ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের গণমাধ্যমকে অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে বের করেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী আবু সাঈদ হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক বেতন বৃদ্ধির সমান্তরালে দুর্নীতি দমনেও কঠোর হতে হবে: মুনীর চৌধুরী ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ‘পল্টি মারলেন’ সাকিব আছিয়া-রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি চাইলেন অ্যাটর্নি জেনারেল দুর্ভিক্ষপীড়িত রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সোহেল-স্বপ্নার জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ খুলনায় নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ

বিএনপি নেতাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমাদের যারা নেতৃস্থানীয়, যারা দল পরিচালনা করেন, তাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এই অভিযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। তবে শেষ করার আগেই পুলিশ অনুষ্ঠানের ভেতর থেকে ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান রাজকে হেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে পণ্ড হয়ে যায় কর্মসূচি।

এরপর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। এসময় তিনি কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ করে এর প্রতিবাদে আগামী ১০ তারিখ শনিবার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে ঘটনাগুলো ঘটল। এতটুকু সৌজন্যবোধ তারা দেখায়নি যে, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সেখানে ছিলেন। তাদের সামনেই, আমাদের কর্মসূচি তারা শেষ করতে দেয়নি, সেইভাবেই তারা আক্রমণ করেছে। আজকে এটা হামলা। আমরা পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ধিক্কার জানাচ্ছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কোনো স্বাধীন দেশে এইভাবে গ্রেপ্তার হতে দেখিনি। আমরা এটাকে তুলনা করতে পারি হিটলারের গেস্টাপো বাহিনীর সঙ্গে। অথবা অন্য ডিকটেটরেরা যেভাবে কাজ করেছে গণতান্ত্রিক কর্মীদের ওপর আক্রমণ অত্যাচার করেছে তাদের সঙ্গে।’

ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রীকে কারাগারে নেওয়ার পর আমরা যতগুলো কর্মসূচি দিয়েছি, প্রত্যেকটি কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। এতেই বোঝা যায়, সরকারের গাত্রদাহ হচ্ছে। যে কারণে আজকে তারা উস্কানি দিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে অন্যায়ভাবে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

গত এক মাসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামাস দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানান ফখরুল।

মহাসচিব বলেন, ‘যারা নেতৃস্থানীয় নেতা, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, যারা নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন, দল পরিচালনা করেন, তাদের সরকার বেছে বেছে গ্রেপ্তার করছে। গণতন্ত্র কীভাবে ফিরে আসতে পারে- এইসব দেখে তা সহজেই বোঝা যায়।’

ফখরুল বলেন, ‘তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) কর্মসূচির ভেতরে ঢুকে থাকে, পাশাপাশি থাকে, শ্লোগান দেয় আমাদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিলিয়ে। তারপরে তারা (পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা) আমাদের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে।’

তিনি বলেন, ‘গতকালের মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী যে সমস্ত বক্তব্য রেখেছেন এ বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় গণতন্ত্র শুধু তাদের জন্য। এই দেশটা তাদের। এখানে অন্য কারও কোনো অবস্থান নেই। আমরা দুঃখের সঙ্গে বলছি, অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে বলছি, এই সরকার যে ব্যবস্থা চালু করল, এই অনৈতিক অবৈধ সরকার, এ ব্যবস্থা থেকে আবারও গণতন্ত্রে ফিরে আসা অত্যন্ত দুরূহ কাজ হবে।’

রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে এখনো অনুমতি পায়নি জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমরা আজকেও ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু বলা হয়েছে গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পর অনুমতি দেয়া হবে। কিন্তু আমরা তো নাশকতা করি না। আপনারা (সরকার) নাশকতা করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

বিএনপি নেতাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে: ফখরুল

আপডেট সময় ০৯:২২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আমাদের যারা নেতৃস্থানীয়, যারা দল পরিচালনা করেন, তাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এই অভিযোগ করেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। তবে শেষ করার আগেই পুলিশ অনুষ্ঠানের ভেতর থেকে ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান রাজকে হেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে পণ্ড হয়ে যায় কর্মসূচি।

এরপর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। এসময় তিনি কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ করে এর প্রতিবাদে আগামী ১০ তারিখ শনিবার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে ঘটনাগুলো ঘটল। এতটুকু সৌজন্যবোধ তারা দেখায়নি যে, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সেখানে ছিলেন। তাদের সামনেই, আমাদের কর্মসূচি তারা শেষ করতে দেয়নি, সেইভাবেই তারা আক্রমণ করেছে। আজকে এটা হামলা। আমরা পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ধিক্কার জানাচ্ছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে প্রক্রিয়ায় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কোনো স্বাধীন দেশে এইভাবে গ্রেপ্তার হতে দেখিনি। আমরা এটাকে তুলনা করতে পারি হিটলারের গেস্টাপো বাহিনীর সঙ্গে। অথবা অন্য ডিকটেটরেরা যেভাবে কাজ করেছে গণতান্ত্রিক কর্মীদের ওপর আক্রমণ অত্যাচার করেছে তাদের সঙ্গে।’

ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রীকে কারাগারে নেওয়ার পর আমরা যতগুলো কর্মসূচি দিয়েছি, প্রত্যেকটি কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। এতেই বোঝা যায়, সরকারের গাত্রদাহ হচ্ছে। যে কারণে আজকে তারা উস্কানি দিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে অন্যায়ভাবে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

গত এক মাসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামাস দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানান ফখরুল।

মহাসচিব বলেন, ‘যারা নেতৃস্থানীয় নেতা, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, যারা নির্বাচনে নেতৃত্ব দেন, দল পরিচালনা করেন, তাদের সরকার বেছে বেছে গ্রেপ্তার করছে। গণতন্ত্র কীভাবে ফিরে আসতে পারে- এইসব দেখে তা সহজেই বোঝা যায়।’

ফখরুল বলেন, ‘তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) কর্মসূচির ভেতরে ঢুকে থাকে, পাশাপাশি থাকে, শ্লোগান দেয় আমাদের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মিলিয়ে। তারপরে তারা (পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা) আমাদের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে।’

তিনি বলেন, ‘গতকালের মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী যে সমস্ত বক্তব্য রেখেছেন এ বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় গণতন্ত্র শুধু তাদের জন্য। এই দেশটা তাদের। এখানে অন্য কারও কোনো অবস্থান নেই। আমরা দুঃখের সঙ্গে বলছি, অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে বলছি, এই সরকার যে ব্যবস্থা চালু করল, এই অনৈতিক অবৈধ সরকার, এ ব্যবস্থা থেকে আবারও গণতন্ত্রে ফিরে আসা অত্যন্ত দুরূহ কাজ হবে।’

রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে এখনো অনুমতি পায়নি জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমরা আজকেও ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু বলা হয়েছে গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পর অনুমতি দেয়া হবে। কিন্তু আমরা তো নাশকতা করি না। আপনারা (সরকার) নাশকতা করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।