ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন খালেদা: দুদু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না এই বিষয়টি এখনও পরিষ্কার না হলেও আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়ে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নেতা শামসুজ্জামান দুদু। বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস হবে বেগম জিয়ার মাস, এই মাসেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে চতুর্থবারের মতো শপথ নেবেন ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাইনুল ইসলাম দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবর্ষিকী উপলক্ষে তার রুহের মাগফেরাত এবং দলটির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদের পর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে দুদু বলেন, ‘সামনে ঈদুল ফিতরের পর যদি বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত অবস্থায় না পাই তাহলে সারাদেশ বন্ধ করে দেয়া হবে। যত রক্ত লাগে এই দেশের ছাত্র শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষ রাজপথে ঢেলে দেবে। বেগম জিয়া কারাগারে থাকবে আমরা মেনে নেবো এটা হতে পারে না।’

সরকার কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে দাবি করে দুদু বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকার যে আচরণ করছে এটি একেবারেই প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার অভিপ্রায়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন বিরোধীদলীয় নেত্রী কারাগারে যে সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন তার ছিটেফোঁটাও তাকে দেয়া হচ্ছে না। কারণ হলো দেশেও এখন গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটা নেই।’

‘অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন বর্তমান সরকার আদালতকে প্রভাবিত করে তাকে (খালেদা) কারাগার থেকে বের হতে দিচ্ছে না। এটা সংবিধান পরিপন্থি একটি সিদ্ধান্ত। আমরা অবিলম্বে প্রত্যাশা করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ন্যূনতম মৌলিক অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা সরকার করবে এবং আদালতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। না হলে তার (খালেদার) যদি ভালো মন্দ কিছু হয় তাহলে তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে।’

সরকারের বাজেটের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তথাকথিত অর্থমন্ত্রী একটা বাজেট দিয়েছেন এই বাজেট প্রতারণার, এই বাজেটে বাংলাদেশের মানুষের সাথে নির্মম রসিকতা করা হয়েছে। মানুষকে তাক লাগানোর লক্ষে এই প্রতারণার বাজেট দেয়া হয়েছে। আমরা জানি এ বাজেট কার্যকর করার কোনো রকম ক্ষমতা বর্তমান অবৈধ সরকারের নেই। এই সরকারের বড় বাজেট মানে জনগণ বিশ্বাস করে বড়ধরনের দুর্নীতি এবং লুটপাট।’

‘এই বাজেটে যেমন মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস নেই তেমনি এই সরকারের প্রতি ও মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নেই। এই বাজেট দেশের ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে সরকারি দলের লোকজনকে দুর্নীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই প্রতারণার বাজেটিই হবে এই অবৈধ সরকারের জন্য শেষ বাজেট।’

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাযজ্ঞ চলছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘দেশে মাদকবিরোধী যে অভিযান চলছে এটার দিকে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় সরকার বিনাবিচারে মানুষ হত্যা করে সংবিধান পরিপন্থি কাজ করছে। সংবিধানের কোনো জায়গায় মানুষ হত্যার লাইসেন্স আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেয়া হয়নি। দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করানো দায়িত্ব হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কিন্তু বর্তমানে আইশৃঙ্খলা বাহিনীর অসৎ কর্মকর্তারা মাদক নির্মূলের নামে যে ক্রসফায়ারগুলো করছে সেটা একদিন বুমেরাং হয়ে যাবে। সুতরাং তাদের (আইশৃঙ্খলা বাহিনীর) মনে রাখা উচিত কোনো সরকারই শেষ সরকার নয়। আমরাও মাদক নির্মূলের পক্ষে, কিন্তু নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে এটা সম্ভব এটা বিশ্বাস করি না।’

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার মুক্তি এজন্যই জরুরি তার মুক্তির সঙ্গে দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি ওৎপোতভাবে জড়িত। এই দেশে শহীদ জিয়া এবং বেগম জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একইভাবে আগামী দিনেও বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের নেত্বত্বে আবারও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এটাই আমি বিশ্বাস করি। আগামী দিন বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের সৈনিকদের।’

ইফতারের আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত যুবদল মালেকের পরিবারকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল হক সানার সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ সামছুল আলম তোফা। এসময় আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনিছুর রহমান, খন্দকার রাশেদুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফ পাহেলী, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন খালেদা: দুদু

আপডেট সময় ০৮:২০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না এই বিষয়টি এখনও পরিষ্কার না হলেও আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়ে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নেতা শামসুজ্জামান দুদু। বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস হবে বেগম জিয়ার মাস, এই মাসেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে চতুর্থবারের মতো শপথ নেবেন ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মাইনুল ইসলাম দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবর্ষিকী উপলক্ষে তার রুহের মাগফেরাত এবং দলটির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদের পর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে দুদু বলেন, ‘সামনে ঈদুল ফিতরের পর যদি বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত অবস্থায় না পাই তাহলে সারাদেশ বন্ধ করে দেয়া হবে। যত রক্ত লাগে এই দেশের ছাত্র শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষ রাজপথে ঢেলে দেবে। বেগম জিয়া কারাগারে থাকবে আমরা মেনে নেবো এটা হতে পারে না।’

সরকার কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে দাবি করে দুদু বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকার যে আচরণ করছে এটি একেবারেই প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার অভিপ্রায়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন বিরোধীদলীয় নেত্রী কারাগারে যে সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন তার ছিটেফোঁটাও তাকে দেয়া হচ্ছে না। কারণ হলো দেশেও এখন গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটা নেই।’

‘অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন বর্তমান সরকার আদালতকে প্রভাবিত করে তাকে (খালেদা) কারাগার থেকে বের হতে দিচ্ছে না। এটা সংবিধান পরিপন্থি একটি সিদ্ধান্ত। আমরা অবিলম্বে প্রত্যাশা করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ন্যূনতম মৌলিক অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা সরকার করবে এবং আদালতে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। না হলে তার (খালেদার) যদি ভালো মন্দ কিছু হয় তাহলে তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে।’

সরকারের বাজেটের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তথাকথিত অর্থমন্ত্রী একটা বাজেট দিয়েছেন এই বাজেট প্রতারণার, এই বাজেটে বাংলাদেশের মানুষের সাথে নির্মম রসিকতা করা হয়েছে। মানুষকে তাক লাগানোর লক্ষে এই প্রতারণার বাজেট দেয়া হয়েছে। আমরা জানি এ বাজেট কার্যকর করার কোনো রকম ক্ষমতা বর্তমান অবৈধ সরকারের নেই। এই সরকারের বড় বাজেট মানে জনগণ বিশ্বাস করে বড়ধরনের দুর্নীতি এবং লুটপাট।’

‘এই বাজেটে যেমন মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস নেই তেমনি এই সরকারের প্রতি ও মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নেই। এই বাজেট দেশের ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে সরকারি দলের লোকজনকে দুর্নীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই প্রতারণার বাজেটিই হবে এই অবৈধ সরকারের জন্য শেষ বাজেট।’

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাযজ্ঞ চলছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘দেশে মাদকবিরোধী যে অভিযান চলছে এটার দিকে লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় সরকার বিনাবিচারে মানুষ হত্যা করে সংবিধান পরিপন্থি কাজ করছে। সংবিধানের কোনো জায়গায় মানুষ হত্যার লাইসেন্স আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেয়া হয়নি। দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করানো দায়িত্ব হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কিন্তু বর্তমানে আইশৃঙ্খলা বাহিনীর অসৎ কর্মকর্তারা মাদক নির্মূলের নামে যে ক্রসফায়ারগুলো করছে সেটা একদিন বুমেরাং হয়ে যাবে। সুতরাং তাদের (আইশৃঙ্খলা বাহিনীর) মনে রাখা উচিত কোনো সরকারই শেষ সরকার নয়। আমরাও মাদক নির্মূলের পক্ষে, কিন্তু নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে এটা সম্ভব এটা বিশ্বাস করি না।’

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার মুক্তি এজন্যই জরুরি তার মুক্তির সঙ্গে দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি ওৎপোতভাবে জড়িত। এই দেশে শহীদ জিয়া এবং বেগম জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একইভাবে আগামী দিনেও বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের নেত্বত্বে আবারও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এটাই আমি বিশ্বাস করি। আগামী দিন বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের সৈনিকদের।’

ইফতারের আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত যুবদল মালেকের পরিবারকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।

ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল হক সানার সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ সামছুল আলম তোফা। এসময় আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনিছুর রহমান, খন্দকার রাশেদুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মাইনুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফ পাহেলী, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল প্রমুখ।