ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নানা প্রলোভন দেখানো হচ্ছে: চরমোনাই পীর নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার অপতৎপরতা কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নারীবিদ্বেষী রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে : নিপুণ রায় বিমানের এমডি ও তাঁর স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৪ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করছি : আমিনুল হক ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্ত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিকল্প নেই: আলী রীয়াজ রাজধানীর ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার

প্রধান বিচারপতির কাছে তিন যুক্তি তুলে ধরলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি করতে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষায়িত আদালতের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবীরা।

রোববার দুপুরে প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় গিয়ে সাক্ষাত করেন বিএনপির আইনজীবীরা।

আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- খন্দকার মাহবুব হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, মীর নাসির উদ্দীন এবং বদরুদ্দোজা বাদল।

‘বিচারিক সীমা লঙ্ঘনকারীদের’ বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন তারা। যেখানে মূলত তিনটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তিগুলো হলো-

প্রথমত, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো না। তিনি গুরুতর অসুস্থ, তিনি হাঁটতে পারেন না। যা সরকারও স্বীকার করেছে। তবুও সরকার তার যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

দ্বিতীয়ত, পরিত্যক্ত কারাগারে কোনো বিচার কাজ চলতে পারে না। যদি চলে- তা হবে অবৈধ।

তৃতীয়ত, দেশের কারাগারের তালিকা থেকে পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি এখনও বাদ দেয়া হয়নি- সে কারণে সুপ্রিমকোর্টের অনুমতি ছাড়া পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থাপন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত।

লিখিত আবেদনে প্রধান বিচারপতিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, আমরা আপনার কাছে অনুরোধ করছি, যারা বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং যে বিচারিক কর্মকর্তা তার বিচাররিক সীমা লঙ্ঘন করেছে- তাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্ট বাংলদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) ১৯৭৩ বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর মোট খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটি করা হয়েছে। সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসতে পারে।

এদিকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন কারাবন্দি খালেদা জিয়া।

রোববার খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন। সোমবার রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।

উল্লেখ্য, জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি এতদিন চলছিল কারাগারের কয়েকশ গজ দূরে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন কারা অধিদফতরের মাঠে বিশেষ এজলাসে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত ঘোষণা করে সেখানেই দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি করার নির্দেশ দেয়। এরপর বুধবার সেই আদালত বর্জন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

এ কারাগারেই আরেকটি ভবনের দোতলার একটি কক্ষে গত সাত মাস ধরে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুঞ্জনের মাঝেই জন্মদিনে আরশকে ‘ভালোবাসা’ জানালেন সুনেরাহ

প্রধান বিচারপতির কাছে তিন যুক্তি তুলে ধরলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা

আপডেট সময় ০৫:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি করতে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষায়িত আদালতের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবীরা।

রোববার দুপুরে প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় গিয়ে সাক্ষাত করেন বিএনপির আইনজীবীরা।

আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- খন্দকার মাহবুব হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, মীর নাসির উদ্দীন এবং বদরুদ্দোজা বাদল।

‘বিচারিক সীমা লঙ্ঘনকারীদের’ বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন তারা। যেখানে মূলত তিনটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তিগুলো হলো-

প্রথমত, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো না। তিনি গুরুতর অসুস্থ, তিনি হাঁটতে পারেন না। যা সরকারও স্বীকার করেছে। তবুও সরকার তার যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

দ্বিতীয়ত, পরিত্যক্ত কারাগারে কোনো বিচার কাজ চলতে পারে না। যদি চলে- তা হবে অবৈধ।

তৃতীয়ত, দেশের কারাগারের তালিকা থেকে পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি এখনও বাদ দেয়া হয়নি- সে কারণে সুপ্রিমকোর্টের অনুমতি ছাড়া পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থাপন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত।

লিখিত আবেদনে প্রধান বিচারপতিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, আমরা আপনার কাছে অনুরোধ করছি, যারা বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং যে বিচারিক কর্মকর্তা তার বিচাররিক সীমা লঙ্ঘন করেছে- তাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্ট বাংলদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) ১৯৭৩ বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর মোট খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটি করা হয়েছে। সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসতে পারে।

এদিকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন কারাবন্দি খালেদা জিয়া।

রোববার খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন। সোমবার রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।

উল্লেখ্য, জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি এতদিন চলছিল কারাগারের কয়েকশ গজ দূরে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন কারা অধিদফতরের মাঠে বিশেষ এজলাসে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত ঘোষণা করে সেখানেই দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি করার নির্দেশ দেয়। এরপর বুধবার সেই আদালত বর্জন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

এ কারাগারেই আরেকটি ভবনের দোতলার একটি কক্ষে গত সাত মাস ধরে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন।