অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
পবিত্র আশুরা পালন করা হবে আগামী শুক্রবার। এ উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলে প্রবেশের সময় দা, ছোরা, ঢাকঢোল, কাঁচি, তলোয়ার, বর্শা, বল্লম, তরবারি, প্রেসারকুকার, টিফিন ক্যারিয়ার ও ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মিছিলে আতশবাজি ও পটকা ফাটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিছিলে বাদ্যযন্ত্র, উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো যাবে না। ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার নিশান ব্যবহার করা যাবে না। কারণ ১২ ফুটের বেশি হলে রাস্তায় ইউটিলিটি সার্ভিসের তার নষ্টের আশঙ্কা থাকে।
মিছিলে বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না। মিছিলের শুরু থেকে থাকতে হবে, মাঝখান থেকে কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর লালবাগের হোসনি দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার জানান, আশুরা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই। সব ধরনের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে কয়েক স্তরের নিরাপাত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান বাস্তবতা পর্যালোচনা করে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, সোয়াত, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, ক্রাইম সিনসহ গোয়েন্দা পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তাজিয়া মিছিল ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরো মিছিলের দু’দিকে পুলিশি বেষ্টনী থাকবে। নাশকতা এড়াতেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশুরার মিছিলকে ঘিরে রাস্তায় হকার বা মেলা বসতে পারবে না। পাঞ্জা মেলানোর সময় শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা হয়ে থাকে। সেই শক্তি প্রদর্শন এবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আশুরা ?উপলক্ষে ২১ সেপ্টেম্বর হোসনি দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের হবে। মিছিলগুলো ধানমণ্ডি লেকে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। ডিএমপি কমিশনার বলেন, তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে হোসনি দালান থেকে ধানমণ্ডি লেক পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।
বিবিকা রওজাসহ রাজধানীতে মিছিল যাওয়ার প্রতিটি পথে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। মিছিলের ও হোসনি দালানের স্বেচ্ছাসেবীদের শনাক্ত করতে আলাদা আর্ম ব্যাজ ব্যবহার করতে হবে।
তিনি বলেন, ইমামবাড়া, বড় কাটারাসহ আশুরার অনুষ্ঠান যেসব স্থানে হবে, সেগুলোতে আগে ডগ স্কোয়াড দিয়ে ‘সুইপিং’ করা হবে। প্রতি ইঞ্চি জায়গা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে কেউ দৌড়ে ঢুকতে পারবে না। নিরাপত্তার তল্লাশির মাধ্যমে ঢুকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইমামবাড়ায় মিছিলের আগের রাতে মিলিত হওয়ার সময় অনেকে দৌড়ে প্রবেশ করে। এবার কেউ সেটি পারবেন না। প্রত্যেককে আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
হোসনি দালানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের সময় ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির কৃষ্ণপদ রায়, যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, মফিজ উদ্দিন আহমেদ, উপকমিশনার (সিটি) প্রলয় কুমার জোয়ারদার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১০ মহররম বা আশুরা মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমান, বিশেষ করে শিয়া মুসলমানরা ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে পালন করেন দিনটি।
এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন। সেই থেকে মুসলিম বিশ্বে কারবালার শোকাবহ ঘটনাকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালন করা হয়।
এবার ১২ সেপ্টেম্বর মহররম মাস গণনা শুরু হওয়ায় আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সারা দেশে পবিত্র আশুরা উদযাপিত হবে। আশুরা উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকলেও এবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার আশুরা পালিত হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















