ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাজেটে শিশুদের বরাদ্দ বাড়ানো প্রশংসনীয়: সেভ দ্য চিলড্রেন

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছে সেভ দ্য চিলড্রেন। সেভ দ্য চিলড্রেন মনে করে, শিশুদের সুরক্ষায় একটি জাতি কিংবা রাষ্ট্র সব সময় যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করাসহ তাদের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রাখা আবশ্যক।

বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষাবলয় কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো নিশ্চয় ইতিবাচক। এটি প্রশংসনীয়।

তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে সেভ দ্য চিলড্রেন। সোমবার ঢাকার গুলশানে সেভ দ্য চিলড্রেন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে শিশু বাজেট নিয়ে সেভ দ্য চিলড্রেনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন চাইল্ড রাইটস গভর্ন্যান্স অ্যান্ড চাইল্ড প্রোটেকশন সেক্টরের ডেপুটি ডিরেক্টর, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পাবলিক ফাইন্যান্স, আশিক ইকবাল।

এতে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড রাইটস গভর্ন্যান্স অ্যান্ড চাইল্ড প্রোটেকশন সেক্টরের পরিচালক লায়লা খন্দকার ও প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি বিভাগের পরিচালক রিফাত বিন সাত্তার এবং অন্যান্য কর্মীরা।

লায়লা খন্দকার জানান, শিশু বাজেটের অন্তর্ভুক্ত ১৫টি মন্ত্রণালয়ে এবার শিশুদের জন্য ৬৫,৬৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা জাতীয় বাজেটের ১৪.১ শতাংশ (জিডিপির ২.৬ শতাংশ)।

গত বছরের তুলনায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা বলয় কার্যক্রমে বরাদ্দ সমগ্র বাজেটের অংশ হিসেবে কমেছে। তবে শিশু সংশ্লিষ্ট সামাজিক সুরক্ষাবলয়ে বরাদ্দ বেড়েছে ২০.২ শতাংশ।

বিশেষ করে এ খাতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ২৩০.৩ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাড়ানোর ফলে শিশুদের ঝরে পড়ার হার কমবে এবং তাদের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করায় অগ্রগতি হবে বলে মনে করে সেভ দ্য চিলড্রেন।

লায়লা খন্দকার বলেন, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দরিদ্র শিশুসহ সারা দেশে পথশিশুদের উন্নয়নে যথাযথ প্রদক্ষেপ গ্রহণও জরুরি। এসব প্রশংসনীয় উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট অর্থ বরাদ্দ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেভ দ্য চিলড্রেনের আশিক ইকবাল জানান, শিক্ষাখাতে বাজেট বেড়েছে মাত্র ৫.২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ১৩.২ শতাংশ। আবার সমগ্র বাজেটের অংশ হিসেবে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতেই বরাদ্দ কমেছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে না।

শিশু সহিংসতা বন্ধে শিশু সুরক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার তেমন কোনো উদ্যোগও নজরে পড়েনি। এদিকে সামাজিক সুরক্ষা বলয় কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোসহ বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ লক্ষণীয় হলেও শিশুদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে আরও উদ্যোগী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে সেভ দ্য চিলড্রেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেটে শিশুদের বরাদ্দ বাড়ানো প্রশংসনীয়: সেভ দ্য চিলড্রেন

আপডেট সময় ০৮:০৬:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ জুন ২০১৮

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় বলে মনে করছে সেভ দ্য চিলড্রেন। সেভ দ্য চিলড্রেন মনে করে, শিশুদের সুরক্ষায় একটি জাতি কিংবা রাষ্ট্র সব সময় যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করাসহ তাদের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রাখা আবশ্যক।

বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষাবলয় কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো নিশ্চয় ইতিবাচক। এটি প্রশংসনীয়।

তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে সেভ দ্য চিলড্রেন। সোমবার ঢাকার গুলশানে সেভ দ্য চিলড্রেন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে শিশু বাজেট নিয়ে সেভ দ্য চিলড্রেনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন চাইল্ড রাইটস গভর্ন্যান্স অ্যান্ড চাইল্ড প্রোটেকশন সেক্টরের ডেপুটি ডিরেক্টর, গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পাবলিক ফাইন্যান্স, আশিক ইকবাল।

এতে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড রাইটস গভর্ন্যান্স অ্যান্ড চাইল্ড প্রোটেকশন সেক্টরের পরিচালক লায়লা খন্দকার ও প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি বিভাগের পরিচালক রিফাত বিন সাত্তার এবং অন্যান্য কর্মীরা।

লায়লা খন্দকার জানান, শিশু বাজেটের অন্তর্ভুক্ত ১৫টি মন্ত্রণালয়ে এবার শিশুদের জন্য ৬৫,৬৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা জাতীয় বাজেটের ১৪.১ শতাংশ (জিডিপির ২.৬ শতাংশ)।

গত বছরের তুলনায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা বলয় কার্যক্রমে বরাদ্দ সমগ্র বাজেটের অংশ হিসেবে কমেছে। তবে শিশু সংশ্লিষ্ট সামাজিক সুরক্ষাবলয়ে বরাদ্দ বেড়েছে ২০.২ শতাংশ।

বিশেষ করে এ খাতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ২৩০.৩ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাড়ানোর ফলে শিশুদের ঝরে পড়ার হার কমবে এবং তাদের পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করায় অগ্রগতি হবে বলে মনে করে সেভ দ্য চিলড্রেন।

লায়লা খন্দকার বলেন, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দরিদ্র শিশুসহ সারা দেশে পথশিশুদের উন্নয়নে যথাযথ প্রদক্ষেপ গ্রহণও জরুরি। এসব প্রশংসনীয় উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট অর্থ বরাদ্দ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেভ দ্য চিলড্রেনের আশিক ইকবাল জানান, শিক্ষাখাতে বাজেট বেড়েছে মাত্র ৫.২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ১৩.২ শতাংশ। আবার সমগ্র বাজেটের অংশ হিসেবে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতেই বরাদ্দ কমেছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে না।

শিশু সহিংসতা বন্ধে শিশু সুরক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার তেমন কোনো উদ্যোগও নজরে পড়েনি। এদিকে সামাজিক সুরক্ষা বলয় কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোসহ বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ লক্ষণীয় হলেও শিশুদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে আরও উদ্যোগী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে সেভ দ্য চিলড্রেন।