ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী সীমান্তে বিজিবি এখন সাহস ফিরে পেয়েছে: রাশেদ খান জনবান্ধব নয় গরিবের ওপর চাপানো বাজেট:সংসদে রফিকুল ইসলাম খান বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক যেপথে গেছেন শেখ হাসিনা, সেপথে যাবেন তারেক রহমান: মামুনুল হক চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি কক্সবাজার যাওয়ার পথে রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশু ফিরে পেল পাকিস্তানি পরিবার ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর

প্রার্থীর বিরোধিতা নয়, শেখ হাসিনার কাছে নেতাদের শপথ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে হাত তুলে শপথ করেছেন অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে দুই মহানগরের জন্য প্রার্থী বাছাই করা হয়। মোট ১৮ জনের সাক্ষাৎকার শেষে গাজীপুরের জন্য জাহাঙ্গীর আলম এবং খুলনার জন্য তালুকদার আবদুল খালেককে বেছে নেয় আওয়ামী লীগ। এ সময় শেখ হাসিনা সবাইকে দুই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে শপথ পড়ান।

২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর খুলনায় দৃশ্যমান উন্নয়ন করলেও ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে বিএনপির মনিরুজ্জামান মনির কাছে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যান তালুকদার আবদুল খালেক।

খুলনার চেয়ে তখন গাজীপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়টা ছিল বিস্ময়কর। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত নির্বাচনী এলাকায় দেড় লাখ ভোটে জিতে যান বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান।

দুটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীও অপ্রত্যাশিত হারের পেছনে অন্য অনেক কারণের সঙ্গে দলীয় কোন্দলটিও সামনে এসেছিল। আর গতবার দলের একাংশের সহযোগিতা না পাওয়া খালেক এবার ভোটে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছিলেন।

খালেককেই মনোনয়ন দেয়ার পর তাকে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হবে। সেখানে উপনির্বাচনে তার স্ত্রী হাবিবুন নাহারকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে।

তবে খালেক গত নির্বাচনে দলের একাংশের বিরোধিতার বিষয়টি ভুলতে পারেননি। তিনি এই বিষয়টিও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে তুলেন।

খুলনায় ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরোধ ছিল নীরব। কিন্তু গাজীপুরে ছিল প্রকাশ্য। আজমত উল্লাহ খানকে আওয়ামী লীগ তখন সমর্থন দিলেন এবার মনোনয়ন পাওয়া জাহাঙ্গীর আলম নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। আর এরপর হঠাৎ তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। কয়েকদিন পর তার দেখা মেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে। আর সেখান থেকে গাজীপুর ফিওে কাঁদতে কাঁদতে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। তবে জাহাঙ্গীরের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী আজমত উল্লাহর পক্ষে আর কাজ করেনি বলে তথ্য পাওয়া যায়।

এবারও দুই মহানগরে ভোট হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের বছরে। আবার প্রার্থীরা লড়বেন দলীয় প্রতীকে। এই অবস্থায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতি যেন না হয়, সে দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছেন শেখ হাসিনা। দলের মধ্যে কোন্দল বা এক নেতা অন্য নেতাকে অপছন্দ করেন বলে ভোটে হারতে রাজি নন তিনি।

তাই মনোনয়ন বোর্ডেও বৈঠকেই তিন কড়া নির্দেশ দিয়েছে, কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে তাৎক্ষণিক। তার দলীয় প্রধানকে মনোনয়নবঞ্চিতরা কথাও দিয়ে আসেন যে তারা কাজ করবেন একাট্টা হয়ে। এরপর শেখ হাসিনা হাত তুলে সবাইকে শপথ পড়ান।

মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন দৈনিক আকাশকে জানান, ‘যারা মেয়র প্রার্থী ছিলেন, তারা সর্বসম্মতিক্রমে দলের প্রধান শেখ হাসিনার সামনে হাত উঁচু করে শপথ করে খালেককে সমর্থন করার কথা দিয়েছেন।’

‘কেউ কেউ প্রস্তাব দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যাবেক্ষণ করবেন। যদি কেউ কোনো রকম সংগঠনবিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ও শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বাইরে যায় বা এদিক-ওদিক করে তাহলে দল তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেবে না।’

কামাল বলেন, ‘আগ্রহী প্রার্থীদের সকলেই তাদের বক্তৃতায় বলেন প্রার্থী হয়েছে জানিয় সন্তোষ জানিয়েছেন। বলেছেন, সবাই জয়ের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।’

খালেককে খুলনায় ভোট করতে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসন ছেড়ে দিতে হবে। এই আসনে তার স্ত্রী হাবিবুন নাহারকে দল মনোনয়ন দেবে বলে বলেও শেখ হাসিনা জানিয়েছেন বলেও জানান এস এম কামাল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘আবরার ফাহাদ’ নামে হল নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব: শিক্ষামন্ত্রী

প্রার্থীর বিরোধিতা নয়, শেখ হাসিনার কাছে নেতাদের শপথ

আপডেট সময় ১১:৫৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে হাত তুলে শপথ করেছেন অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে দুই মহানগরের জন্য প্রার্থী বাছাই করা হয়। মোট ১৮ জনের সাক্ষাৎকার শেষে গাজীপুরের জন্য জাহাঙ্গীর আলম এবং খুলনার জন্য তালুকদার আবদুল খালেককে বেছে নেয় আওয়ামী লীগ। এ সময় শেখ হাসিনা সবাইকে দুই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে শপথ পড়ান।

২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর খুলনায় দৃশ্যমান উন্নয়ন করলেও ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে বিএনপির মনিরুজ্জামান মনির কাছে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যান তালুকদার আবদুল খালেক।

খুলনার চেয়ে তখন গাজীপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়টা ছিল বিস্ময়কর। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত নির্বাচনী এলাকায় দেড় লাখ ভোটে জিতে যান বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান।

দুটি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীও অপ্রত্যাশিত হারের পেছনে অন্য অনেক কারণের সঙ্গে দলীয় কোন্দলটিও সামনে এসেছিল। আর গতবার দলের একাংশের সহযোগিতা না পাওয়া খালেক এবার ভোটে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছিলেন।

খালেককেই মনোনয়ন দেয়ার পর তাকে বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হবে। সেখানে উপনির্বাচনে তার স্ত্রী হাবিবুন নাহারকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে।

তবে খালেক গত নির্বাচনে দলের একাংশের বিরোধিতার বিষয়টি ভুলতে পারেননি। তিনি এই বিষয়টিও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে তুলেন।

খুলনায় ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরোধ ছিল নীরব। কিন্তু গাজীপুরে ছিল প্রকাশ্য। আজমত উল্লাহ খানকে আওয়ামী লীগ তখন সমর্থন দিলেন এবার মনোনয়ন পাওয়া জাহাঙ্গীর আলম নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। আর এরপর হঠাৎ তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। কয়েকদিন পর তার দেখা মেলে ঢাকার একটি হাসপাতালে। আর সেখান থেকে গাজীপুর ফিওে কাঁদতে কাঁদতে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। তবে জাহাঙ্গীরের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী আজমত উল্লাহর পক্ষে আর কাজ করেনি বলে তথ্য পাওয়া যায়।

এবারও দুই মহানগরে ভোট হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের বছরে। আবার প্রার্থীরা লড়বেন দলীয় প্রতীকে। এই অবস্থায় পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতি যেন না হয়, সে দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছেন শেখ হাসিনা। দলের মধ্যে কোন্দল বা এক নেতা অন্য নেতাকে অপছন্দ করেন বলে ভোটে হারতে রাজি নন তিনি।

তাই মনোনয়ন বোর্ডেও বৈঠকেই তিন কড়া নির্দেশ দিয়েছে, কেউ দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে তাৎক্ষণিক। তার দলীয় প্রধানকে মনোনয়নবঞ্চিতরা কথাও দিয়ে আসেন যে তারা কাজ করবেন একাট্টা হয়ে। এরপর শেখ হাসিনা হাত তুলে সবাইকে শপথ পড়ান।

মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন দৈনিক আকাশকে জানান, ‘যারা মেয়র প্রার্থী ছিলেন, তারা সর্বসম্মতিক্রমে দলের প্রধান শেখ হাসিনার সামনে হাত উঁচু করে শপথ করে খালেককে সমর্থন করার কথা দিয়েছেন।’

‘কেউ কেউ প্রস্তাব দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যাবেক্ষণ করবেন। যদি কেউ কোনো রকম সংগঠনবিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ও শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বাইরে যায় বা এদিক-ওদিক করে তাহলে দল তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেবে না।’

কামাল বলেন, ‘আগ্রহী প্রার্থীদের সকলেই তাদের বক্তৃতায় বলেন প্রার্থী হয়েছে জানিয় সন্তোষ জানিয়েছেন। বলেছেন, সবাই জয়ের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।’

খালেককে খুলনায় ভোট করতে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মংলা) আসন ছেড়ে দিতে হবে। এই আসনে তার স্ত্রী হাবিবুন নাহারকে দল মনোনয়ন দেবে বলে বলেও শেখ হাসিনা জানিয়েছেন বলেও জানান এস এম কামাল।