অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
চট্টগ্রামে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হাবিবুর রহমানকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের সঙ্গে লাগোয়া সরদঘাট থানার আইস ফ্যাক্টরি রোডে বরিশাল কলোনিতে বৃহস্পতিবার রাতে হাবিবুর রহমান ওরফে মোটা হাবিব ও মোশারফ হোসেন ওরফে মুসা নামে দুই ব্যক্তি বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হন বলে জানায় র্যাব।-খবর বিডিনিউজের।
তবে হাবিবের পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর মোমিন রোড ঝাউতলা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হলে হাবিবকে ধরে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারী কয়েকজন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে শুক্রবার নিহত হাবিবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও ছেলে আব্দুল আলী রাব্বি এমন এই অভিযোগ করেন।
আব্দুল আলী রাব্বি বলেন, দুপুরে বায়তুল ফালা্হ মসজিদে জোহরের নামায পড়ে বের হওয়ার পর বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে বলে ঝাউতলার কিছু যুবক আমাকে জানিয়েছে। এসময় স্থানীয় লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা প্রশাসনের লোক পরিচয় দেয় এবং তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, একথা শুনে আমি, আমার মা ও কয়েকজন আত্মীয় মিলে কয়েকটি থানায় খোঁজ নিয়েও কোনো হদিস পাইনি। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য অফিস, ডিবি অফিসেও খোঁজ নিয়েছি। তারা এ বিষয়ে জানে না বল আমাদের অবহিত করে।
হাবিবের শ্বশুর নজরুল ইসলাম বলেন, সারাদিন বিভিন্ন স্থানে খবর নেয়ার পর রাতে টিভিতে মাটিতে শোয়ানো সাদা পাঞ্জাবি পড়া লোকটিকে দেখে হাবিবের মতো মনে হয়েছে। পরে শুক্রবার ভোররাত ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে হাবিবের লাশ শনাক্ত করি।
তিনি জানান, হাবিব বেশ কিছুদিন ওমানে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে কিছুদিন কাঁচা সবজির ব্যবসা করলেও এখন প্রবাসী বোন ও বোন জামাইয়ের পাঠানো টাকায় তার সংসার চলে।
দুই ছেলে এক মেয়ের জনক হাবিব প্রায় এক মাস জেল খেটে গত মঙ্গলবার ছাড়া পেয়েছে বলে জানান রাব্বি। র্যাব বলেছে, হাবিবের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় মাদকের ১২টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে কোতোয়ালী থানাতেই তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা আছে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ও ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর হাবিব দুইবার গ্রেপ্তার হয়েছিল পুলিশের হাতে। পুলিশ জানায়, নগরীর কোতয়ালী থানাতেই নিহত হাবিবের স্ত্রী মর্জিনার বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























