ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বাসে যৌন হয়রানি, পুলিশের কাছে আরও হয়রানি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীতে আবার বাসে এক চাকরিজীবী নারীর যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি লালবাগ থাকায় বিচার চাইতে গেলে সেখানে গিয়েও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এমনকি তাকে থানা থেকে বের করে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী অভিযোগ, যে যুবক তাকে লাঞ্ছিত করেছেন, পুলিশ তাকে বাঁচাতে মরিয়া ছিল। এর কোনো কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না। এমনকি একজন পুলিশ সদস্য তাকে এমনও বলেন যে, নারীদেরকে এগুলো মেনে নিতেই হবে।

ভুক্তভোগী ওই নারী দৈনিক আকাশকে জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে তিনি ও তার এক নারী সহকর্মী মোহাম্মদপুরের আসাদ গেট থেকে ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। সামনের দিকে আসন ফাঁকা না থাকায় তারা দুই পেছনের আসনে বসেছিলেন।

হঠাৎ পেছনে থেকে কয়েকজন যুবক তাদেরকে উদ্দেশ্যে করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছুড়ে দেন। এ সময় প্রতিবাদ জানান দুই নারী। তখন বাসের পুরুষ যাত্রীরাও ওই যুবকদের পক্ষ নেয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন।

আজিমপুর পৌঁছলে বাস থেকে নেমে পুলিশকে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী এক নারী। আর এরপর লালবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মাজিদ বাস থেকে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে আজিমপুরের একটি দোকানের সামনে নিয়ে যান।

ওই নারী বলেন, ‘আমি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশের কনস্টেবল বিশ্বনাথ বলেন, ‘নারীরা তো ইভটিজিংয়ের শিকার হবেই।’ এ সময় অভিযুক্ত ওই যুবক এএসআই মাজিদের সঙ্গে পাশে গিয়ে একান্তে কথা বলেন।

পরে এই পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে বলেন, ‘আপা এটা নিয়ে আর বেশি দূর না যাওয়ায় ভালো। আপনি মহিলা মানুষ, মামলা হলে সেটা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি কষ্ট হবে।’

এরপর ওই যুবককে ‘সরি’ বলতে বলেন এএসআই মাজিদ। এরপর অভিযোগকারীর অনুমতি ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেন তিনি।

‘এরপর আমি ও আমার মা বিষয়টি নিয়ে লালবাগ থানার ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রুমে গিয়ে তাকে বিষয়টি বলা হলে তিনি এএসআই মাজিদকে ডেকে পাঠান। পরে সে আসছি বলে আর ওসির রুমে না আসলে আমরা বলি আপনি থানার বড় কর্মকর্তা আমাদেরও অনেক আত্মীয় আছে পুলিশে’-দৈনিক আকাশকে বলেন ভুক্তভোগী নারী।

“এই কথা বলতেই ওসি আমাদের উপর ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘আপনাদের বড় অফিসার আছে সেখানে যান, বলে তার রুম থেকে বের করে দেন’।”

কোন কর্তৃত্ববলে অভিযোগকারীর অনুমতি ছাড়া ‘হয়রানিতে’ জড়িত যুবককে ছেড়ে দিয়েছেন-জানতে চাইলে এসআই আব্দুল মাজিদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘ঘটনার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি ও আমার ফোর্স সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত যুবককে আটক করি। পরে স্থানীয়রা ও বাসের অন্য ওই নারীকে বলল, এটা নিয়ে আর বেশি দূর না গিয়ে মাফ চাইতে। পরে ওই যুবক মাফ চাইলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

ওই নারী মামলা থানায় অভিযোগ দিতে চাইলেও কেন তা আমলে নেওয়া হলো না জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে ব্যাপারে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভাষ চন্দ্র পাল দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘ঘটনার পর তারা থানায় এসেছিলো আমার অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে। তবে তাদের ব্যবহার বা আচরণগত সমস্যা ছিল। স্থানীয় অনেকে বসেছিলেন, তাদের কাছেও শুনতে পারেন’- বলে নিজের ও এএসআই মাজিদের পক্ষে সাফাই করেন ওসি সুভাষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বাসে যৌন হয়রানি, পুলিশের কাছে আরও হয়রানি

আপডেট সময় ১১:১১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীতে আবার বাসে এক চাকরিজীবী নারীর যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি লালবাগ থাকায় বিচার চাইতে গেলে সেখানে গিয়েও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এমনকি তাকে থানা থেকে বের করে দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী অভিযোগ, যে যুবক তাকে লাঞ্ছিত করেছেন, পুলিশ তাকে বাঁচাতে মরিয়া ছিল। এর কোনো কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না। এমনকি একজন পুলিশ সদস্য তাকে এমনও বলেন যে, নারীদেরকে এগুলো মেনে নিতেই হবে।

ভুক্তভোগী ওই নারী দৈনিক আকাশকে জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে তিনি ও তার এক নারী সহকর্মী মোহাম্মদপুরের আসাদ গেট থেকে ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। সামনের দিকে আসন ফাঁকা না থাকায় তারা দুই পেছনের আসনে বসেছিলেন।

হঠাৎ পেছনে থেকে কয়েকজন যুবক তাদেরকে উদ্দেশ্যে করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছুড়ে দেন। এ সময় প্রতিবাদ জানান দুই নারী। তখন বাসের পুরুষ যাত্রীরাও ওই যুবকদের পক্ষ নেয়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন।

আজিমপুর পৌঁছলে বাস থেকে নেমে পুলিশকে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী এক নারী। আর এরপর লালবাগ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মাজিদ বাস থেকে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে আজিমপুরের একটি দোকানের সামনে নিয়ে যান।

ওই নারী বলেন, ‘আমি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশের কনস্টেবল বিশ্বনাথ বলেন, ‘নারীরা তো ইভটিজিংয়ের শিকার হবেই।’ এ সময় অভিযুক্ত ওই যুবক এএসআই মাজিদের সঙ্গে পাশে গিয়ে একান্তে কথা বলেন।

পরে এই পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীকে বলেন, ‘আপা এটা নিয়ে আর বেশি দূর না যাওয়ায় ভালো। আপনি মহিলা মানুষ, মামলা হলে সেটা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি কষ্ট হবে।’

এরপর ওই যুবককে ‘সরি’ বলতে বলেন এএসআই মাজিদ। এরপর অভিযোগকারীর অনুমতি ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেন তিনি।

‘এরপর আমি ও আমার মা বিষয়টি নিয়ে লালবাগ থানার ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রুমে গিয়ে তাকে বিষয়টি বলা হলে তিনি এএসআই মাজিদকে ডেকে পাঠান। পরে সে আসছি বলে আর ওসির রুমে না আসলে আমরা বলি আপনি থানার বড় কর্মকর্তা আমাদেরও অনেক আত্মীয় আছে পুলিশে’-দৈনিক আকাশকে বলেন ভুক্তভোগী নারী।

“এই কথা বলতেই ওসি আমাদের উপর ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘আপনাদের বড় অফিসার আছে সেখানে যান, বলে তার রুম থেকে বের করে দেন’।”

কোন কর্তৃত্ববলে অভিযোগকারীর অনুমতি ছাড়া ‘হয়রানিতে’ জড়িত যুবককে ছেড়ে দিয়েছেন-জানতে চাইলে এসআই আব্দুল মাজিদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘ঘটনার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি ও আমার ফোর্স সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত যুবককে আটক করি। পরে স্থানীয়রা ও বাসের অন্য ওই নারীকে বলল, এটা নিয়ে আর বেশি দূর না গিয়ে মাফ চাইতে। পরে ওই যুবক মাফ চাইলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

ওই নারী মামলা থানায় অভিযোগ দিতে চাইলেও কেন তা আমলে নেওয়া হলো না জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে ব্যাপারে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভাষ চন্দ্র পাল দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘ঘটনার পর তারা থানায় এসেছিলো আমার অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে। তবে তাদের ব্যবহার বা আচরণগত সমস্যা ছিল। স্থানীয় অনেকে বসেছিলেন, তাদের কাছেও শুনতে পারেন’- বলে নিজের ও এএসআই মাজিদের পক্ষে সাফাই করেন ওসি সুভাষ।