ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মোদির সমালোচনা করলেই সাংবাদিকদের হয়রানি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের সংবিধানে বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া আছে। বলা হয়, দেশটিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ গণমাধ্যমও রয়েছে।

কিন্তু দেশটির সাংবাদিকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধ করতে তাদের ক্রমাগত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

মোদি সরকারের হুমকির মুখে গত ছয় মাসে অন্তত তিনজন জ্যেষ্ঠ সম্পাদককে তাদের পদ ছাড়তে হয়েছে। সরকারের সমালোচনা করে খবর প্রকাশ করায় ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির( বিজেপি) ক্ষোভের কারণ হয়েছিলেন তারা।

বেশ কয়েকজন প্রতিবেদক, টেলিভিশন অ্যাংকরের সঙ্গে কথা বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের শারীরিকভাবে হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। সামাজিকভাবে হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের।

বুধবার প্রকাশিত বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বিশ্বের ১৮০ দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৩৮তম। ২০১৭ সাল থেকে তাদের দুই ধাপ অবনমন হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক প্যারিসভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলেছে, বাকস্বাধীনতা প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের চেয়েও নিচে অবস্থান করছে। ২০০২ সালের গণমাধ্যম সূচকে ১৩৯ দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ছিল ৮০তম। সেখান থেকে দেশটি ক্রমাগত নিচের দিকে যাচ্ছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলেছে, নিজেদের ইশতেহার অনুসারে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যে খবরকে দেশবিরোধী বলে ভাবে, তারা সেটি প্রকাশ্যেই বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে। এতে করে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে মূলস্রোতের গণমাধ্যম নিজেরাই সরকারবিরোধী খবর কম ছাপছে।

অনলাইন উগ্রজাতীয়তাবাদীদের অপপ্রচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। সংস্থাটি বলছে, সাংবাদিকদের নিয়ে নোংরা প্রচারের পাশাপাশি তাদের শারীরিকভাবে আঘাতেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে অস্বীকার করছে দেশটির সরকার। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভারতের প্রথম বেসামরিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রান্নয় রয় বলেন, ভারতের গণমাধ্যম এখন ব্যাপক আগ্রাসী ত্রাসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মোদির সমালোচনা করলেই সাংবাদিকদের হয়রানি

আপডেট সময় ০২:২৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের সংবিধানে বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া আছে। বলা হয়, দেশটিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ গণমাধ্যমও রয়েছে।

কিন্তু দেশটির সাংবাদিকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধ করতে তাদের ক্রমাগত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

মোদি সরকারের হুমকির মুখে গত ছয় মাসে অন্তত তিনজন জ্যেষ্ঠ সম্পাদককে তাদের পদ ছাড়তে হয়েছে। সরকারের সমালোচনা করে খবর প্রকাশ করায় ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির( বিজেপি) ক্ষোভের কারণ হয়েছিলেন তারা।

বেশ কয়েকজন প্রতিবেদক, টেলিভিশন অ্যাংকরের সঙ্গে কথা বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তাদের শারীরিকভাবে হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। সামাজিকভাবে হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের।

বুধবার প্রকাশিত বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বিশ্বের ১৮০ দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৩৮তম। ২০১৭ সাল থেকে তাদের দুই ধাপ অবনমন হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক প্যারিসভিত্তিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলেছে, বাকস্বাধীনতা প্রকাশের ক্ষেত্রে তারা জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের চেয়েও নিচে অবস্থান করছে। ২০০২ সালের গণমাধ্যম সূচকে ১৩৯ দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ছিল ৮০তম। সেখান থেকে দেশটি ক্রমাগত নিচের দিকে যাচ্ছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স বলেছে, নিজেদের ইশতেহার অনুসারে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা যে খবরকে দেশবিরোধী বলে ভাবে, তারা সেটি প্রকাশ্যেই বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে। এতে করে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাস থেকে বাঁচতে মূলস্রোতের গণমাধ্যম নিজেরাই সরকারবিরোধী খবর কম ছাপছে।

অনলাইন উগ্রজাতীয়তাবাদীদের অপপ্রচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। সংস্থাটি বলছে, সাংবাদিকদের নিয়ে নোংরা প্রচারের পাশাপাশি তাদের শারীরিকভাবে আঘাতেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে অস্বীকার করছে দেশটির সরকার। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভারতের প্রথম বেসামরিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রান্নয় রয় বলেন, ভারতের গণমাধ্যম এখন ব্যাপক আগ্রাসী ত্রাসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।