ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ত্রাণ নয় বিনিয়োগ চান, বাপ-দাদার মতো বোকা না কিম

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আজই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই আলোচনায় বসবেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্পের সঙ্গে এ বৈঠক থেকে কি চান কিম। সম্প্রতি দেয়া এ বক্তব্যের মধ্যেই এ প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে।

চলতি বছর নববর্ষের ভাষণে বিশ্বের উদ্দেশে কিম বলেন, দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি অর্জন করেছি আমরা। এখন থেকে আমরা আর ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে চাই না। এখন উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে চাই আমরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিমের এ বক্তব্যই প্রমাণ করে বাপ-দাদার মতো বোকা নন তিনি। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য ত্রাণ নয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ চান তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, নিজের স্বার্থেই দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন চান কিম। আরও অনেকটা সময় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় থাকতে চান তিনি। আর দেশটির অর্থনৈতিক উন্নতির ওপরই নির্ভর করছে তার ক্ষমতা। তিন পুরুষ ধরে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এই দেশটিকে শাসন করে আসছে কিম পরিবার।

১৯৫০-৫৩ পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের মাধ্যমে আলাদা হওয়ার পর গত ৬৮ বছরে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহোদর দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও প্রতিবেশী মিত্র দেশ চীন ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।

অন্যদিকে কিমের বাপ-দাদার নানা ভুল নীতির কারণে ক্রমেই অবনতির শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে উত্তর কোরিয়া। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হলেও বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গরিব ও ক্ষুধাপীড়িত দেশগুলোর অন্যতম দেশটি। নাগরিকরা মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত।

মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, জ্বালানিসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে তারা শিকার হচ্ছেন মানবাধিকার লংঘনের। কিম জং আন ও তার পরিবারের প্রতি পুরোপুরি আনুগত্য দেখিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে নাগরিকদের।

প্রত্যেক নাগরিকের ওপর রয়েছে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি। সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে দেশের অর্থনীতি। বেইজিংয়ে রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ চেং শিয়াওহে বলেন, ‘বলতে গেলে দেশটির অর্থনীতি এখন ভয়াবহ নাজুক অবস্থায় রয়েছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ত্রাণ নয় বিনিয়োগ চান, বাপ-দাদার মতো বোকা না কিম

আপডেট সময় ০৭:০৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ জুন ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আজই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই আলোচনায় বসবেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্পের সঙ্গে এ বৈঠক থেকে কি চান কিম। সম্প্রতি দেয়া এ বক্তব্যের মধ্যেই এ প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে।

চলতি বছর নববর্ষের ভাষণে বিশ্বের উদ্দেশে কিম বলেন, দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি অর্জন করেছি আমরা। এখন থেকে আমরা আর ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে চাই না। এখন উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে চাই আমরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিমের এ বক্তব্যই প্রমাণ করে বাপ-দাদার মতো বোকা নন তিনি। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য ত্রাণ নয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ চান তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, নিজের স্বার্থেই দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন চান কিম। আরও অনেকটা সময় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় থাকতে চান তিনি। আর দেশটির অর্থনৈতিক উন্নতির ওপরই নির্ভর করছে তার ক্ষমতা। তিন পুরুষ ধরে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এই দেশটিকে শাসন করে আসছে কিম পরিবার।

১৯৫০-৫৩ পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের মাধ্যমে আলাদা হওয়ার পর গত ৬৮ বছরে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহোদর দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও প্রতিবেশী মিত্র দেশ চীন ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।

অন্যদিকে কিমের বাপ-দাদার নানা ভুল নীতির কারণে ক্রমেই অবনতির শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে উত্তর কোরিয়া। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হলেও বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গরিব ও ক্ষুধাপীড়িত দেশগুলোর অন্যতম দেশটি। নাগরিকরা মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত।

মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, জ্বালানিসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে তারা শিকার হচ্ছেন মানবাধিকার লংঘনের। কিম জং আন ও তার পরিবারের প্রতি পুরোপুরি আনুগত্য দেখিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে নাগরিকদের।

প্রত্যেক নাগরিকের ওপর রয়েছে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি। সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে দেশের অর্থনীতি। বেইজিংয়ে রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ চেং শিয়াওহে বলেন, ‘বলতে গেলে দেশটির অর্থনীতি এখন ভয়াবহ নাজুক অবস্থায় রয়েছে।’