ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা প্রয়োজন: সেনাপ্রধান গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায়, প্রকল্প চূড়ান্ত: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে চাই না, বাসযোগ্য করতে চাই : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ইরানের হৃদয় ভেঙে ইতিহাস গড়ে নকআউটে মিশর হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি ইউরোপের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের তুরাগে পিকনিক করতে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ছেলে

জঙ্গি ও মাদক নির্মূলে ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন আইজিপি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। আর এ জন্য যুবকদের ‘আসক্তি’কে দায়ী করেছেন তিনি। এ থেকে মুক্তি পেতে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন আইজিপি। আগামী ৮ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহকে সামনে রেখে শনিবার পুলিশ সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘মাদক নির্মূল করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি, আবার জঙ্গিবাদ নির্মূল করতেও ব্যর্থ হয়েছি। এর কারণ হল আসক্তি।’

২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর দেড় বছরে পুলিশ অন্তত ৩৫টি জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। এতে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতায় নেতৃত্ব দেয়া বেশিরভাগই নিহতের পাশাপাশি গ্রেপ্তারও হয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। এখনও পুলিশ নানা সময় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এতে জঙ্গিদের নেটাওয়ার্ক ভেঙে গেছে বলেও নানা সময় দাবি করে আসছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তবে আইজিপি তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জান্নাতের স্বপ্ন দেখা যুবকদের মধ্যে এক ধরনের আসক্তি রয়েছে। আবার মাদকের ব্যাপারেও যুবকদের আসক্তি রয়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে সচেতন হতে হবে।’
তবে জঙ্গিবাদের পাশাপাশি মাদক নির্র্মূলেও পুলিশ শূন্য সহনশীলতার নীতিতে রয়েছে বলেও জানান পুলিশ প্রধান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কোন সদস্যও যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে তাদেরকে মামলা হবে, গ্রেপ্তার হবে।’

‘যেখানেই পেয়েছি সেখানেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা কোন কিছু গোপন করি না। সে কারণে আপনারা তথ্য পেয়ে থাকেন। কিন্তু অনেকেই অনেক কিছু গোপন করে থাকেন।’

মাদক নির্মূলে পুলিশ অনেক অভিযান পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। গত পাঁচ বছরে মাদক বহনকারীদের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৪ মামলা হয়েছ। কিন্তু আইন দিয়ে, মামলা করে মাদক সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’

‘প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইয়াবা আসছে। … হাজার হাজার মৎস্যজীবী নৌকায় করে প্রতিদিন আসে। মাছের পেটে করে, সবজির মধ্য দিয়ে ইয়াবা নিয়ে আসে। এটা বন্ধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু মাদকের ব্যাপারে পুলিশ অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

আইজিপি দায়িত্বে আসার পর পুলিশে ৮০ হাজার লোকবল বেড়েছে বলেও জানান হয় সংবাদ সম্মেলনে। এতে পুলিশের দক্ষতা বেড়েছেও বলেও মনে করেন তিনি।

আইজিপি জানান, সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাহিনীটির বার্ষিক পুলিশ প্যারেড পরিদর্শন ও পুলিশ সপ্তাহের উদ্ধোধন করবেন। এবারই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি রাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভোজে অংশ নেবেন। আর প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন মধ্যাহ্নভোজে।

এবার ১৮২ জন পুলিশকে চার শাখায় পুলিশ পদক দেয়া হবে। এগুলো হলো বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম, বিপিএম সেবা, রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক-পিপিএম এবং পিপিএম সেবা। এ বছরই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্য পদক দেয়া হচ্ছে জানিয়ে আইজিপি জানান, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরষ্কার দেয়া হচ্ছে।

‘২০১৭ সালে দেশের বিভিন্নস্থানে জঙ্গি উগ্রপন্থিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, বোমাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় জঙ্গিবাদের এ চক্রান্ত অপাতত প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।’

‘জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করতে গিয়ে পুলিশের অকুতভয় সদস্যগণ ধৈর্য, বিচক্ষণতা, সাহস ও পেশাদারিত্ব নিয়ে দেশপ্রেমের অনুপম পরিচয় দিয়েছে। তারা চরম আত্মত্যাগেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।’

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, উপমহাপরিদর্শক (অর্থ) এ কে এম শহীদুর রহমান, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপমহাপরিদর্শক আবদুল আলিম মাহমুদ, সহকারী মহাপরিদর্শক (জনসংযোগ ও গণমাধ্যম) সহেলী ফেরদৌসসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নকআউট ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন ইংলিশ ডিফেন্ডার

জঙ্গি ও মাদক নির্মূলে ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন আইজিপি

আপডেট সময় ০৮:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। আর এ জন্য যুবকদের ‘আসক্তি’কে দায়ী করেছেন তিনি। এ থেকে মুক্তি পেতে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন আইজিপি। আগামী ৮ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহকে সামনে রেখে শনিবার পুলিশ সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘মাদক নির্মূল করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি, আবার জঙ্গিবাদ নির্মূল করতেও ব্যর্থ হয়েছি। এর কারণ হল আসক্তি।’

২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর দেড় বছরে পুলিশ অন্তত ৩৫টি জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। এতে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতায় নেতৃত্ব দেয়া বেশিরভাগই নিহতের পাশাপাশি গ্রেপ্তারও হয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। এখনও পুলিশ নানা সময় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এতে জঙ্গিদের নেটাওয়ার্ক ভেঙে গেছে বলেও নানা সময় দাবি করে আসছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তবে আইজিপি তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জান্নাতের স্বপ্ন দেখা যুবকদের মধ্যে এক ধরনের আসক্তি রয়েছে। আবার মাদকের ব্যাপারেও যুবকদের আসক্তি রয়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে সচেতন হতে হবে।’
তবে জঙ্গিবাদের পাশাপাশি মাদক নির্র্মূলেও পুলিশ শূন্য সহনশীলতার নীতিতে রয়েছে বলেও জানান পুলিশ প্রধান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কোন সদস্যও যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে তাদেরকে মামলা হবে, গ্রেপ্তার হবে।’

‘যেখানেই পেয়েছি সেখানেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা কোন কিছু গোপন করি না। সে কারণে আপনারা তথ্য পেয়ে থাকেন। কিন্তু অনেকেই অনেক কিছু গোপন করে থাকেন।’

মাদক নির্মূলে পুলিশ অনেক অভিযান পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। গত পাঁচ বছরে মাদক বহনকারীদের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৪ মামলা হয়েছ। কিন্তু আইন দিয়ে, মামলা করে মাদক সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’

‘প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইয়াবা আসছে। … হাজার হাজার মৎস্যজীবী নৌকায় করে প্রতিদিন আসে। মাছের পেটে করে, সবজির মধ্য দিয়ে ইয়াবা নিয়ে আসে। এটা বন্ধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু মাদকের ব্যাপারে পুলিশ অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

আইজিপি দায়িত্বে আসার পর পুলিশে ৮০ হাজার লোকবল বেড়েছে বলেও জানান হয় সংবাদ সম্মেলনে। এতে পুলিশের দক্ষতা বেড়েছেও বলেও মনে করেন তিনি।

আইজিপি জানান, সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বাহিনীটির বার্ষিক পুলিশ প্যারেড পরিদর্শন ও পুলিশ সপ্তাহের উদ্ধোধন করবেন। এবারই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি রাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভোজে অংশ নেবেন। আর প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন মধ্যাহ্নভোজে।

এবার ১৮২ জন পুলিশকে চার শাখায় পুলিশ পদক দেয়া হবে। এগুলো হলো বাংলাদেশ পুলিশ পদক-বিপিএম, বিপিএম সেবা, রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক-পিপিএম এবং পিপিএম সেবা। এ বছরই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্য পদক দেয়া হচ্ছে জানিয়ে আইজিপি জানান, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ এই পুরষ্কার দেয়া হচ্ছে।

‘২০১৭ সালে দেশের বিভিন্নস্থানে জঙ্গি উগ্রপন্থিরা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তারা হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, বোমাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় জঙ্গিবাদের এ চক্রান্ত অপাতত প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।’

‘জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করতে গিয়ে পুলিশের অকুতভয় সদস্যগণ ধৈর্য, বিচক্ষণতা, সাহস ও পেশাদারিত্ব নিয়ে দেশপ্রেমের অনুপম পরিচয় দিয়েছে। তারা চরম আত্মত্যাগেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।’

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, উপমহাপরিদর্শক (অর্থ) এ কে এম শহীদুর রহমান, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপমহাপরিদর্শক আবদুল আলিম মাহমুদ, সহকারী মহাপরিদর্শক (জনসংযোগ ও গণমাধ্যম) সহেলী ফেরদৌসসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।