। ‘প্রচেষ্টা’ নামে প্রায় ২০০টি অটোরিকশা এবং ‘উদ্যোগ’নামে ৮০টি অটোটেম্পু বিতরণ করা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয় কিংশুক অটো ওয়ার্কশপ। ‘আয় থেকে দায় শোধ’ এ নীতির ভিত্তিতে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করে সবাই অটোরিকশার মালিকানাপ্রাপ্ত হয়েছে। যদিও সরকারি নীতিমালায় টু-স্ট্রোক ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করার ফলে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এতে থেমে না গিয়ে বড় পরিসরে পরিবহন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে ‘কিংশুক সমবায় পরিবহন প্রকল্প’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যেখানে পরীক্ষামূলকভাবে আন্তঃজেলা রুটে (ঢাকা-ময়মনসিংহ) দুটি বাস নামানো হয়। এ প্রকল্পটিও টিকতে পারেনি।

সমিতির সম্পাদক নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল বলেন, ‘গতানুগতিক সমবায় সমিতির মতোই সঞ্চয় এবং ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমেই আমাদের শুরু। তবে আমরা এর মধ্যে থাকতে চাইনি। গদবাঁধা ধারণা থেকে বের হতেও চেয়েছি।’

জানা গেছে, এর পর থেকে নেওয়া প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করে আর পেছনে তাকাতে হয়নি এই সমবায় সমিতিকে। দেখতে থাকে একে একে সাফল্যের মুখ। সত্যিকারভাবে লাভবান হতে থাকে সমিতির সদস্যরা। ‘কিংশুক সমবায় সঞ্চয় প্রকল্প’ দিয়ে মূলধন সংগ্রহ করে শুরু করা হয় ‘কিংশুক সমবায় বিকাশ বিক্রয় ও বিপণন কেন্দ্র’। বাজারব্যবস্থায় মুনাফালোভী মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে উৎপাদক ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রকল্পটির মধ্য দিয়ে শুরু করা হয় বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রম। এ লক্ষ্যেই কিংশুকের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর বাজারজাতকরণ, বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রম শুরু হয়। তাতে ‘কিংশুক শুধু মূলধন সংগ্রহ ও ঋণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কর্মসংস্থানমূলক বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের একটি নতুন ধারণা তৈরি করে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সদস্য ভর্তি ও প্রকল্পের কেন্দ্রের বিস্তিৃত ঘটিয়ে দেশব্যাপী বৃহত্তর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়। তবে এ বিপণন প্রকল্পটিকেই সমিতির মাদার প্রজেক্ট বলা হয়।

কিংশুকের দায়িত্বশীলরা জানান, দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয় কিংশুকের আবাসন প্রকল্প। ছোট ছোট সঞ্চয়ের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষদের আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব এ ধারণা থেকে ১৯৯২ সালে ‘কিংশুক আবাসন’ প্রকল্প শুরু। বর্তমানে ‘কিংশুক আবাসন প্রকল্প’ বাণিজ্যিকভাবে সফল কর্মসূচি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৪ সিএনজি ফিলিং স্টেশন, কিংশুক পার্টিসিপেটরি হাই স্কুল এন্ড কলেজ, সেন্ট মার্টিনে কিংশুক ইকো ট্যুরিজম, কিংশুক সমবায় বাজার, বুটিক শপ প্রথমাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

সমবায়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিও মিলেছে। কিংশুক ১৯৯৫ সালে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। সমিতির সার্বিক উন্নয়নে অবদান বিবেচনা করে (বহুমূখী সমবায় শ্রেনীতে) জনাব নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৭ (স্বর্ণপদক) লাভ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল

অর্থনৈতিক মুক্তির অবদানে নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েলের জাতীয় সমবায় পুরস্কার অর্জন

আপডেট সময় ০১:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের উন্নয়কে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সমবায় একটি পরীক্ষিত কৌশল। দেশের অর্থনৈতিক মুক্তিতে সমবায়ের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করে সামাজিক নানা পরিবর্তন আনা সম্ভব, প্রতিনিয়তই এর প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে কিংশুক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। এর স্বীকৃতি সরুপ সমিতির কর্নধার জনাব নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল বহুমূখী সমবায় শ্রেনীতে জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৭ স্বর্ণপদক লাভ করেন।

জনাব নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল, একজন সফল সমবায়ী। তার যোগ্য নেতৃত্বে কিংশুক সমবায় বাজার, প্রথমা বিক্রয় ও বিপণন কেন্দ্র, কিংশুক আবাসন প্রকল্প, কিংশুক সি . এন . জি ফিলিং ষ্টেশন, কিংশুক প্লাজা, কিংশুক ইকোটুরিজম, কিংশুক ইলেকট্রো প্রোডাক্ট, কিংশুক পার্টিসিপেটরী হাই স্কুল এন্ড কলেজ, কিংশুক গ্রিন হাউজ নার্সারী প্রভৃতি প্রকল্প সফল ভাবে চলমান রয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান, দুঃস্থদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান প্রভৃতি সামাজিক কাজে তাঁর অবদান রয়েছে। সমিতির সার্বিক উন্নয়নে তাঁর অবদান বিবেচনা করে বহুমূখী সমবায় শ্রেনীতে জনাব নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েলকে জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৭ প্রদান করা হয়।

সমাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, জার্মানি, ফান্স, স্পেন, ইটালি, সুইজারল্যান্ড, ভরত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, দক্ষিন কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, চীন, হংকং, ভিয়েতনাম সহ প্রভৃতি দেশে সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে যোগদান করেন।

কম্পিউটার বিষয়ে তিনি জাপান ও যুক্তরাজ্য থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৮৭ সালের শুরুর দিকে সকলে ‘মিলে মিশে চলবো’এমনি একটি ধারণা থেকে নামকরণ করা হয়েছিল ‘মিশুক সমবায় সমিতি’। সে সময় ১১টি দলের ১২১ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা সমিতিটি বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট ডোবা-নালা পরিষ্কার করে মৎস্য চাষ, পতিত জমিতে শাকসবজির আবাদ করার মতো কিছু কার্যক্রম করে প্রথম তিন বছর। যদিও পরে এই নাম পরিবর্তন করে ‘কিংশুক বহুমুখী সমবায় সমিতি’ নাম দেওয়া হয়। সমিতির একজন উদ্যোক্তা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামানুসারে ‘কিংশুক-আতাউল হক স্মৃতি পাঠাগার’ তৈরি করা হয়। বিভিন্ন এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরনো বই সংগ্রহ করে এই পাঠাগারটির কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় পাঠাগারকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়ে থাকে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম।

সমিতির কর্মকর্তারা জানান, একসময় বিদেশ যাওয়া নিয়ে অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হতে শুরু করল, তখন সমিতিটি তাদের প্রথম বাণিজ্যিক কার্যক্রমে হাত দেয়। ‘বিদেশ নয় স্বদেশ’ স্লোগানে শুরু করে কিংশুক সমবায় সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত মূলধন কাজে লাগিয়ে একটি অটোরিকশা প্রকল্প শুরু হয়। ‘প্রচেষ্টা’ নামে প্রায় ২০০টি অটোরিকশা এবং ‘উদ্যোগ’নামে ৮০টি অটোটেম্পু বিতরণ করা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয় কিংশুক অটো ওয়ার্কশপ। ‘আয় থেকে দায় শোধ’ এ নীতির ভিত্তিতে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করে সবাই অটোরিকশার মালিকানাপ্রাপ্ত হয়েছে। যদিও সরকারি নীতিমালায় টু-স্ট্রোক ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করার ফলে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এতে থেমে না গিয়ে বড় পরিসরে পরিবহন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে ‘কিংশুক সমবায় পরিবহন প্রকল্প’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যেখানে পরীক্ষামূলকভাবে আন্তঃজেলা রুটে (ঢাকা-ময়মনসিংহ) দুটি বাস নামানো হয়। এ প্রকল্পটিও টিকতে পারেনি।

সমিতির সম্পাদক নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল বলেন, ‘গতানুগতিক সমবায় সমিতির মতোই সঞ্চয় এবং ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমেই আমাদের শুরু। তবে আমরা এর মধ্যে থাকতে চাইনি। গদবাঁধা ধারণা থেকে বের হতেও চেয়েছি।’

জানা গেছে, এর পর থেকে নেওয়া প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করে আর পেছনে তাকাতে হয়নি এই সমবায় সমিতিকে। দেখতে থাকে একে একে সাফল্যের মুখ। সত্যিকারভাবে লাভবান হতে থাকে সমিতির সদস্যরা। ‘কিংশুক সমবায় সঞ্চয় প্রকল্প’ দিয়ে মূলধন সংগ্রহ করে শুরু করা হয় ‘কিংশুক সমবায় বিকাশ বিক্রয় ও বিপণন কেন্দ্র’। বাজারব্যবস্থায় মুনাফালোভী মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ থেকে উৎপাদক ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে প্রকল্পটির মধ্য দিয়ে শুরু করা হয় বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রম। এ লক্ষ্যেই কিংশুকের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর বাজারজাতকরণ, বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রম শুরু হয়। তাতে ‘কিংশুক শুধু মূলধন সংগ্রহ ও ঋণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কর্মসংস্থানমূলক বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের একটি নতুন ধারণা তৈরি করে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সদস্য ভর্তি ও প্রকল্পের কেন্দ্রের বিস্তিৃত ঘটিয়ে দেশব্যাপী বৃহত্তর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়। তবে এ বিপণন প্রকল্পটিকেই সমিতির মাদার প্রজেক্ট বলা হয়।

কিংশুকের দায়িত্বশীলরা জানান, দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয় কিংশুকের আবাসন প্রকল্প। ছোট ছোট সঞ্চয়ের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষদের আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব এ ধারণা থেকে ১৯৯২ সালে ‘কিংশুক আবাসন’ প্রকল্প শুরু। বর্তমানে ‘কিংশুক আবাসন প্রকল্প’ বাণিজ্যিকভাবে সফল কর্মসূচি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৪ সিএনজি ফিলিং স্টেশন, কিংশুক পার্টিসিপেটরি হাই স্কুল এন্ড কলেজ, সেন্ট মার্টিনে কিংশুক ইকো ট্যুরিজম, কিংশুক সমবায় বাজার, বুটিক শপ প্রথমাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

সমবায়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিও মিলেছে। কিংশুক ১৯৯৫ সালে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। সমিতির সার্বিক উন্নয়নে অবদান বিবেচনা করে (বহুমূখী সমবায় শ্রেনীতে) জনাব নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৭ (স্বর্ণপদক) লাভ করেন।