ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিজভীকে ১০ বোতল পানি পাঠাচ্ছেন শেখ হাসিনা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রুহুল কবির রিজভীর জন্য ১০ বোতল পানি পাঠাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি বলে বিএনপি নেতার সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে এভাবেই রসিকতা করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে এক বালতি পানি পাঠানোর কথা বলেছিলেন। পরে একজনের পরামর্শ শুনে ১০ বোতল পানির বিষয়টি ঠিক করেন।

পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে বুধবার গণভবনে করা সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গটি তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ২৫ ও ২৬ এপ্রিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন এবং চুরুলিয়ার কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি নিতে পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।

এই সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গেও একান্তে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।

বিএনপি এই সফরের সমালোচনা করেছে নানাভাবে। বিশেষ করে তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো ঘোষণা না আসার সমালোচনায় মুখর দলটি।

বিএনপির মুখপাত্র, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি।

জবাবে শেখ হাসিনা তার সময়ে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে বলেন, ‘ওরা তো একটা কথা বলেই যাচ্ছে। আমি নাকি এক বালতি পানিও আনতে পারিনি। আমার মনে হয় এক বালতি পানি রিজভীকে একটু পাঠায়ে দেয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে পাশে থাকা কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাউকে দায়িত্ব দাও, ওরে এক বালতি পানি একটু পাঠিয়ে দেয়া উচিত। রোজা রমজানের দিন, কাজে লাগবে।’

পাশে থাকা একজনের পরামর্শ শুনে পরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১০ বোতল পানি পাঠিয়ে দেব, ঠিক আছে।’

‘আমরা কিন্তু গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি। বিএনপি তখন বলেছিল দুই বছরের কমে চুক্তি করলে তারা মানবে না। আর আমি ৩০ বছরের চুক্তি করেছি।’

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত সফরের বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আজকে তারা তিস্তার পানি পানি করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গঙ্গার পানি।’

‘খালেদা জিয়া যখন ভারতে গেল, ফিরে আসল, তখন কী বলেছিল? ‘গঙ্গার পানি? ও হো এটা বলতে তো ভুলেই গিয়েছিলাম।’ ভুলে যায়নি? ওনি ভুলে যেতেন।’

‘বিএনপির নেতাদের কি সে কথা মনে আছে যে, ওনাদের নেত্রী ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা চাইতে ভুলে গিয়েছিল?’

জিয়া, খালেদা কেন ভারত গিয়েছিলেন

ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাচ্ছেন বলেও সমালোচনা এসেছে বিএনপির পক্ষ থেকে। একজন সাংবাদিকের এ সংক্রান্ত প্রশ্নেরও জবাব আসে সংবাদ সম্মেলনে।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে হেসে হেসে বলেন, ‘স্বাভাবিক, যেতেই হবে। বিএনপি তো অনেক বুঝে আর বলার দরকার কী?’

‘তারাও তো কম যায় নাই। খালেদা জিয়া কি ভারতে যায়নি? জিয়াউর রহমান কি যায়নি? জিয়া তো ক্ষমতা দখল করার দুই বছরের মধ্যেই ভারতে গিয়েছিল। ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে।’

‘কেন গিয়েছিল? সেটা বিএনপি জিজ্ঞেস করেন। ক্ষমতা দখল করেই তো আগে ভারত ছুটল।’

তাদের আত্মাও লজ্জা পাচ্ছে

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনগুলোও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু সরকারের করা স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন করে ছিটমহল বিনিময়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন চুক্তি করেন, তখন পুরনো পত্রিকা খুলে দেখেন, ওই বেরুবাড়ি গেল, বেরুবাড়ি গেল, দেশ বেচে দিল, সব গেল, কত জনে লিখেছেন।’

‘যারা লিখেছিলেন, তাদের অনেকে বেঁচে আছেন, অনেকে বেঁচে নাই। নিশ্চয় যারা বেঁচে আছে, তারা লজ্জা পাচ্ছেন, যারা বেঁচে নাই, তাদের আত্মাও লজ্জা পাচ্ছে, তারা প্রচুর মিথ্যা কথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশ এক শান্তিপূর্ণ ছিটমহল বিনিময় করতে পরেনি। ছিটমহলের জন্য অনেক দেশে যুদ্ধ চলছে। আর আমরা কত সহজে, উৎসবমুখর পরিবেশে ছিটমহল বিনিময় করেছি একবার ভেবে দেখেন।’

ভারতের সাথে সমুদ্র সীমানা নির্দিষ্ট হওয়ার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা সমুদ্র সীমনায় যে অধিকার, সেটাও আমরা অর্জন করেছি।’

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এই চুক্তির পর ভারতের মাটিতে থাকা ৬৪ হাজার শরণার্থী দেশে ফিরে।

‘তাদেরকে আমি ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলাম নিজের দেশে। ভারতের মাটিতে আমার বাংলাদেশের মানুষ কেন শরণার্থী হয়ে থাকবে?’

‘জিয়াউর রহমানের আমলেই তারা শরণার্থী হয়েছিল। এরপরে এরশাদ এসেছে, খালেদা জিয়া এসেছে, কেউ এই সমস্যার সমাধান করেনি। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ এসে শরণার্থীদেরকে ফিরিয়ে আনি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিও আমরা করেছিলাম।’

‘আজকে সীমান্ত হত্যা বলতে গেলে নেই, আমরা বন্ধ করতে সমর্থ হয়েছি। আমরা অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র গড়ে তুলছি। কারণ দেশটাকে উন্নত করতে হবে, দারিদ্র্যমুক্ত করতে হবে।’

ভারতের কাছে গ্যাস বেচার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যাগুলোর সমাধান একে একে করে যাচ্ছি। ভারত গেলাম শুধু ক্ষমতায় থাকতে। ভারত আমাকে ক্ষমতায় আনবে কি আনবে না জানি না। তবে ২০০১ সালে আপনাদের মনে রাখা উচিত, গ্যাস আমাদের আমেরিকার কোম্পানি গ্যাস উত্তোলন করছে, তারা বিক্রি করবে ভারতের কাছে। এই প্রস্তাব এসেছিল আমার কাছে।’

‘ভারত এবং আমেরিকার দুটি দেশ প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি কিন্তু রাজি হইনি। খলেদা জিয়াই মুচলেখা লিখে গিয়ে এসেছিল।’

‘জিমি কার্টার (যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এসেছেন। লতিফুর রহমানের (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) বাসায় দাওয়াত ছিল। আমি আর জিল্লুর রহমান সাহেব উপস্থিত ছিলাম। আর ওদিকে খালেদা জিয়া আর মান্নান ভুঁইয়া ছিল।’

‘আমি বলেছিলাম যে, গ্যাসের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। আর কত গ্যাস আছে আমি জানি না। আর এ দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে, ৫০ বছরের রিজার্ভ থাকবে, তার অতিরিক্ত থাকলে আমি গ্যাস বিক্রি করব, নইলে করব না।’

‘এটা ছিল আমার কথা। আমি এটা বলে চলে এসেছিলাম। আর খালেদা জিয়াকে মিজি কার্টার খুব সুন্দরভাবে ধরে নিয়ে বসিয়ে, কোন এক পত্রিকায় মনে হয় ছবিও আছে, বসিয়ে নিয়ে তারপর মুচলেকা লিখে দিল, যে গ্যাস বিক্রি করবে ক্ষমতায় আসছে।’

‘আমি শুধু বলেছিলাম, আল্লাহ জন বুঝে ধন দেয়। গ্যাস পাবে না, দিতেও পারবে না। গ্যাস পায়ও নাই, দেয়ও নাই। বিএনপি আমলে কুপ খুড়েছিল, গ্যাস পায়নি, আমি এসে পেয়েছি।’

‘আমরা যেটা করি, দেশের স্বার্থের জন্য করে, ব্যক্তি স্বার্থে না। যারা মুচলেকা দেয়, আমি সেই দলে না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিজভীকে ১০ বোতল পানি পাঠাচ্ছেন শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০৭:০০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রুহুল কবির রিজভীর জন্য ১০ বোতল পানি পাঠাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি বলে বিএনপি নেতার সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে এভাবেই রসিকতা করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে এক বালতি পানি পাঠানোর কথা বলেছিলেন। পরে একজনের পরামর্শ শুনে ১০ বোতল পানির বিষয়টি ঠিক করেন।

পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে বুধবার গণভবনে করা সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গটি তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ২৫ ও ২৬ এপ্রিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন এবং চুরুলিয়ার কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি নিতে পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।

এই সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গেও একান্তে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।

বিএনপি এই সফরের সমালোচনা করেছে নানাভাবে। বিশেষ করে তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো ঘোষণা না আসার সমালোচনায় মুখর দলটি।

বিএনপির মুখপাত্র, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি।

জবাবে শেখ হাসিনা তার সময়ে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে বলেন, ‘ওরা তো একটা কথা বলেই যাচ্ছে। আমি নাকি এক বালতি পানিও আনতে পারিনি। আমার মনে হয় এক বালতি পানি রিজভীকে একটু পাঠায়ে দেয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে পাশে থাকা কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাউকে দায়িত্ব দাও, ওরে এক বালতি পানি একটু পাঠিয়ে দেয়া উচিত। রোজা রমজানের দিন, কাজে লাগবে।’

পাশে থাকা একজনের পরামর্শ শুনে পরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১০ বোতল পানি পাঠিয়ে দেব, ঠিক আছে।’

‘আমরা কিন্তু গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি। বিএনপি তখন বলেছিল দুই বছরের কমে চুক্তি করলে তারা মানবে না। আর আমি ৩০ বছরের চুক্তি করেছি।’

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত সফরের বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আজকে তারা তিস্তার পানি পানি করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গঙ্গার পানি।’

‘খালেদা জিয়া যখন ভারতে গেল, ফিরে আসল, তখন কী বলেছিল? ‘গঙ্গার পানি? ও হো এটা বলতে তো ভুলেই গিয়েছিলাম।’ ভুলে যায়নি? ওনি ভুলে যেতেন।’

‘বিএনপির নেতাদের কি সে কথা মনে আছে যে, ওনাদের নেত্রী ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা চাইতে ভুলে গিয়েছিল?’

জিয়া, খালেদা কেন ভারত গিয়েছিলেন

ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাচ্ছেন বলেও সমালোচনা এসেছে বিএনপির পক্ষ থেকে। একজন সাংবাদিকের এ সংক্রান্ত প্রশ্নেরও জবাব আসে সংবাদ সম্মেলনে।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে হেসে হেসে বলেন, ‘স্বাভাবিক, যেতেই হবে। বিএনপি তো অনেক বুঝে আর বলার দরকার কী?’

‘তারাও তো কম যায় নাই। খালেদা জিয়া কি ভারতে যায়নি? জিয়াউর রহমান কি যায়নি? জিয়া তো ক্ষমতা দখল করার দুই বছরের মধ্যেই ভারতে গিয়েছিল। ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে।’

‘কেন গিয়েছিল? সেটা বিএনপি জিজ্ঞেস করেন। ক্ষমতা দখল করেই তো আগে ভারত ছুটল।’

তাদের আত্মাও লজ্জা পাচ্ছে

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনগুলোও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু সরকারের করা স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন করে ছিটমহল বিনিময়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন চুক্তি করেন, তখন পুরনো পত্রিকা খুলে দেখেন, ওই বেরুবাড়ি গেল, বেরুবাড়ি গেল, দেশ বেচে দিল, সব গেল, কত জনে লিখেছেন।’

‘যারা লিখেছিলেন, তাদের অনেকে বেঁচে আছেন, অনেকে বেঁচে নাই। নিশ্চয় যারা বেঁচে আছে, তারা লজ্জা পাচ্ছেন, যারা বেঁচে নাই, তাদের আত্মাও লজ্জা পাচ্ছে, তারা প্রচুর মিথ্যা কথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশ এক শান্তিপূর্ণ ছিটমহল বিনিময় করতে পরেনি। ছিটমহলের জন্য অনেক দেশে যুদ্ধ চলছে। আর আমরা কত সহজে, উৎসবমুখর পরিবেশে ছিটমহল বিনিময় করেছি একবার ভেবে দেখেন।’

ভারতের সাথে সমুদ্র সীমানা নির্দিষ্ট হওয়ার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা সমুদ্র সীমনায় যে অধিকার, সেটাও আমরা অর্জন করেছি।’

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এই চুক্তির পর ভারতের মাটিতে থাকা ৬৪ হাজার শরণার্থী দেশে ফিরে।

‘তাদেরকে আমি ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলাম নিজের দেশে। ভারতের মাটিতে আমার বাংলাদেশের মানুষ কেন শরণার্থী হয়ে থাকবে?’

‘জিয়াউর রহমানের আমলেই তারা শরণার্থী হয়েছিল। এরপরে এরশাদ এসেছে, খালেদা জিয়া এসেছে, কেউ এই সমস্যার সমাধান করেনি। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ এসে শরণার্থীদেরকে ফিরিয়ে আনি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিও আমরা করেছিলাম।’

‘আজকে সীমান্ত হত্যা বলতে গেলে নেই, আমরা বন্ধ করতে সমর্থ হয়েছি। আমরা অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র গড়ে তুলছি। কারণ দেশটাকে উন্নত করতে হবে, দারিদ্র্যমুক্ত করতে হবে।’

ভারতের কাছে গ্যাস বেচার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যাগুলোর সমাধান একে একে করে যাচ্ছি। ভারত গেলাম শুধু ক্ষমতায় থাকতে। ভারত আমাকে ক্ষমতায় আনবে কি আনবে না জানি না। তবে ২০০১ সালে আপনাদের মনে রাখা উচিত, গ্যাস আমাদের আমেরিকার কোম্পানি গ্যাস উত্তোলন করছে, তারা বিক্রি করবে ভারতের কাছে। এই প্রস্তাব এসেছিল আমার কাছে।’

‘ভারত এবং আমেরিকার দুটি দেশ প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি কিন্তু রাজি হইনি। খলেদা জিয়াই মুচলেখা লিখে গিয়ে এসেছিল।’

‘জিমি কার্টার (যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এসেছেন। লতিফুর রহমানের (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) বাসায় দাওয়াত ছিল। আমি আর জিল্লুর রহমান সাহেব উপস্থিত ছিলাম। আর ওদিকে খালেদা জিয়া আর মান্নান ভুঁইয়া ছিল।’

‘আমি বলেছিলাম যে, গ্যাসের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। আর কত গ্যাস আছে আমি জানি না। আর এ দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে, ৫০ বছরের রিজার্ভ থাকবে, তার অতিরিক্ত থাকলে আমি গ্যাস বিক্রি করব, নইলে করব না।’

‘এটা ছিল আমার কথা। আমি এটা বলে চলে এসেছিলাম। আর খালেদা জিয়াকে মিজি কার্টার খুব সুন্দরভাবে ধরে নিয়ে বসিয়ে, কোন এক পত্রিকায় মনে হয় ছবিও আছে, বসিয়ে নিয়ে তারপর মুচলেকা লিখে দিল, যে গ্যাস বিক্রি করবে ক্ষমতায় আসছে।’

‘আমি শুধু বলেছিলাম, আল্লাহ জন বুঝে ধন দেয়। গ্যাস পাবে না, দিতেও পারবে না। গ্যাস পায়ও নাই, দেয়ও নাই। বিএনপি আমলে কুপ খুড়েছিল, গ্যাস পায়নি, আমি এসে পেয়েছি।’

‘আমরা যেটা করি, দেশের স্বার্থের জন্য করে, ব্যক্তি স্বার্থে না। যারা মুচলেকা দেয়, আমি সেই দলে না।’