ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জোড়া খুন: এমপিপুত্র রনির রায় দ্বিতীয় দফা পেছাল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা দ্বিতীয় দফা পিছিয়েছে।

বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনে রায় ঘোষণা পিছিয়ে আগামী ১৭ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল ঈমামের সাক্ষ্য গ্রহণের এ দিন ধার্য করেছেন।

রায় পেছানোর বিষয়ে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ মাকসুদ জানান, এই মামলায় আসামি বখতিয়ার আলম রনির মোবাইল কললিষ্ট জব্দ করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্যও দিয়েছেন। তবে কললিস্টের ডকুমেন্টটি ভুলক্রমে এক্সিভিট করা হয়নি। তাই আমরা তদন্ত কর্মকর্তাকে রি-কল করে কললিস্ট এক্সিভিটপূর্বক রায়ের দিন ধার্যের আবেদন করেছিলাম। আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ১৭ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তাকে ওই সংক্রান্ত সাক্ষ্য দিতে রি-কল করেছেন।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

এর আগেও গত ৮ মে মামলাটিতে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে রায় ঘোষণার তারিখ বাতিল করে পুনরায় যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

পরে ওই আদালতের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের বদলি মিস মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে।

মামলাটির বিচারকালে আদালত ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর আসামি রনি আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

২০১৬ সালের ৬ মার্চ মামলাটিতে এ আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আদালত চার্জগঠন করেন।

মামলাটিতে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ডিবি পুলিশ রণির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলাটিতে বখতিয়ার আলম রনিকে তিন দফা দশ দিনের রিমান্ড শেষে ২০১৫ সালের ২ জুলাই আদালতে তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি কালো রঙের প্রাডো গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে তাতে অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।

ওই ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে রমনা থানায় ওই বছর ১৫ এপ্রিল একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ৩০ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বখতিয়ার আলম রনিকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জোড়া খুন: এমপিপুত্র রনির রায় দ্বিতীয় দফা পেছাল

আপডেট সময় ০৪:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা দ্বিতীয় দফা পিছিয়েছে।

বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনে রায় ঘোষণা পিছিয়ে আগামী ১৭ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল ঈমামের সাক্ষ্য গ্রহণের এ দিন ধার্য করেছেন।

রায় পেছানোর বিষয়ে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ মাকসুদ জানান, এই মামলায় আসামি বখতিয়ার আলম রনির মোবাইল কললিষ্ট জব্দ করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্যও দিয়েছেন। তবে কললিস্টের ডকুমেন্টটি ভুলক্রমে এক্সিভিট করা হয়নি। তাই আমরা তদন্ত কর্মকর্তাকে রি-কল করে কললিস্ট এক্সিভিটপূর্বক রায়ের দিন ধার্যের আবেদন করেছিলাম। আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ১৭ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তাকে ওই সংক্রান্ত সাক্ষ্য দিতে রি-কল করেছেন।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

এর আগেও গত ৮ মে মামলাটিতে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে রায় ঘোষণার তারিখ বাতিল করে পুনরায় যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

পরে ওই আদালতের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের বদলি মিস মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে।

মামলাটির বিচারকালে আদালত ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর আসামি রনি আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

২০১৬ সালের ৬ মার্চ মামলাটিতে এ আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আদালত চার্জগঠন করেন।

মামলাটিতে ২০১৫ সালের ২১ জুলাই ডিবি পুলিশ রণির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলাটিতে বখতিয়ার আলম রনিকে তিন দফা দশ দিনের রিমান্ড শেষে ২০১৫ সালের ২ জুলাই আদালতে তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি কালো রঙের প্রাডো গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে তাতে অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।

ওই ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে রমনা থানায় ওই বছর ১৫ এপ্রিল একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ৩০ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বখতিয়ার আলম রনিকে আটক করে ডিবি পুলিশ।