ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন: পার্থ নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা দেখছি না: জি এম কাদের সংবিধানের দুর্বলতা দূর করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করব: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না : সুজন

আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিন্তু বিচার পাইনি: আদিবাসী নেত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। আদিবাসী বলে কি বিচার হয়নি আমার ধর্ষণের ঘটনার?’

শুক্রবার যৌন সন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেনশনে উপস্থিত এক আদিবাসী নারী নেত্রীর এমন প্রশ্নের জবাব দেয়ার কেউ ছিল না।

রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এই গণ কনভেনশনে ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘যদি বিচার হতো তাহলে আর কোন মা বোনকে ধর্ষণের শিকার হতে হতো না। আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে যদি বিচার করি তাহলে আর এমন ঘটনা ঘটবে না।’

হয়রানির শিকার হয়ে চুপ না থাকারও আহ্বান জানান ওই আদিবাসী নেত্রী। বলেন, ‘যৌন হয়রানির শিকার হয়ে মেয়েরা ভাবে, যদি তা প্রকাশ করি তাহলে হয়ত এই সমাজে আমার আর বিয়ে হবে না। তাই তারা মুখ বন্ধ করে থাকে। কিন্তু আমরা মুখ বন্ধ করে থাকব না। আমাদের সব প্রকাশ করতে হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আর ধর্ষণের বিচার যেন দ্রুত হয় সেই দিকটা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সাম্প্রতিক সময় ব্যাপকহারে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিশোরী এমনকি দুই বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের অভিযোগও আসছে গণমাধ্যমে। সেই সঙ্গে হাটে, বাজারে, দোকানে এমনকি গণপরিবহনে ধর্ষণ চেষ্টা বা যৌন হয়রানির অভিযোগ এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে ধর্ষণবিরোধী জনমতও আগের চেয়ে প্রবল হচ্ছে। এই বাস্তবতায় হলো এই কনভেনশন।

এতে যোগ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি বিচারপতি জিনাত আরাও। তিনি এসব মামলার বিচারের সময় নানা অন্যায্য কথা হয় বলেও জানান। বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় ধর্ষণের শিকার ভিকটিমকে এমন ভাবে ধর্ষণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়; তাতে সে আবারও ধর্ষণ হবার মতো অবস্থায় পরে। এমনকি ধর্ষিতা নারীর চরিত্র নিয়েও কথা বলা হয়।’

‘অনেক সময় প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করে হাসাহাসি করেন। একজন মেয়ে হয়ত অভাবের তাড়নায় পতিতাবৃত্তিতে জড়িত। কিন্তু তাকে কি ধর্ষণ করার অধিকার কারও কি আছে।’

উচ্চ আদালতের এই বিচারক বলেন, ‘এখন ধর্ষণ নিয়ে অনেক মিথ্যা মামলা হচ্ছে। তাই বেশির ভাগ সময় ধর্ষণ মামলা হলে ভাবা হচ্ছে তা অসত্য। কিন্তু সব ক্ষেত্রে মামলা গুলো অসত্য না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসত্য আছে।’

‘এখন বিয়ের আশ্বাস দিয়েও ধর্ষণের পরিমাণ বেড়েছে। আর তাই মামলাও অনেক বেড়ে গেছে।’

নানা কারণে ধর্ষণের মামলার বিচার হয় না জানিয়ে এই বিচারপতি বলেন, ‘অনেক সময় ধর্ষণ হওয়ার পর নারীরা ভাবেন তিনি অনেক অপবিত্র হয়ে গেছেন। তাই সে বার বার গোসল করেন। এতে মা্মলার আলামত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিচার ক্ষেত্রে অনেক বড় বাধা হয়ে যায়।’

‘আবার আমাদের দেশে সব জায়গাতে ঠিক মতো ডিএনএ টেস্ট ঠিক মত করাও হয় না।’

‘ধর্ষণ মামলাটি বিচারিক আদালতে অনেক পরে আসে। এর আগে গ্রামের মাতব্বরা মীমাংসা করার চেষ্টা করেন বা টাকা দিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা হয়। ফলে মামলা যদি কেউ করেনও ধর্ষণের সকল আলামত এত দিনে নষ্ট হয়ে যায়। আবার ধর্ষণ হওয়ার পর সাক্ষী অভাবে ধর্ষণ মামলা বেশি দূর এগুতে পারে না।’

নারী নেত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, ‘একটা নারীর জন্মের পর তার বাবা, স্বামী ও ছেলেরা তাদের রক্ষাকর্তা। কিন্তু তারা রক্ষা করতে পারে নাই। এমনকি ধর্মও মেয়েদের রক্ষা করতে পারে নাই। তাই নারীদের এখনও ধর্ষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’

‘কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় পরিবার থেকে ধর্ষকের পক্ষ নেওয়া হয়। যেমন বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের বাবা বলেছিলেন এই বয়সে ছেলেরা এইগুলো করতেই পারে। আর এইগুলো একটা নারীর জন্য বড় ধরনের যুদ্ধ। ’

কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক লেলিন চৌধুরী। খেলাঘরের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারপারসন ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসিম আখতার হুসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন: পার্থ

আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিন্তু বিচার পাইনি: আদিবাসী নেত্রী

আপডেট সময় ১১:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো বিচার পাইনি। আদিবাসী বলে কি বিচার হয়নি আমার ধর্ষণের ঘটনার?’

শুক্রবার যৌন সন্ত্রাস বিরোধী গণ কনভেনশনে উপস্থিত এক আদিবাসী নারী নেত্রীর এমন প্রশ্নের জবাব দেয়ার কেউ ছিল না।

রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এই গণ কনভেনশনে ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘যদি বিচার হতো তাহলে আর কোন মা বোনকে ধর্ষণের শিকার হতে হতো না। আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে যদি বিচার করি তাহলে আর এমন ঘটনা ঘটবে না।’

হয়রানির শিকার হয়ে চুপ না থাকারও আহ্বান জানান ওই আদিবাসী নেত্রী। বলেন, ‘যৌন হয়রানির শিকার হয়ে মেয়েরা ভাবে, যদি তা প্রকাশ করি তাহলে হয়ত এই সমাজে আমার আর বিয়ে হবে না। তাই তারা মুখ বন্ধ করে থাকে। কিন্তু আমরা মুখ বন্ধ করে থাকব না। আমাদের সব প্রকাশ করতে হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আর ধর্ষণের বিচার যেন দ্রুত হয় সেই দিকটা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সাম্প্রতিক সময় ব্যাপকহারে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিশোরী এমনকি দুই বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের অভিযোগও আসছে গণমাধ্যমে। সেই সঙ্গে হাটে, বাজারে, দোকানে এমনকি গণপরিবহনে ধর্ষণ চেষ্টা বা যৌন হয়রানির অভিযোগ এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে ধর্ষণবিরোধী জনমতও আগের চেয়ে প্রবল হচ্ছে। এই বাস্তবতায় হলো এই কনভেনশন।

এতে যোগ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি বিচারপতি জিনাত আরাও। তিনি এসব মামলার বিচারের সময় নানা অন্যায্য কথা হয় বলেও জানান। বলেন, ‘বেশির ভাগ সময় ধর্ষণের শিকার ভিকটিমকে এমন ভাবে ধর্ষণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়; তাতে সে আবারও ধর্ষণ হবার মতো অবস্থায় পরে। এমনকি ধর্ষিতা নারীর চরিত্র নিয়েও কথা বলা হয়।’

‘অনেক সময় প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করে হাসাহাসি করেন। একজন মেয়ে হয়ত অভাবের তাড়নায় পতিতাবৃত্তিতে জড়িত। কিন্তু তাকে কি ধর্ষণ করার অধিকার কারও কি আছে।’

উচ্চ আদালতের এই বিচারক বলেন, ‘এখন ধর্ষণ নিয়ে অনেক মিথ্যা মামলা হচ্ছে। তাই বেশির ভাগ সময় ধর্ষণ মামলা হলে ভাবা হচ্ছে তা অসত্য। কিন্তু সব ক্ষেত্রে মামলা গুলো অসত্য না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসত্য আছে।’

‘এখন বিয়ের আশ্বাস দিয়েও ধর্ষণের পরিমাণ বেড়েছে। আর তাই মামলাও অনেক বেড়ে গেছে।’

নানা কারণে ধর্ষণের মামলার বিচার হয় না জানিয়ে এই বিচারপতি বলেন, ‘অনেক সময় ধর্ষণ হওয়ার পর নারীরা ভাবেন তিনি অনেক অপবিত্র হয়ে গেছেন। তাই সে বার বার গোসল করেন। এতে মা্মলার আলামত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বিচার ক্ষেত্রে অনেক বড় বাধা হয়ে যায়।’

‘আবার আমাদের দেশে সব জায়গাতে ঠিক মতো ডিএনএ টেস্ট ঠিক মত করাও হয় না।’

‘ধর্ষণ মামলাটি বিচারিক আদালতে অনেক পরে আসে। এর আগে গ্রামের মাতব্বরা মীমাংসা করার চেষ্টা করেন বা টাকা দিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা হয়। ফলে মামলা যদি কেউ করেনও ধর্ষণের সকল আলামত এত দিনে নষ্ট হয়ে যায়। আবার ধর্ষণ হওয়ার পর সাক্ষী অভাবে ধর্ষণ মামলা বেশি দূর এগুতে পারে না।’

নারী নেত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, ‘একটা নারীর জন্মের পর তার বাবা, স্বামী ও ছেলেরা তাদের রক্ষাকর্তা। কিন্তু তারা রক্ষা করতে পারে নাই। এমনকি ধর্মও মেয়েদের রক্ষা করতে পারে নাই। তাই নারীদের এখনও ধর্ষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’

‘কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় পরিবার থেকে ধর্ষকের পক্ষ নেওয়া হয়। যেমন বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের বাবা বলেছিলেন এই বয়সে ছেলেরা এইগুলো করতেই পারে। আর এইগুলো একটা নারীর জন্য বড় ধরনের যুদ্ধ। ’

কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক লেলিন চৌধুরী। খেলাঘরের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারপারসন ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসিম আখতার হুসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।