ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

১০ হাজারের অধিক নেতা-কর্মীকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের কূটনীতিকদের কাছে বাংলাদেশের ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি’ তুলে ধরেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার দেশে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার পাঁয়তারা করছে। বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানের একটি হোটেলে এক গোলটেবিল আলোচনায় বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানায় বিএনপি।

আলোচনায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মানবাধিকার বিষয়ক সচিব মাইক ক্রেমার, ফ্রান্স দূতাবাসের উপ-প্রধান জ্যঁ-পিয়ের পঁশে, ভারতের রাজনৈতিক বিভাগের শান্তনু মুখার্জী ছাড়াও কানাডা, সুইডেন, পাকিস্তান, ইরান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ প্রভৃতি দেশের কুটনীতিকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ‘রাইট টু লাইফ: অ্যা ফার ক্রাই ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ১৫ মিনিটে প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্য সরকার এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই কারণে তারা আজকে কোনো নিয়ম-কানুন, ন্যায়-নীতি, সংবিধান কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে তারা একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চাইছে।’

‘আজকে শুধু এনফোর্সড ডিজএপিয়ারেন্স (গুম) নয়, আমাদের হিসেবে পাঁচশ অধিক নেতৃবৃন্দ হারিয়ে গেছেন, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, আমাদের হিসেবে ১০ হাজারের অধিক নেতা-কর্মীকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

‘কিছুদিন আগে পর্যন্ত সারাদেশে আমাদের নেতৃবৃন্দ বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা করা হয়েছে, ১৮ লক্ষ মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।’

‘আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানাব, বাংলাদেশে এখন কী হচ্ছে তা নোট করুন। আমরা একটি গণতান্ত্রিক জাতি। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, আমরা গণতন্ত্রের বিশ্বাসী করি।’

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে চায়- এমন ইঙ্গিত দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিকে ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’

ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নানা কৌশলে সম্পূর্ণভাবে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে ফলাফলকে নিজের করায়ত্ব করছে। এখন ভোটারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, বিরোধী দলের এজেন্টরা কেন্দ্রে যেতে পারে না।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটে ‘অনিয়ম’ হয়েছে দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’

দলের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে ‘নির্জন কারাগারে’ বন্দীর অভিযোগও বিদেশিদের কাছে তুলে ধরেন ফখরুল। বলেন, ‘তার প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’

বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য রিয়াজ রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সিরাজুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, রুহুল আলম চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, জয়নুল আবেদীন, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল কাইয়ুম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমা মুন্নী, রুমিন ফারাহানা, মীর হেলালউদ্দিন, সারোয়ার হোসেন, সৈয়দ এজাজ কবীর, জি-নাইন এর সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্থ, আহাদ আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

১০ হাজারের অধিক নেতা-কর্মীকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে: ফখরুল

আপডেট সময় ০৯:২১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের কূটনীতিকদের কাছে বাংলাদেশের ‘মানবাধিকার পরিস্থিতি’ তুলে ধরেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার দেশে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার পাঁয়তারা করছে। বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানের একটি হোটেলে এক গোলটেবিল আলোচনায় বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানায় বিএনপি।

আলোচনায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মানবাধিকার বিষয়ক সচিব মাইক ক্রেমার, ফ্রান্স দূতাবাসের উপ-প্রধান জ্যঁ-পিয়ের পঁশে, ভারতের রাজনৈতিক বিভাগের শান্তনু মুখার্জী ছাড়াও কানাডা, সুইডেন, পাকিস্তান, ইরান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ প্রভৃতি দেশের কুটনীতিকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ‘রাইট টু লাইফ: অ্যা ফার ক্রাই ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ১৫ মিনিটে প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্য সরকার এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই কারণে তারা আজকে কোনো নিয়ম-কানুন, ন্যায়-নীতি, সংবিধান কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে তারা একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চাইছে।’

‘আজকে শুধু এনফোর্সড ডিজএপিয়ারেন্স (গুম) নয়, আমাদের হিসেবে পাঁচশ অধিক নেতৃবৃন্দ হারিয়ে গেছেন, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, আমাদের হিসেবে ১০ হাজারের অধিক নেতা-কর্মীকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

‘কিছুদিন আগে পর্যন্ত সারাদেশে আমাদের নেতৃবৃন্দ বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা করা হয়েছে, ১৮ লক্ষ মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।’

‘আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানাব, বাংলাদেশে এখন কী হচ্ছে তা নোট করুন। আমরা একটি গণতান্ত্রিক জাতি। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, আমরা গণতন্ত্রের বিশ্বাসী করি।’

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে চায়- এমন ইঙ্গিত দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিকে ছাড়া কোনো নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’

ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নানা কৌশলে সম্পূর্ণভাবে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে ফলাফলকে নিজের করায়ত্ব করছে। এখন ভোটারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, বিরোধী দলের এজেন্টরা কেন্দ্রে যেতে পারে না।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটে ‘অনিয়ম’ হয়েছে দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’

দলের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে ‘নির্জন কারাগারে’ বন্দীর অভিযোগও বিদেশিদের কাছে তুলে ধরেন ফখরুল। বলেন, ‘তার প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’

বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য রিয়াজ রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক সিরাজুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, রুহুল আলম চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, জয়নুল আবেদীন, এজেডএম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল কাইয়ুম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমা মুন্নী, রুমিন ফারাহানা, মীর হেলালউদ্দিন, সারোয়ার হোসেন, সৈয়দ এজাজ কবীর, জি-নাইন এর সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সায়ান্থ, আহাদ আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।