অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানো ও বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের র্যাবের পরিচয় দিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। গাড়িতে উঠিয়ে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর ভুক্তভোগীকে চোখ বেধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে সবকিছু কেড়ে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
এমন ১৩/১৪টি প্রতারক গ্রুপ রয়েছে রাজধানীতে। যাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে র্যাব।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।
কাওলা থেকে রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতারক চক্রের গ্রেফতারকৃত নয় সদস্যের বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। তারা র্যাব পরিচয়ে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। সেখানে প্রতারকদের প্রতারণার কৌশলের ভিডিও ফুটেজও দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. কাশেম ওরফে জীবন, মো. ইব্রাহিম খলিল, মো. জাকির হোসেন সুমন, মো. বিল্লাল হোসেন ওরফে আসলাম, আবদুল মান্নান, আবদুল মান্নান, মো. সোহাগ এবং মো. আরিফ। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, দুই রাউন্ড গুলি, দুইটি হ্যান্ডকাপ, দুইটি র্যাবের জ্যাকেট, একটি ওয়াকিটকি, একটি র্যাবের বোর্ড, দুইটি সিগনাল লাইট, ছয়টি বড় লাঠি, দড়ি, চারটি চোখ বাধার কাপড়, ২৮ হাজার টাকা এবং একটি কালো গ্লাসের র্যাবের স্টিকারযুক্ত মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।
মুফতি মাহমুদ খান বলেন, প্রতারক চক্রের একটি গ্রুপে ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য থাকে। বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদেরও অপহরণ করে তারা। কারণ, নগদ টাকা না পেলেও বিদেশ থেকে আনা বড় বড় লাগেজ পাওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে এই প্রতারক চক্রটি রাস্তায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে প্রতারণা করে।
র্যাবের এই পরিচালক বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, তারা এর আগে ১৩টি স্থানে ১৩টির মত অপরাধ করে ৩০ লাখ টাকার মত আয় করেছে। আরেকটি বড় অপরাধ সংঘটিত করার আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘এই প্রতারক চক্রের ১০ থেকে ১৫ জনের গ্রুপ রয়েছে। ব্যাংকের মধ্যে তাদের সদস্য অবস্থান করে। ব্যাংক থেকে টাকা ওঠানোর সময়েই ভিকটিমকে লক্ষ্যবস্তু করে। বাইরে যে গ্রুপ থাকে, তারা র্যাবের পরিচয় দিয়ে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে ওই ভিকটিমকে বলা হয়, আপনার নামে মামলা রয়েছে। আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পরে কালো কাপড়ে মুখ বেধে ফেলা হয়।’
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আরেকটি গ্রুপ লক্ষ্য রাখে যে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফলো করছে কিনা। পরে অপহৃতের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয়। এছাড়াও তারা রাস্তায় তল্লাশি চৌকি বসিয়েও বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের অপহরণ করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। ’
‘তাদের বিরুদ্ধে কিছু গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডেও জড়িত কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি এলপিআরে যাই। ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা আমাকে মাইক্রোবাসে তুলে টাকা ছিনিয়ে নেয়। অনুরোধ করলেও তারা আমার সেনাবাহিনীর কার্ডটিও ফেরত দেয়নি। পরে আমাকে মারধোর করে নির্জন স্থানে ফেলে দেয়। ’
আরেক ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন বলেন, ‘গত ২৮ অক্টোবর প্রিমিয়ার ব্যাংকের টঙ্গীর মধুমিতা রোড শাখা থেকে তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলি, পকেটে ছিল আরও ৪০ হাজার টাকা। মোট চার লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময়ে আমাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায় অপহরণকারীরা। তারা আমাকে বলেছিল, তোর নামে ১০ থেকে ১৫টি মামলা রয়েছে। তখনই আমার সন্দেহ হয়। আমি চিৎকার করে বলি, এরা প্রকৃত র্যাব নয় আর আমার নামে কোনো মামলা নেই। আমাকে বাঁচান, কিন্তু কেউই আমার কথা শোনেনি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















