ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত হলে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে জনপ্রশাসন হবে জনবান্ধব: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির তারেক রহমান এখন শেখ হাসিনার পথে হাঁটছেন: সারজিস আলম ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেবে ইউজিসি রক্তমাখা পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ জুলাই যোদ্ধা শেখ আজিজুরের দুই মাসের মধ্যে রমেক হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা ২০টিতে উন্নীত করা হবে: আসাদুল হাবীব দুলু আ.লীগ যেভাবে হামলা করেছিল, একইভাবে বিএনপি করছে: নাহিদ ইসলাম পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে বরদাশত করা হবে না: মেয়র শাহাদাত বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার

পাইলটের ভুলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়: নেপাল কর্তৃপক্ষ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাইলটের দিক ভুলের কারণে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা থেকে নেপালগামী ইউএস-বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য কাঠমন্ডু পোস্ট।

রাজ কুমার ছেত্রি বলেন, বিমানটি যখন নয় নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল তখন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে দক্ষিণ (০২) রানওয়েতে নামার অনুমতি দেয়। কিন্তু পাইলটি বিমানটিকে উত্তর (০২) রানওয়ের দিকে নিয়ে যায়। তখন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, কোনো সমস্যা আছে কি না। এর জবাবে পাইলট জানিয়েছিলেন, কোনো সমস্যা নেই। অবতরণের আগে দুবার আকাশে চক্কর দেয় বিমানটি। আবার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, সবকিছু কি ঠিক আছে? জবাবে পাইলট জানান, ঠিক আছে। এরপর অবতরণে অসংগতি দেখে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিমানটি ঠিকভাবে অবতরণ করছে না। কিন্তু এ কথার কোনো জবাব পাইলটের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। এরপর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নেপাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউএস-বাংলার বিমানটি বিমানবন্দরে পার্ক করা থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানের লেজের সঙ্গে প্রায় লেগেই যাচ্ছিল।

মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রি বলেন, অবতরণের সময় যথাযথ নির্দেশনায় থাকা উচিত ছিল বিমানটির। কিন্তু বিমানটি কোনো কারণে ওই নির্দেশনায় ছিল না। একপর্যায়ে বিমানটি বিমানবন্দরের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে ও সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫১মিনিটে ইউএস-বাংলার বিমানটি নেপালের উদ্দেশে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় বিমানের ৫০ জন আরোহী নিহত হয়। হাসপাতালে আছেন ১৬ জন এবং নিখোঁজ অন্য আরোহীরা।

বিমানটির দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আর্নিকো পান্ডে নামের একজন নেপালের মাই রিপাবলিকিয়াকে জানান, বিমানটি খুব আস্তে উড়ছিল। বিমানটি টার্মিনালের দক্ষিণ দিকে ঘোরার চেষ্টা করছে আর তখনই এটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। এ সময় বিমান থেকে ধোয়ার কুণ্ডুলি উড়তে দেখা যায়।

নেপালের পর্যটনমন্ত্রী সুরেশ আচার্যকে উদ্ধৃত করে কাঠমন্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে ১৭ জন যাত্রীকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুর জানান, বিমানটি অবতরণ করার সময় এর গায়ে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানটি বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত হলে মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা সহজ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

পাইলটের ভুলে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়: নেপাল কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় ০৫:১৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাইলটের দিক ভুলের কারণে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা থেকে নেপালগামী ইউএস-বাংলার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য কাঠমন্ডু পোস্ট।

রাজ কুমার ছেত্রি বলেন, বিমানটি যখন নয় নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল তখন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে দক্ষিণ (০২) রানওয়েতে নামার অনুমতি দেয়। কিন্তু পাইলটি বিমানটিকে উত্তর (০২) রানওয়ের দিকে নিয়ে যায়। তখন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, কোনো সমস্যা আছে কি না। এর জবাবে পাইলট জানিয়েছিলেন, কোনো সমস্যা নেই। অবতরণের আগে দুবার আকাশে চক্কর দেয় বিমানটি। আবার নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে জানতে চাওয়া হয়, সবকিছু কি ঠিক আছে? জবাবে পাইলট জানান, ঠিক আছে। এরপর অবতরণে অসংগতি দেখে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিমানটি ঠিকভাবে অবতরণ করছে না। কিন্তু এ কথার কোনো জবাব পাইলটের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। এরপর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নেপাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউএস-বাংলার বিমানটি বিমানবন্দরে পার্ক করা থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানের লেজের সঙ্গে প্রায় লেগেই যাচ্ছিল।

মহাব্যবস্থাপক রাজ কুমার ছেত্রি বলেন, অবতরণের সময় যথাযথ নির্দেশনায় থাকা উচিত ছিল বিমানটির। কিন্তু বিমানটি কোনো কারণে ওই নির্দেশনায় ছিল না। একপর্যায়ে বিমানটি বিমানবন্দরের দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে ও সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫১মিনিটে ইউএস-বাংলার বিমানটি নেপালের উদ্দেশে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় বিমানের ৫০ জন আরোহী নিহত হয়। হাসপাতালে আছেন ১৬ জন এবং নিখোঁজ অন্য আরোহীরা।

বিমানটির দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আর্নিকো পান্ডে নামের একজন নেপালের মাই রিপাবলিকিয়াকে জানান, বিমানটি খুব আস্তে উড়ছিল। বিমানটি টার্মিনালের দক্ষিণ দিকে ঘোরার চেষ্টা করছে আর তখনই এটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। এ সময় বিমান থেকে ধোয়ার কুণ্ডুলি উড়তে দেখা যায়।

নেপালের পর্যটনমন্ত্রী সুরেশ আচার্যকে উদ্ধৃত করে কাঠমন্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে ১৭ জন যাত্রীকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুর জানান, বিমানটি অবতরণ করার সময় এর গায়ে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানটি বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।