ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু

ভোটাধিকার রক্ষায় রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় নেই: নোমান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকার যে অবস্থায় সৃষ্টি করেছে তাতে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হলে রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেন না বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।

সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবিতে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামের বিএনপিপন্থী একটি সংগঠন।

নোমান বলেন, ‘আজকে কথা বেশি বলা যাবে না, আলোচনা কম করতে হবে। এখন থেকে আমাদের-একদফা এক দাবি, শেখ হাসিনা তুই কবে যাবি।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খুলনার সিটি নির্বাচনে জালভোট হয়নি। হয়েছে কেন্দ্র দখল। আর এই অবস্থাকে সহযোগিতা করছে নির্বাচন কমিশন।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আসলে এই নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। সরকার যা বলবে সেটাই নির্বাচন কমিশন করবে। অথচ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব তারা পালন করছে না। যার কারণে এ নির্বাচন ভোট ডাকাতির নির্বাচন হয়েছে।’

‘জাল ভোটে বিএনপি এখন আতঙ্কিত না’

নোমান বলেন, ‘তারা জাল ভোট দিলেও বিএনপি জিতবে। কিন্তু বিএনপি আতঙ্কিত ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে।’ তিনি বলেন, ‘খুলনা নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। কিছু কিছু জনগণ নৌকার প্রতীক নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ভোট দিয়েছে, যার কারণে বিএনপির প্রার্থী এক লাখ আট হাজার ভোট পেয়েছেন।’

পুলিশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পুলিশ যে আচরণ করছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। সাদা পোশাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তাহলে জনগণ কোথায় যাবে?’

নোমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে গেছে এইজন্য যাতে নির্বাচন করতে না পারেন। কিন্তু কারাগারে নেয় শাসক আর মুক্ত করে জনগণ। বিএনপি নেতাকর্মী কারাগারে আছে তাদের বের করবে এদেশের জনগণ।’

প্রতিবাদ সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশের স্বাভাবিকভাবে সরকার পরিবর্তনের স্বাভাবিক রাস্তাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিএনপি যে পন্থা বিশ্বাস করে তা হলো নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের। কিন্তু সেই পথটি এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

‘খুলনায় সর্বশেষ যে নির্বাচনটি হয়েছে তা প্রমাণ করে যে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী সব একাকার হয়ে গেছে। একে অপরের পিঠ চুলকাচ্ছে এবং এক পথে তারা চলাফেরা করেছে।’

দুদু বলেন, ‘সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদেও আছে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন ক্ষমতা বহন করে। তারা তো সেভাবে চলেই নাই বরং পুলিশ-প্রশাসন সরকার তাদেরকে যেভাবে চলতে বলেছে তারা সেভাবে চলেছে এবং সর্বশেষ তারা বলেছে নির্বাচন ভালো হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তাহলে আমাদের পথটা কী? বেগম জিয়া কি জেলে মৃত্যুবরণ করবেন? ছাত্রদলের নেতা, বেগম জিয়ার সহকারী তারা কি জেলে মৃত্যুবরণ করবেন? এই প্রশ্ন যারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে, গণতন্ত্রকে মানে তাদেরকে, একটু ভেবে দেখতে হবে।’

দুদু বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের পরিবর্তনের প্রধান বিষয় মনে করে। কিন্তু সেই পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যায় সেই পথকে ফিরিয়ে আনতে বিএনপির গণ-অভ্যুত্থানের পথ বেছে নেবে এটা কোনো বিপ্লবী পথ না। এটা সাংবিধানিক পথ।’

নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এভাবে হবে না। নিজের সঙ্গে প্রতারণা করে আন্দোলন হয় না। একজন আরেকজনের কাঁধে দায় চাপাবেন এভাবে আন্দোলন হয় না। যদি আন্দোলন করতে হয় কৃষকের কাছে যেতে হবে। ছাত্রদের কাছে যেতে হবে। জনগণের কাছে যেতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

ভোটাধিকার রক্ষায় রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় নেই: নোমান

আপডেট সময় ০৪:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকার যে অবস্থায় সৃষ্টি করেছে তাতে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হলে রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেন না বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।

সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর মুক্তির দাবিতে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামের বিএনপিপন্থী একটি সংগঠন।

নোমান বলেন, ‘আজকে কথা বেশি বলা যাবে না, আলোচনা কম করতে হবে। এখন থেকে আমাদের-একদফা এক দাবি, শেখ হাসিনা তুই কবে যাবি।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খুলনার সিটি নির্বাচনে জালভোট হয়নি। হয়েছে কেন্দ্র দখল। আর এই অবস্থাকে সহযোগিতা করছে নির্বাচন কমিশন।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আসলে এই নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। সরকার যা বলবে সেটাই নির্বাচন কমিশন করবে। অথচ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব তারা পালন করছে না। যার কারণে এ নির্বাচন ভোট ডাকাতির নির্বাচন হয়েছে।’

‘জাল ভোটে বিএনপি এখন আতঙ্কিত না’

নোমান বলেন, ‘তারা জাল ভোট দিলেও বিএনপি জিতবে। কিন্তু বিএনপি আতঙ্কিত ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে।’ তিনি বলেন, ‘খুলনা নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। কিছু কিছু জনগণ নৌকার প্রতীক নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ভোট দিয়েছে, যার কারণে বিএনপির প্রার্থী এক লাখ আট হাজার ভোট পেয়েছেন।’

পুলিশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পুলিশ যে আচরণ করছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। সাদা পোশাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তাহলে জনগণ কোথায় যাবে?’

নোমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে গেছে এইজন্য যাতে নির্বাচন করতে না পারেন। কিন্তু কারাগারে নেয় শাসক আর মুক্ত করে জনগণ। বিএনপি নেতাকর্মী কারাগারে আছে তাদের বের করবে এদেশের জনগণ।’

প্রতিবাদ সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘দেশের স্বাভাবিকভাবে সরকার পরিবর্তনের স্বাভাবিক রাস্তাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিএনপি যে পন্থা বিশ্বাস করে তা হলো নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের। কিন্তু সেই পথটি এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

‘খুলনায় সর্বশেষ যে নির্বাচনটি হয়েছে তা প্রমাণ করে যে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী সব একাকার হয়ে গেছে। একে অপরের পিঠ চুলকাচ্ছে এবং এক পথে তারা চলাফেরা করেছে।’

দুদু বলেন, ‘সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদেও আছে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন ক্ষমতা বহন করে। তারা তো সেভাবে চলেই নাই বরং পুলিশ-প্রশাসন সরকার তাদেরকে যেভাবে চলতে বলেছে তারা সেভাবে চলেছে এবং সর্বশেষ তারা বলেছে নির্বাচন ভালো হয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তাহলে আমাদের পথটা কী? বেগম জিয়া কি জেলে মৃত্যুবরণ করবেন? ছাত্রদলের নেতা, বেগম জিয়ার সহকারী তারা কি জেলে মৃত্যুবরণ করবেন? এই প্রশ্ন যারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে, গণতন্ত্রকে মানে তাদেরকে, একটু ভেবে দেখতে হবে।’

দুদু বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের পরিবর্তনের প্রধান বিষয় মনে করে। কিন্তু সেই পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যায় সেই পথকে ফিরিয়ে আনতে বিএনপির গণ-অভ্যুত্থানের পথ বেছে নেবে এটা কোনো বিপ্লবী পথ না। এটা সাংবিধানিক পথ।’

নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এভাবে হবে না। নিজের সঙ্গে প্রতারণা করে আন্দোলন হয় না। একজন আরেকজনের কাঁধে দায় চাপাবেন এভাবে আন্দোলন হয় না। যদি আন্দোলন করতে হয় কৃষকের কাছে যেতে হবে। ছাত্রদের কাছে যেতে হবে। জনগণের কাছে যেতে হবে।’