ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে : মির্জা ফখরুল দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলা প্রয়োজন: সেনাপ্রধান গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায়, প্রকল্প চূড়ান্ত: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে চাই না, বাসযোগ্য করতে চাই : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ইরানের হৃদয় ভেঙে ইতিহাস গড়ে নকআউটে মিশর হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি ইউরোপের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের তুরাগে পিকনিক করতে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ছেলে

ভোট বর্জন করলে বিএনপির বিরল প্রজাতির প্রাণির মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপির ভবিষ্যৎ বলতে কিছু থাকবে না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দশম সংসদ নির্বাচনের চার বছর পূর্তিতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

বিকাল এই জনসভার আগে কাদের অংশ নেন বনানীতে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের জনসভায়। সেখানে তিনি ৫ জানুয়ারিকে বিএনপির গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালনের সমালোচনা করে বলেছিলেন, এটি বিএনপির রাজনৈতিকভাবে আত্মহত্যা দিবস।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের জনসভায় কাদের বলেন, ‘সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। নির্বাচনও কারো জন্য অপেক্ষা করবে না, সঠিক সময়েই হবে। নির্বাচনের ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না। এবার যদি মিস করেন, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ফিনিস হয়ে যাবে।’

‘আজকে বিএনপির জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে বিরল প্রজাতির প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’ কাদের আরও বলেন, ‘নির্বাচনে আসতেই হবে। না হলে এর পরিণাম, মুসলীম লীগের পরিণাম।’

আওয়ামী লীগ দশম সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে। দেশব্যাপী সভা-সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেছে ক্ষমতাসীন দল। রাজধানীতে বিএনপি এদিন জনসভার অনুমতি না পেলেও আওয়ামী লীগ সমাবেশ করেছে দুটি এলাকায়। আর এই দুটিতেই বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের।

পদ্মাসেতু নিয়ে খালেদার বক্তব্যের সমালোচনা

গত ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়া পদ্মাসেতুতে কাউকে না উঠতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন এই সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে এবং এটাতে উঠা বিপজ্জনক হতে পারে। এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম জিয়া বলেন, পদ্মাসেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে হচ্ছে। সেতু তৈরি করতে কি জোড়া লাগে না? তিনি নাকি পদ্মা সেতুতে ওঠবেন না?’

‘সেতুতে সবাই ওঠবেন, তিনি যদি না ওঠেন ফেরিতে যেতে পারেন।’

‘আসলে বেগম জিয়ায় মামলার হাজিরা দিতে দিতে মাথাটা বোধহয় নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি নিজেকে একধিকবারের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন। তিনি বলেন, সাবমেরিন ডুবে গেছে। তিনি কি সাবমেরিন ভাসমান দেখতে চেয়েছিলেন?’

বর্তমান সংসদকে অবৈধ দাবি করায় খালেদা জিয়া বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ড. কামাল হোসেনেরও সমালোচনা করেন কাদের। বলেন, ‘আমি সবিনয়ে বেগম জিয়া ও ড. কামাল হোসেনকে বলতে চাই, আইপিইউ যে পার্লামেন্টকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাহলে কি গণতন্ত্রের সঙ্কট আছে? আপনারা যদি নির্বাচনে অংশ না নেন তাহলে সেটা কি গণতন্ত্রের দোষ?’

বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির নেতারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েও মাঠে না নামায় কটাক্ষ করেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। বলেন, ‘বিএনপির নেতারা বলেন কর্মীরা মাঠে নামে না, আর কর্মীরা বলেন নেতারা মাঠে নামে না। আসলে বিএনপির নেতারা ঘরে বসে হিন্দি ছবি দেখে আর পুলিশের প্রতিনিধি নরম না গরম সে খবর নেয়।’

বিএনপির আন্দোলনের হুমকিকে কটাক্ষ করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘কোথায় তোমাদের আন্দোলন? দেখতে দেখতে নয় বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর? মরা গাঙ্গে জোয়ার আসবে না, আর বিএনপির আন্দোলনের ভাঙা হাট আর জমবে না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নকআউট ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন ইংলিশ ডিফেন্ডার

ভোট বর্জন করলে বিএনপির বিরল প্রজাতির প্রাণির মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে: কাদের

আপডেট সময় ০৯:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে বিএনপির ভবিষ্যৎ বলতে কিছু থাকবে না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। দশম সংসদ নির্বাচনের চার বছর পূর্তিতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

বিকাল এই জনসভার আগে কাদের অংশ নেন বনানীতে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের জনসভায়। সেখানে তিনি ৫ জানুয়ারিকে বিএনপির গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালনের সমালোচনা করে বলেছিলেন, এটি বিএনপির রাজনৈতিকভাবে আত্মহত্যা দিবস।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের জনসভায় কাদের বলেন, ‘সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। নির্বাচনও কারো জন্য অপেক্ষা করবে না, সঠিক সময়েই হবে। নির্বাচনের ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না। এবার যদি মিস করেন, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ফিনিস হয়ে যাবে।’

‘আজকে বিএনপির জন্য রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে বিরল প্রজাতির প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’ কাদের আরও বলেন, ‘নির্বাচনে আসতেই হবে। না হলে এর পরিণাম, মুসলীম লীগের পরিণাম।’

আওয়ামী লীগ দশম সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে। দেশব্যাপী সভা-সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেছে ক্ষমতাসীন দল। রাজধানীতে বিএনপি এদিন জনসভার অনুমতি না পেলেও আওয়ামী লীগ সমাবেশ করেছে দুটি এলাকায়। আর এই দুটিতেই বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের।

পদ্মাসেতু নিয়ে খালেদার বক্তব্যের সমালোচনা

গত ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়া পদ্মাসেতুতে কাউকে না উঠতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন এই সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে এবং এটাতে উঠা বিপজ্জনক হতে পারে। এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম জিয়া বলেন, পদ্মাসেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে হচ্ছে। সেতু তৈরি করতে কি জোড়া লাগে না? তিনি নাকি পদ্মা সেতুতে ওঠবেন না?’

‘সেতুতে সবাই ওঠবেন, তিনি যদি না ওঠেন ফেরিতে যেতে পারেন।’

‘আসলে বেগম জিয়ায় মামলার হাজিরা দিতে দিতে মাথাটা বোধহয় নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি নিজেকে একধিকবারের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন। তিনি বলেন, সাবমেরিন ডুবে গেছে। তিনি কি সাবমেরিন ভাসমান দেখতে চেয়েছিলেন?’

বর্তমান সংসদকে অবৈধ দাবি করায় খালেদা জিয়া বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ড. কামাল হোসেনেরও সমালোচনা করেন কাদের। বলেন, ‘আমি সবিনয়ে বেগম জিয়া ও ড. কামাল হোসেনকে বলতে চাই, আইপিইউ যে পার্লামেন্টকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাহলে কি গণতন্ত্রের সঙ্কট আছে? আপনারা যদি নির্বাচনে অংশ না নেন তাহলে সেটা কি গণতন্ত্রের দোষ?’

বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির নেতারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েও মাঠে না নামায় কটাক্ষ করেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। বলেন, ‘বিএনপির নেতারা বলেন কর্মীরা মাঠে নামে না, আর কর্মীরা বলেন নেতারা মাঠে নামে না। আসলে বিএনপির নেতারা ঘরে বসে হিন্দি ছবি দেখে আর পুলিশের প্রতিনিধি নরম না গরম সে খবর নেয়।’

বিএনপির আন্দোলনের হুমকিকে কটাক্ষ করে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘কোথায় তোমাদের আন্দোলন? দেখতে দেখতে নয় বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর? মরা গাঙ্গে জোয়ার আসবে না, আর বিএনপির আন্দোলনের ভাঙা হাট আর জমবে না।’