ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি দর হারিয়েছে ১৭%

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারতের মুদ্রা রুপির দরপতন চলছেই। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ডলারের বিপরীতে রুপির প্রায় ১৭ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

সোমবার প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি। দেশটির ইতিহাসে এটিই রুপির সবচেয়ে নাজুক অবস্থা। খবর এনডিটিভি ও ইকোনমিক টাইমস।

শনিবারও ডলারের মূল্য ৭৪ রুপি ছুঁয়েছিল। তবে সেদিন লেনদেনের শেষভাগে রুপির মূল্য কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। কিন্তু সোমবার প্রথমবারের মতো লেনদেন শুরু হয় ৭৪ রুপির ওপরে। এদিন ডলারের সমাপনী মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি ৬ পয়সা।

টানা দরপতনে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখন হুমকির মুখে। রুপির আরও দরপতন হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটির পুঁজিবাজার থেকে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

শেয়ার বিক্রির চাপে প্রায় প্রতিদিনই দেশটির শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হচ্ছে। গত সপ্তাহে দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে, যদিও সোমবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সেটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা।

এদিকে রুপির দরপতন ঠেকাতে ভারত সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ভারতীয় কোম্পানির ইস্যু করা বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকে সহজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে কিছু বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে, যাতে সেগুলোর আমদানি কমে।

জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে ডলারের বিপরীতে মূল্য হারাচ্ছে ভারতীয় রুপি। বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ ভারতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়, যার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় দেশটিকে।

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশটির আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমাতে হয়েছে ভারতকে। ইরানের তেল আমদানিতে দুই ধরনের সুবিধা পেত দেশটি।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার ইরান আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে ভারতের কাছে তেল বিক্রি করত। এছাড়া তেল আমদানি মূল্যের একটি অংশ ডলারের পরিবর্তে রুপিতে পরিশোধ করতে পারত দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমানোর জন্য ঘাটতি মেটাতে হয় অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করে। তাতে গুনতে হয় বাড়তি মূল্য, আবার দামও শোধ করতে হয় ডলারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি দর হারিয়েছে ১৭%

আপডেট সময় ০৬:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারতের মুদ্রা রুপির দরপতন চলছেই। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ডলারের বিপরীতে রুপির প্রায় ১৭ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

সোমবার প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি। দেশটির ইতিহাসে এটিই রুপির সবচেয়ে নাজুক অবস্থা। খবর এনডিটিভি ও ইকোনমিক টাইমস।

শনিবারও ডলারের মূল্য ৭৪ রুপি ছুঁয়েছিল। তবে সেদিন লেনদেনের শেষভাগে রুপির মূল্য কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। কিন্তু সোমবার প্রথমবারের মতো লেনদেন শুরু হয় ৭৪ রুপির ওপরে। এদিন ডলারের সমাপনী মূল্য দাঁড়ায় ৭৪ রুপি ৬ পয়সা।

টানা দরপতনে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখন হুমকির মুখে। রুপির আরও দরপতন হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটির পুঁজিবাজার থেকে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

শেয়ার বিক্রির চাপে প্রায় প্রতিদিনই দেশটির শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হচ্ছে। গত সপ্তাহে দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে, যদিও সোমবার বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে সেটি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা।

এদিকে রুপির দরপতন ঠেকাতে ভারত সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ভারতীয় কোম্পানির ইস্যু করা বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকে সহজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে কিছু বিলাসী পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে, যাতে সেগুলোর আমদানি কমে।

জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে ডলারের বিপরীতে মূল্য হারাচ্ছে ভারতীয় রুপি। বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ ভারতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়, যার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় দেশটিকে।

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশটির আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমাতে হয়েছে ভারতকে। ইরানের তেল আমদানিতে দুই ধরনের সুবিধা পেত দেশটি।

প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার ইরান আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে ভারতের কাছে তেল বিক্রি করত। এছাড়া তেল আমদানি মূল্যের একটি অংশ ডলারের পরিবর্তে রুপিতে পরিশোধ করতে পারত দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমানোর জন্য ঘাটতি মেটাতে হয় অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করে। তাতে গুনতে হয় বাড়তি মূল্য, আবার দামও শোধ করতে হয় ডলারে।