ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মজহার দম্পতির মামলা বিশেষ জজ আদালতে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার দম্পতির দায়ের করা রিভিশন মামলা বিশেষ জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বদলি করেন।

ওই দম্পতির আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদন মেজবাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম অপহরণের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই সঙ্গে মিথ্যা অপহরণের মামলা করে বিভ্রান্ত ও হয়রানির করার অভিযোগে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়েরের অনুমতি প্রার্থনা করেন। এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর সিএমএম আদালতে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী মানবাধিকার কর্মী ফরিদার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। এরপর ৩১ ডিসেম্বর আদালত ওই দম্পত্তিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। ওই পুলিশ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তারা রিভিশন মামলাটি দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপহরণ হন বলে আদাবর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন আলোচিত এই ব্যক্তির স্ত্রী মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আখতার। পুলিশ প্রথমে ফরহাদ মজহারের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে খুলনায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে খুলনার পরিচিত একটি রেস্টুরেন্টে তিনি খাবার খেয়েছিলেন বলে প্রমাণ পায়। এরপর খুলনা থেকে ঢাকার পথে একটি বাসে মিস্টার গফুর নামে টিকিট কাটেন ফরহাদ মজহার। যশোরের অভয়নগর এলাকায় বাসে তল্লাশি চালিয়ে রাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে সকালে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় তাকে। পরে আদাবর থানা থেকে গত ৪ জুলাই দুপুরের দিকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় ফরহাদ মজহারকে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তিনি অপহত হয়েছিলেন মর্মে জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে নিজ জিম্মায় বাড়ি ফেরার অনুমতি দেন।

এরপর মামলাটিতে গত ৬ জুলাই নাজমুস সাদাত সাদী হানিফ পরিবহনের এক কর্মচারী এবং গত ১০ জুলাই অর্চনা নামে এক নারী সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

ফরিদা আখতারের করা মামলায় বলা হয়, আমার স্বামী সাধারণত খুব ভোরে ঘুম থেকে জাগেন এবং লেখালেখি করেন। ভোর ৫টার দিকে আমার ঘুম ভাঙার পর আমি ওনাকে লেখার টেবিলে না দেখতে পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি এবং সারা ঘরে খুঁজতে থাকি। ইতোমধ্যে সকাল ৫টা ২৯ মিনিটে আমার স্বামী তার ফোন থেকে আমাকে কল দেন। তিনি ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে।’ এর পর ফোনটি কেটে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই সারা দিনে ফরহাদ মজহারের ফোন থেকে আরও চারবার কল পান ফরিদা। সেসব ফোনালাপে ফরহাদ মজহার জানান, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে; ওই টাকা পেলে তারা তাকে ছেড়ে দেবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মজহার দম্পতির মামলা বিশেষ জজ আদালতে

আপডেট সময় ০৩:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার দম্পতির দায়ের করা রিভিশন মামলা বিশেষ জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বদলি করেন।

ওই দম্পতির আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদন মেজবাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম অপহরণের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই সঙ্গে মিথ্যা অপহরণের মামলা করে বিভ্রান্ত ও হয়রানির করার অভিযোগে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়েরের অনুমতি প্রার্থনা করেন। এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর সিএমএম আদালতে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী মানবাধিকার কর্মী ফরিদার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। এরপর ৩১ ডিসেম্বর আদালত ওই দম্পত্তিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। ওই পুলিশ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তারা রিভিশন মামলাটি দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপহরণ হন বলে আদাবর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন আলোচিত এই ব্যক্তির স্ত্রী মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আখতার। পুলিশ প্রথমে ফরহাদ মজহারের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে খুলনায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে খুলনার পরিচিত একটি রেস্টুরেন্টে তিনি খাবার খেয়েছিলেন বলে প্রমাণ পায়। এরপর খুলনা থেকে ঢাকার পথে একটি বাসে মিস্টার গফুর নামে টিকিট কাটেন ফরহাদ মজহার। যশোরের অভয়নগর এলাকায় বাসে তল্লাশি চালিয়ে রাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে সকালে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় তাকে। পরে আদাবর থানা থেকে গত ৪ জুলাই দুপুরের দিকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় ফরহাদ মজহারকে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তিনি অপহত হয়েছিলেন মর্মে জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে নিজ জিম্মায় বাড়ি ফেরার অনুমতি দেন।

এরপর মামলাটিতে গত ৬ জুলাই নাজমুস সাদাত সাদী হানিফ পরিবহনের এক কর্মচারী এবং গত ১০ জুলাই অর্চনা নামে এক নারী সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

ফরিদা আখতারের করা মামলায় বলা হয়, আমার স্বামী সাধারণত খুব ভোরে ঘুম থেকে জাগেন এবং লেখালেখি করেন। ভোর ৫টার দিকে আমার ঘুম ভাঙার পর আমি ওনাকে লেখার টেবিলে না দেখতে পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি এবং সারা ঘরে খুঁজতে থাকি। ইতোমধ্যে সকাল ৫টা ২৯ মিনিটে আমার স্বামী তার ফোন থেকে আমাকে কল দেন। তিনি ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে।’ এর পর ফোনটি কেটে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই সারা দিনে ফরহাদ মজহারের ফোন থেকে আরও চারবার কল পান ফরিদা। সেসব ফোনালাপে ফরহাদ মজহার জানান, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে; ওই টাকা পেলে তারা তাকে ছেড়ে দেবে।