ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার আইনকে সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হবে : তথ্যমন্ত্রী বৈশ্বিক পরিস্থিতি সমন্বয় করে সরকার এলপিজির দাম তাৎক্ষণিক কমিয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মারামারি নয়, খেলাটা উপভোগ করুন’; শান্তির বার্তা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দূতের মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেন, গর্তে পড়লে উদ্ধারের লোক থাকবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী দেশজুড়ে সরকারি উদ্যোগে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ‘সলেমানের সোলার সেচপাম্প’: মির্জা ফখরুল মাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে যায় ছেলে উন্নয়নে বৈষম্য করলে প্রয়োজনে বাঘের গর্জন করা হবে: ডা. শফিকুর বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে গেল স্বজনরা, উদ্ধার করে দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী এক মাসে চার হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা-আগুন শুধু আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না: তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল

মাদ্রাসায় জোড়া খুন: পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের চান্দনা এলাকায় মাদ্রাসার ভেতর স্ত্রী ও ছাত্র হত্যার অভিযোগ পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ওই মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে প্রধান আসামিসহ অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

বাসন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তার হোসেন জানান, নিহত মাহমুদা আক্তারের বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে ইব্রাহিম খলিলকে আসামি করে বুধবার থানায় মামলা করেছেন। এ সময় নিহত ছাত্র মামুনের বাবা শাহিদও উপস্থিত ছিলেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, অন্য লোককে বাবা-মা সাজিয়ে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন ইব্রাহিম খলিল। হেলেনা নামে তার আরেকটি স্ত্রী রয়েছে। বিয়ের সময় ইব্রাহিম খলিল প্রথম বিয়ের কথা গোপন করেন। মাহমুদা বিয়ের কিছুদিন পর ইব্রাহিম খলিলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি টের পান। পরে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাহমুদার পরিবার বিষয়টি মেনে নেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, তার মেয়ে মাহমুদাকে এবং ছাত্র মামুনকে ইব্রাহিম খলিলই খুন করেছেন। খুন করার আগের দিন সোমবার মাগরিবের নামাজের পর ছাত্রদের দিয়ে একটি দা ধার করান তিনি।

রক্তমাখা দা-টি পুলিশ ঘটনাস্থলে মশারির ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে। ইব্রাহিম খলিল ফজরের নামাজের সময় সব ছাত্র নিয়ে মসজিদে যান। কিন্তু ঘটনার দিন ভোরে সব ছাত্র মসজিদে পাঠিয়ে দিয়ে নামাজ শুরুর এক মিনিট আগে মসিজদে যান তিনি। এ সময় তার লুঙ্গিতে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায় এবং পানি দিয়ে রক্ত ধোয়ার চিহ্নও লুঙ্গিতে রয়েছে। প্রতিদিন ভোরে মসজিদে যাওয়ার সময় মাদ্রাসার গেটে তালা দিয়ে যান। ঘটনার দিন তিনি মেইন গেটে তালা না দিয়ে চলে যান।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ভোর ৫টা ১০ মিনিটের মধ্যে ইব্রাহিম খলিল ও অজ্ঞাতনামা তিন-চারজন সহযোগী নিয়ে তার মেয়ে মাহমুদা ও ছাত্র মামুনকে হত্যা করেছে বলে তিনি ধারণা করছেন বাদী।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা পূর্বপাড়া এলাকায় হুফফাজুল কোরআন মাদ্রাসার ভেতরে ওই মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার স্মৃতি (২৫) ও ছাত্র মামুনকে (৭) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ইব্রাহিম খলিলকে ঘটনার দিনই আটক করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সাইবার আইনকে সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

মাদ্রাসায় জোড়া খুন: পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ১২:০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের চান্দনা এলাকায় মাদ্রাসার ভেতর স্ত্রী ও ছাত্র হত্যার অভিযোগ পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ওই মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে প্রধান আসামিসহ অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

বাসন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তার হোসেন জানান, নিহত মাহমুদা আক্তারের বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে ইব্রাহিম খলিলকে আসামি করে বুধবার থানায় মামলা করেছেন। এ সময় নিহত ছাত্র মামুনের বাবা শাহিদও উপস্থিত ছিলেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা পরিচালক ইব্রাহিম খলিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, অন্য লোককে বাবা-মা সাজিয়ে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন ইব্রাহিম খলিল। হেলেনা নামে তার আরেকটি স্ত্রী রয়েছে। বিয়ের সময় ইব্রাহিম খলিল প্রথম বিয়ের কথা গোপন করেন। মাহমুদা বিয়ের কিছুদিন পর ইব্রাহিম খলিলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি টের পান। পরে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাহমুদার পরিবার বিষয়টি মেনে নেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, তার মেয়ে মাহমুদাকে এবং ছাত্র মামুনকে ইব্রাহিম খলিলই খুন করেছেন। খুন করার আগের দিন সোমবার মাগরিবের নামাজের পর ছাত্রদের দিয়ে একটি দা ধার করান তিনি।

রক্তমাখা দা-টি পুলিশ ঘটনাস্থলে মশারির ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে। ইব্রাহিম খলিল ফজরের নামাজের সময় সব ছাত্র নিয়ে মসজিদে যান। কিন্তু ঘটনার দিন ভোরে সব ছাত্র মসজিদে পাঠিয়ে দিয়ে নামাজ শুরুর এক মিনিট আগে মসিজদে যান তিনি। এ সময় তার লুঙ্গিতে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায় এবং পানি দিয়ে রক্ত ধোয়ার চিহ্নও লুঙ্গিতে রয়েছে। প্রতিদিন ভোরে মসজিদে যাওয়ার সময় মাদ্রাসার গেটে তালা দিয়ে যান। ঘটনার দিন তিনি মেইন গেটে তালা না দিয়ে চলে যান।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ভোর ৫টা ১০ মিনিটের মধ্যে ইব্রাহিম খলিল ও অজ্ঞাতনামা তিন-চারজন সহযোগী নিয়ে তার মেয়ে মাহমুদা ও ছাত্র মামুনকে হত্যা করেছে বলে তিনি ধারণা করছেন বাদী।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা পূর্বপাড়া এলাকায় হুফফাজুল কোরআন মাদ্রাসার ভেতরে ওই মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার স্মৃতি (২৫) ও ছাত্র মামুনকে (৭) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ইব্রাহিম খলিলকে ঘটনার দিনই আটক করে।