অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মাইল্ড স্ট্রোক করেছেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দাবি নাকচ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মতো তিনিও বলেছেন, বিএনপি নেত্রীর রক্তে চিনি (সুগার) কমে গিয়েছিল।
শনিবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে এসে তার চার চিকিৎসক দাবি করেন, গত ৫ জুন খালেদা জিয়া পড়ে দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময়ের কথা তার মনে নেই। এ থেকে তাদের ধারণা, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃদু স্ট্রোক হয়েছিল। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি না করলে তার বড় ধরনের স্ট্রোক হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানান তারা।
খালেদা জিয়ার চার চিকিৎসক এবং বিএনপি নেতারা তাদের নেত্রীকে বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে গত ৭ এপ্রিলের মতোই বিএনপি প্রধানকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানকার চিকিৎসকরা যে পরামর্শ দেবেন, সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আজ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকে সামনে রেখে চিকিৎসকরা সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করেছেন। এটাকে তিনি রাজনীতি বলেছেন।
এই চার চিকিৎসকের তিন জন গত ২৮ এপ্রিল বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন। একজন বলেন, কারাগারে থাকভে খালেদা জিয়া প্যারালাইডজ (পঙ্গু) হয়ে যাবেন, আরেকজন বলেন, তিনি অন্ধ হয়ে যাবেন, আরেকজন বলেন, তার প্র¯্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যাবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মাইল্ড স্ট্রোকের বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজি প্রিজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। মাইল্ড স্ট্রোকের বিষয়টি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা বলেছেন কিন্তু আইজি প্রিজন বলছেন, জেলের হাসপাতালের যে চিকিৎসক রয়েছেন, তিনি জানিয়েছেন এটা সুগার ফলের বিষয়। এটি মাইল্ড স্ট্রোকের বিষয় নয়।’
‘তারপরও বেগম জিয়াকে অনুরোধ করা হয়েছে, বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি দ-প্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন তবে অমানবিক আচরণ করা হবে এমনটি নয়। তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তার চিকিৎসায় গাফলতির বিষয় আমরা কেউ সাপোর্ট করি না।’
রবিবার দুপুরে গাজীপুরের চন্দ্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কাদের।
সড়ক পরিস্থিতি ও ঈদযাত্রা নিয়ে কাদের বলেন, ‘যানজট সহনীয় মাত্রা এবং জনগণের সুবিধার্থে ঈদ উপলক্ষ্যে আগামী ১২ জুন থেকে চন্দ্রা এলেঙ্গা ফোর লেনটি পুরোপুরি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।’
‘এছাড়া এ মহাসড়কের ২৩টি সেতুর ওপর দিয়েও গাড়ি চলবে। এ মুহূর্তে এটির উদ্বোধন আমরা করতে পারছি না। তবে ঈদের পরে প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করবেন।’
‘সড়কের জন্য যানজট হবে না’- আবারও জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং রং সাইড ব্যবহার করার কারণে সড়ক বন্ধ হতে পারে।’
ঢাকা বিভাগীয় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, ডিআইজি আতিকুর রহমান, গাজীপুর সড়ক ও জনপথেথর প্রকৌশলী ডিকেএন নাহিন রেজা, গাজীপুর পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ, গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার শফিকুর ইসলামসহ সড়ক ও জনপথের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















