ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা প্রয়োজন: সেনাপ্রধান গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায়, প্রকল্প চূড়ান্ত: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে চাই না, বাসযোগ্য করতে চাই : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ইরানের হৃদয় ভেঙে ইতিহাস গড়ে নকআউটে মিশর হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি ইউরোপের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের তুরাগে পিকনিক করতে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ছেলে

খালেদার শাস্তি চেয়ে সাবেক জোটসঙ্গীর সমাবেশ কাল সকালে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘অর্থপাচারের’ শাস্তিসহ চারদফা দাবিতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপির সাবেক জোটসঙ্গী ইসলামী ঐক্যজোট। রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনতায়নে এ সমাবেশ করবে ২০১৬ সালে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই দলটি।

সকাল ১০টায় এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন মুফতি ফজলুল হক আমিনী মৃত্যুর পর ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া আবদুল লতিফ নেজামী। ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বলেও জানানো হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

ইসলামী ঐক্যজোটের সমাবেশের দাবি অবশ্য কেবল খালেদা জিয়ার শাস্তি চেয়ে না। কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নেয়ায় এবং মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চায় দলটি।

অবশ্য ইসলামী ঐক্যজোট সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে যে প্রচারপত্র বিলি করছে তাতে খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের নাম নেই। এতে, ‘মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি’র কথা তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব আহলুল্লাহ ওয়াসেল বলেন, আমরা কোনো একজনের নাম উল্লেখ করিনি। যারা পাচার করেছে, তাদের সবার বিচার চাইছি।’

পাশাপাশি কওমি সনদের স্বীকৃতি এবং মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলমানদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদও জানাতে চায় ইসলামী ঐক্যজোট। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার সদনের স্বীকৃতির বিষয়টি সংসদে তুলে আইন পাসের দাবি জানানো হবে এই সমাবেশে। এর পাশাপাশি ২০১৩ সালে হেফাজত তাণ্ডবের ঘটনায় সারাদেশে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার চাইছে ইসলামী ঐক্যজোট।

আপনারা তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদও জানাচ্ছেন- তাহলে কি আপনাদের রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টাচ্ছে?- এমন প্রশ্নে ওয়াসেল বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব গতিতে চলছি। কালকে ঘোষণাপত্র পাবেন ইনশাআল্লাহ।’

১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকা এই দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার গুণমুগ্ধ ছিলেন। সে সময় তারা ছিলেন আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক। এমনকি ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামীর অংশীদার হিসেবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাদের।

তবে গত দুই বছর ধরে অবস্থান পাল্টেছে ইসলামী ঐক্যজোটের। এখন আর তারা আওয়ামী লীগবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে না। বরং বিএনপির বিরুদ্ধেই একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সৌদি আরবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলার পর আওয়ামী লীগ ও সমমনাদের বাইরে রাজনৈতিক দল বা সংগঠন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিয়ে তেমন কিছুই বলছে না। বিএনপির সাবেক জোটসঙ্গী ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারাই বলতে গেলে এই বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছেন।

প্রায় দেড় যুগ জোটবদ্ধ থেকে সেই নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাইছেন?- এমন প্রশ্নে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এখানে জোটে থাকা না থাকার কোনো বিষয় না। এটা তো জাতীয় ইস্যু। যে বা যারাই অন্যায় করবে, তার শাস্তি হওয়া উচিত।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নকআউট ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন ইংলিশ ডিফেন্ডার

খালেদার শাস্তি চেয়ে সাবেক জোটসঙ্গীর সমাবেশ কাল সকালে

আপডেট সময় ১০:০৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘অর্থপাচারের’ শাস্তিসহ চারদফা দাবিতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপির সাবেক জোটসঙ্গী ইসলামী ঐক্যজোট। রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনতায়নে এ সমাবেশ করবে ২০১৬ সালে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই দলটি।

সকাল ১০টায় এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন মুফতি ফজলুল হক আমিনী মৃত্যুর পর ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া আবদুল লতিফ নেজামী। ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বলেও জানানো হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

ইসলামী ঐক্যজোটের সমাবেশের দাবি অবশ্য কেবল খালেদা জিয়ার শাস্তি চেয়ে না। কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নেয়ায় এবং মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চায় দলটি।

অবশ্য ইসলামী ঐক্যজোট সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে যে প্রচারপত্র বিলি করছে তাতে খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের নাম নেই। এতে, ‘মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি’র কথা তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব আহলুল্লাহ ওয়াসেল বলেন, আমরা কোনো একজনের নাম উল্লেখ করিনি। যারা পাচার করেছে, তাদের সবার বিচার চাইছি।’

পাশাপাশি কওমি সনদের স্বীকৃতি এবং মিয়ানমারের নির্যাতিত মুসলমানদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদও জানাতে চায় ইসলামী ঐক্যজোট। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার সদনের স্বীকৃতির বিষয়টি সংসদে তুলে আইন পাসের দাবি জানানো হবে এই সমাবেশে। এর পাশাপাশি ২০১৩ সালে হেফাজত তাণ্ডবের ঘটনায় সারাদেশে আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার চাইছে ইসলামী ঐক্যজোট।

আপনারা তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদও জানাচ্ছেন- তাহলে কি আপনাদের রাজনৈতিক অবস্থান পাল্টাচ্ছে?- এমন প্রশ্নে ওয়াসেল বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব গতিতে চলছি। কালকে ঘোষণাপত্র পাবেন ইনশাআল্লাহ।’

১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকা এই দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার গুণমুগ্ধ ছিলেন। সে সময় তারা ছিলেন আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক। এমনকি ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামীর অংশীদার হিসেবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাদের।

তবে গত দুই বছর ধরে অবস্থান পাল্টেছে ইসলামী ঐক্যজোটের। এখন আর তারা আওয়ামী লীগবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে না। বরং বিএনপির বিরুদ্ধেই একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সৌদি আরবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলার পর আওয়ামী লীগ ও সমমনাদের বাইরে রাজনৈতিক দল বা সংগঠন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিয়ে তেমন কিছুই বলছে না। বিএনপির সাবেক জোটসঙ্গী ইসলামী ঐক্যজোটের নেতারাই বলতে গেলে এই বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছেন।

প্রায় দেড় যুগ জোটবদ্ধ থেকে সেই নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাইছেন?- এমন প্রশ্নে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এখানে জোটে থাকা না থাকার কোনো বিষয় না। এটা তো জাতীয় ইস্যু। যে বা যারাই অন্যায় করবে, তার শাস্তি হওয়া উচিত।’