অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মানিকগঞ্জে একটি জনসভায় অংশ নিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন। তবে তাৎক্ষণিক সেবা দেয়ার পর তিনি অনেকটা ভালো বোধ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, রক্তের চিনি কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
মন্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে কিছুক্ষণ বিশ্রাম রাখার পর তিনি আবার বক্তব্য দিতে উঠলে স্বস্তিবোধ করে সবাই।
শনিবার দুপুরে ঘিওর উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত জেলা পরিষদ টাওয়ার উদ্বোধন করতে সেখানে যান এলজিআরডি মন্ত্রী। এ উপলক্ষে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি।
বক্তব্য দিতে উঠার পর এক পর্যায়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন খন্দকার মোশাররফ। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সাংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহীউদ্দীন খন্দকার মোশারফ হোসেনকে স্যালাইন পানি ও মিষ্টি খাইয়ে কিছুক্ষণ বসিয়ে রাখেন।
প্রায় ১০ মিনিট বিশ্রাম নেওয়ার পর আবার বক্তব্য রাখেন খন্দকার মোশাররফ। এরপর মিনিট দুয়েক কথা বলে দ্রুত জনসভাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মহিউদ্দীন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডায়বেটিকজনিত সমস্যায় তার (মন্ত্রী) সুগার কমে গিয়েছিল। পরে স্যালাইন পানি ও মিষ্টি খাইয়ে তাকে সুস্থ করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।
জনসভাস্থল ত্যাগ করার আগে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ক্ষমতা সরকার বা আওয়ামী লীগের নেই। যদি তাকে (খালেদা জিয়া) কারামুক্ত করতে হয় তাহলে আইনের মাধ্যমে মুক্ত করতে হবে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আন্দোলন করে কোন দাগি আসামিকে কি মুক্ত করা যায়? যায় না। আপনারা বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে চান আইনি ব্যবস্থায় যান। হাইকোর্টে যান, সুপ্রিম কোটে যান। তারা যদি বেগম জিয়াকে মুক্ত করে, আমাদের কি ঠেকা আছে?’
‘আমরা তো চাই বিএনপির নেত্রী এসে নির্বাচন করুক। আমরা দুর্বল টিমের সাথে কেন খেলতে যাব?’ ‘আমার বলতে দ্বিধা নেই, আপনাদের (বিএনপি) পায়ের তলায় মাটি নেই, সরে গেছে। নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছেন।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির কোনো তুলনা হয় না মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম জনগণের মাধ্যমে। আর বিএনপির জন্ম বন্দুকের নলের মুখে, ক্যান্টনমেন্টে বসে। আপনাদের সাথে আওয়ামী লীগের বিএনপির তুলনা হয় না।’
মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জেলা প্রশাসক নাজমুস সাদাত সেলিম, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















