ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শহীদ মিনার ভেঙে মুদি দোকান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর মিরপুরে একটি স্কুলে শহীদ মিনার ভেঙে করা হচ্ছে মুদি দোকান। আর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এমন ঘটনা ইতিহাসের অমর্যাদা করার শামিল। তবে এ বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরোপুরি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ভাঙা ইট পড়ে থাকা কনক্রিট আর বিধ্বস্ত এই পিলারগুলো এক সময় শহীদ মিনারের আকৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল জান্নাতুল একাডেমী হাইস্কুলের সামনে। কদিন আগেও দোকান তৈরি করে ভাড়া দেয়ার জন্য তা ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ছাড়াও স্থানীয়রা ক্ষোভ জানান। তাদের অভিযোগ, এই দেশের জন্য, ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্মৃতিসৌধ ভেঙে একটা দোকান করা তো খুবই খারাপ কাজ।

আর এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এ টি এম দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে নানা অজুহাত দেখান।

তিনি বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে কোন অ্যাডভান্স নেইনি। পাশের শহীদ স্মৃতি স্কুলে যান, অপজিটে শহীদ আবু তালেবে যান … দেখেন কয়টা দোকান। সেখানে বেনারশি মার্কেট করেছে তারা।’

সময় সংবাদের উপস্থিতির পরপরই স্কুলে ভেতরে শহীদ মিনারটি পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে। এমনকি সংবাদটি সম্প্রচার না করতে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে সমঝোতারও চেষ্টা করা হয়। এ বিষয়ে স্কুল পরিচালক পরিষদের সাথে কথা বলা হলে, ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।

স্কুল পরিচালক পরিষদের সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করে এসেছেন, কমিটির পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমরা এটার তদন্ত করে অবশ্যই দেখবো।’

শহীদদের স্মৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে সগৌরবে দাঁড়িয়েছিল বাঙালির প্রাণের শহীদ মিনার। যেখানে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতো শিক্ষার্থীরা। সে ভাষা আন্দোলনের মাসেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যের জন্য শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়।

যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় মানুষ গড়ার কারখানা আরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যদি বাণিজ্যের স্বার্থে ভেঙে ফেলা হয় শহীদ মিনার, তবে শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেম শিখবে কোথায়, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শহীদ মিনার ভেঙে মুদি দোকান

আপডেট সময় ০৯:৪৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর মিরপুরে একটি স্কুলে শহীদ মিনার ভেঙে করা হচ্ছে মুদি দোকান। আর এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এমন ঘটনা ইতিহাসের অমর্যাদা করার শামিল। তবে এ বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরোপুরি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ভাঙা ইট পড়ে থাকা কনক্রিট আর বিধ্বস্ত এই পিলারগুলো এক সময় শহীদ মিনারের আকৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল জান্নাতুল একাডেমী হাইস্কুলের সামনে। কদিন আগেও দোকান তৈরি করে ভাড়া দেয়ার জন্য তা ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ছাড়াও স্থানীয়রা ক্ষোভ জানান। তাদের অভিযোগ, এই দেশের জন্য, ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্মৃতিসৌধ ভেঙে একটা দোকান করা তো খুবই খারাপ কাজ।

আর এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এ টি এম দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে নানা অজুহাত দেখান।

তিনি বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে কোন অ্যাডভান্স নেইনি। পাশের শহীদ স্মৃতি স্কুলে যান, অপজিটে শহীদ আবু তালেবে যান … দেখেন কয়টা দোকান। সেখানে বেনারশি মার্কেট করেছে তারা।’

সময় সংবাদের উপস্থিতির পরপরই স্কুলে ভেতরে শহীদ মিনারটি পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে। এমনকি সংবাদটি সম্প্রচার না করতে কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে সমঝোতারও চেষ্টা করা হয়। এ বিষয়ে স্কুল পরিচালক পরিষদের সাথে কথা বলা হলে, ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।

স্কুল পরিচালক পরিষদের সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করে এসেছেন, কমিটির পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমরা এটার তদন্ত করে অবশ্যই দেখবো।’

শহীদদের স্মৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে সগৌরবে দাঁড়িয়েছিল বাঙালির প্রাণের শহীদ মিনার। যেখানে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতো শিক্ষার্থীরা। সে ভাষা আন্দোলনের মাসেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যের জন্য শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলা হয়।

যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় মানুষ গড়ার কারখানা আরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যদি বাণিজ্যের স্বার্থে ভেঙে ফেলা হয় শহীদ মিনার, তবে শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেম শিখবে কোথায়, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।