ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি ইউরোপের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের তুরাগে পিকনিক করতে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ছেলে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প রাজধানীর কাঁটাবনে আবাসিক ভবনের আগুন, দুজনের মৃত্যু কুমিল্লায় মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২ বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে: মাহদী আমিন ভিসা চালুর ঘোষণা: স্বাগত জানাল পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিধায়করা ফ্যামিলি কার্ড আপনাকে খুঁজতে হবে না, পৌঁছে যাবে আপনার দোরগোড়ায়’

বিক্রমপুরে পিরামিড আকৃতির স্তুপ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটেশ্বরের এবারের আবিষ্কার ২০১৭ সালে পৃথিবীর সেরা প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি। অবশিষ্ট উৎখনন সম্পন্ন করে বৈজ্ঞিানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা গেলে বৌদ্ধ সভ্যতা “বিশ্ব ঐতিহ্যের” তালিকাভুক্ত হবে। এই উক্তি করেছেন দেশের খ্যাতনামা পুরাকীর্তি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের জন্মভূমি বিক্রমপুর প্রত্নস্থান দক্ষিণ এশিয়ার শেষ শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ব প্রত্নতত্ত্বে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। নাটেশ্বর দেউলে সাম্প্রতিক আবিষ্কার শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় বিশ্বের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে এটি সেরা আবিষ্কার। তিনি জানান, সদ্য আবিষ্কৃত বাংলাদেশের বড় পিরামিড আকৃতির স্তুপ বিস্ময়কর।

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে ঐতিহ্য অন্বেষণ (প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র) বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কাজ শুরু করে। রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে (প্রাচীন বজ্রযোগিনী) বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহারের ৬টি ভিক্ষু কক্ষ, একটি মণ্ডপ ও পঞ্চস্তুপ আবিষ্কৃত হয়।

২০১৩ সাল থেকে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নাটেশ্বর দেউলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চলমান। প্রায় ১০ একর ঢিবিতে উৎখনন কাজের বিশালতা ও সংরক্ষণের কথা চিন্তা করে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন চীনের হুনান প্রাদেশিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউটকে আমন্ত্রণ জানায়।

“সদ্য আবিষ্কৃত প্রাচীন বৌদ্ধ নগরীর নানা নির্দশন আবিষ্কার বিক্রিমপুরের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে।” শনিবার নাটেশ্বর গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খননে আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু নিয়ে প্রেস কনফারেন্সে এই ঘোষণা দেন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রকল্প ও অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন।

এতে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম, অধ্যাপক ড, সুফী মুস্তাফিজুর রহমান, চীনা গবেষক অধ্যাপক চাই এবং গেস্ট অব অর্নার হিসাবে অংশ নেন মি. জিনসহ চীনা একটি গবেষক দল।

আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রত্নতাত্ত্বিক এই কাজে তার সহযোগিতার আশ্বাসের কথা বলেন। তিনি বলেছেন, মহেঞ্জোদারোর আদলে নাটেশ্বর বৌদ্ধ নগরীকে সংরক্ষণের জন্য আগামী বাজেটে বরাদ্দ থাকবে। সেই লক্ষে একটি প্রকল্প করে নাটেশ্বরের সাথে খনন কাজে সম্পৃক্ত একটি টিম মহেঞ্জোদারোতে পাঠানো হবে। তারা যাতে প্রশিক্ষত হয়ে আসতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্নতত্ত্ব ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। প্রত্নতত্ত্ব ইতিহাসের যে ভুল ত্রুটি আছে সেগুলো দেখিয়ে দেয় এবং আমারাও চেষ্টা করছি এইখানে এই প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার তার মাধ্যমে আমাদের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার।

আমরা নাটেশ্বর এসে দেখতে পাই যে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা কতটা উন্নত জীবন যাপন করতেন। এখানো আমরা দেখতে পেলাম দেড়শ ফুট রাস্তার। মানে তখন কার সময়ের রাজপথ। তখন তো রাস্তা ছিল ছোট গাড়িও ছিল ছোট ছোট রাজপথও ছোট। এটাকে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে।

মন্ত্রী সর্বশেষ বলেন, আমার যতটুকু মেয়াদ রয়েছে এর মধ্য এখান থেকে কয়েকজন পর্যবেক্ষণ দলকে প্রশিক্ষণ ও সমৃদ্ধশালী করতে মহেঞ্জোদারোতে পাঠানো হবে সেই ব্যবস্থাটা আমি কর যেতে চাই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

বিক্রমপুরে পিরামিড আকৃতির স্তুপ

আপডেট সময় ১২:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটেশ্বরের এবারের আবিষ্কার ২০১৭ সালে পৃথিবীর সেরা প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি। অবশিষ্ট উৎখনন সম্পন্ন করে বৈজ্ঞিানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা গেলে বৌদ্ধ সভ্যতা “বিশ্ব ঐতিহ্যের” তালিকাভুক্ত হবে। এই উক্তি করেছেন দেশের খ্যাতনামা পুরাকীর্তি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের জন্মভূমি বিক্রমপুর প্রত্নস্থান দক্ষিণ এশিয়ার শেষ শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ব প্রত্নতত্ত্বে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। নাটেশ্বর দেউলে সাম্প্রতিক আবিষ্কার শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় বিশ্বের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে এটি সেরা আবিষ্কার। তিনি জানান, সদ্য আবিষ্কৃত বাংলাদেশের বড় পিরামিড আকৃতির স্তুপ বিস্ময়কর।

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১০ সাল থেকে ঐতিহ্য অন্বেষণ (প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র) বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কাজ শুরু করে। রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে (প্রাচীন বজ্রযোগিনী) বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহারের ৬টি ভিক্ষু কক্ষ, একটি মণ্ডপ ও পঞ্চস্তুপ আবিষ্কৃত হয়।

২০১৩ সাল থেকে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নাটেশ্বর দেউলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চলমান। প্রায় ১০ একর ঢিবিতে উৎখনন কাজের বিশালতা ও সংরক্ষণের কথা চিন্তা করে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন চীনের হুনান প্রাদেশিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব ইনস্টিটিউটকে আমন্ত্রণ জানায়।

“সদ্য আবিষ্কৃত প্রাচীন বৌদ্ধ নগরীর নানা নির্দশন আবিষ্কার বিক্রিমপুরের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে।” শনিবার নাটেশ্বর গ্রামে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খননে আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু নিয়ে প্রেস কনফারেন্সে এই ঘোষণা দেন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রকল্প ও অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন।

এতে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম, অধ্যাপক ড, সুফী মুস্তাফিজুর রহমান, চীনা গবেষক অধ্যাপক চাই এবং গেস্ট অব অর্নার হিসাবে অংশ নেন মি. জিনসহ চীনা একটি গবেষক দল।

আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রত্নতাত্ত্বিক এই কাজে তার সহযোগিতার আশ্বাসের কথা বলেন। তিনি বলেছেন, মহেঞ্জোদারোর আদলে নাটেশ্বর বৌদ্ধ নগরীকে সংরক্ষণের জন্য আগামী বাজেটে বরাদ্দ থাকবে। সেই লক্ষে একটি প্রকল্প করে নাটেশ্বরের সাথে খনন কাজে সম্পৃক্ত একটি টিম মহেঞ্জোদারোতে পাঠানো হবে। তারা যাতে প্রশিক্ষত হয়ে আসতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্নতত্ত্ব ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে। প্রত্নতত্ত্ব ইতিহাসের যে ভুল ত্রুটি আছে সেগুলো দেখিয়ে দেয় এবং আমারাও চেষ্টা করছি এইখানে এই প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার তার মাধ্যমে আমাদের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার।

আমরা নাটেশ্বর এসে দেখতে পাই যে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা কতটা উন্নত জীবন যাপন করতেন। এখানো আমরা দেখতে পেলাম দেড়শ ফুট রাস্তার। মানে তখন কার সময়ের রাজপথ। তখন তো রাস্তা ছিল ছোট গাড়িও ছিল ছোট ছোট রাজপথও ছোট। এটাকে আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে।

মন্ত্রী সর্বশেষ বলেন, আমার যতটুকু মেয়াদ রয়েছে এর মধ্য এখান থেকে কয়েকজন পর্যবেক্ষণ দলকে প্রশিক্ষণ ও সমৃদ্ধশালী করতে মহেঞ্জোদারোতে পাঠানো হবে সেই ব্যবস্থাটা আমি কর যেতে চাই।