ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

টেকসই অর্থনীতির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে হবে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টেকসই অর্থনীতি এবং ২০৪১ সালের লক্ষ্য অর্জনে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ নজর দেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেটি কতটুকু টেকসই হচ্ছে। কেননা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে।

এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে এখন থেকেই দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসা প্রয়োজন।

সেই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, সমন্বয়ের অভাব, নজরদারির অভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা,খাদ্য নিরাপত্তা, সুশাসন নিশ্চিত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী ভাঙন প্রতিরোধ, দারিদ্র্য নিরসন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনসহ (পিকেএসএফ) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজন অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে এই তাগিদ দেয়া হয়।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘পাথওয়ে টু এ সাসটেইনেবল ইকোনমি : ভিশন ২০৪১ এজেন্ডা ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ সম্মেলনে শেষ দিনে চারটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

এগুলো হচ্ছে, ন্যাচারাল হ্যাজার্ড অ্যান্ড বিজনেস, পভার্টি অ্যান্ড নিউট্রিশন, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এবং প্রযুক্তি সম্পর্কিত সমাপনী অধিবেশন।

সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হল, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় নারী, শিশু, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং জনসংখ্যার অন্যান্য দুর্বল অংশের প্রয়োজনগুলোতে নজর দিতে হবে। এছাড়া জাতীয় ঐক্যেও ভিত্তিতে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা। গবেষণার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে পেশাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করা।

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) একক কোনো বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে টেকসই উন্নয়নে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এছাড়া দক্ষ জনবল, দুর্নীতি ও অন্যান্য চালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এই প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী উন্নত দেশগুলোকে আরও জোরদারভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের সমন্বয় ঠিক থাকলে প্রবৃদ্ধি অনেক বাড়ত এবং দারিদ্র্য অনেক কমত।

একেএম এ হামিদ বলেন, প্রচলতি শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ২০৪১ সালের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। শিল্প বিপ্লব এখন দরজায় কড়া নাড়ছে। সারা বিশ্ব প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি ভারতও প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেটি যদি টেকসই না হয় তাহলে ভবিষ্যতে বিপর্যয় ডেকে আনবে।

প্রফেসর বিভূতি রায় বলেন, বিজ্ঞান প্রযুক্তিকে সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সবার হাতেই আজ মোবাইল ফোন রয়েছে। এ সময় বড় অর্জন হচ্ছে ফেসবুক এবং ইউটিউবের সহজলভ্যতা। প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, এর বিকল্প নেই।

ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দক্ষতা উন্নয়ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে হার্ড ও সফট দুই ধরনের দক্ষতাই নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার শুরু হয় দুদিনের এ সস্মেলন। যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে পিকেএসএফ, ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিত ইউনিভার্সিটি, ইউকের ইউনিভার্সিটি অব বার্থ এবং জার্মানির ব্রেমেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

টেকসই অর্থনীতির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে হবে

আপডেট সময় ১০:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টেকসই অর্থনীতি এবং ২০৪১ সালের লক্ষ্য অর্জনে মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ নজর দেয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেটি কতটুকু টেকসই হচ্ছে। কেননা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে।

এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে এখন থেকেই দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসা প্রয়োজন।

সেই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, সমন্বয়ের অভাব, নজরদারির অভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা,খাদ্য নিরাপত্তা, সুশাসন নিশ্চিত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী ভাঙন প্রতিরোধ, দারিদ্র্য নিরসন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনসহ (পিকেএসএফ) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজন অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে এই তাগিদ দেয়া হয়।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘পাথওয়ে টু এ সাসটেইনেবল ইকোনমি : ভিশন ২০৪১ এজেন্ডা ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ সম্মেলনে শেষ দিনে চারটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

এগুলো হচ্ছে, ন্যাচারাল হ্যাজার্ড অ্যান্ড বিজনেস, পভার্টি অ্যান্ড নিউট্রিশন, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এবং প্রযুক্তি সম্পর্কিত সমাপনী অধিবেশন।

সম্মেলনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হল, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় নারী, শিশু, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং জনসংখ্যার অন্যান্য দুর্বল অংশের প্রয়োজনগুলোতে নজর দিতে হবে। এছাড়া জাতীয় ঐক্যেও ভিত্তিতে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা। গবেষণার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে পেশাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করা।

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) একক কোনো বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে টেকসই উন্নয়নে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এছাড়া দক্ষ জনবল, দুর্নীতি ও অন্যান্য চালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এই প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী উন্নত দেশগুলোকে আরও জোরদারভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে গবেষণা বাড়াতে হবে। আমাদের সমন্বয় ঠিক থাকলে প্রবৃদ্ধি অনেক বাড়ত এবং দারিদ্র্য অনেক কমত।

একেএম এ হামিদ বলেন, প্রচলতি শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ২০৪১ সালের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। শিল্প বিপ্লব এখন দরজায় কড়া নাড়ছে। সারা বিশ্ব প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি ভারতও প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেটি যদি টেকসই না হয় তাহলে ভবিষ্যতে বিপর্যয় ডেকে আনবে।

প্রফেসর বিভূতি রায় বলেন, বিজ্ঞান প্রযুক্তিকে সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সবার হাতেই আজ মোবাইল ফোন রয়েছে। এ সময় বড় অর্জন হচ্ছে ফেসবুক এবং ইউটিউবের সহজলভ্যতা। প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, এর বিকল্প নেই।

ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দক্ষতা উন্নয়ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে হার্ড ও সফট দুই ধরনের দক্ষতাই নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার শুরু হয় দুদিনের এ সস্মেলন। যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে পিকেএসএফ, ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিত ইউনিভার্সিটি, ইউকের ইউনিভার্সিটি অব বার্থ এবং জার্মানির ব্রেমেন।