ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

খালেদার সম্পদ প্রমাণ না হলে হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে: মওদুদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৌদি আরবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অঢেল সম্পদ থাকার কথা প্রমাণ করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অর্থপাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনায় ও দোয়ার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ। পাকিস্তান আমলের মুখ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের ২৬তম মৃত্যুবাষির্কীতে এই আয়োজন করা হয়।

একটি বিদেশি গণমাধ্যমের সংবাদ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়াচ্ছে যাতে বলা হয়েছে করা হয়েছে খালেদা ও তার পরিবার সৌতি আরবম কাতারসহ ১২টি দেশে ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই এক লাখ কোটি টাকার সম্পদ এ দেশ থেকে পাচার করেই করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই ‘অসত্য’ অভিযোগ তোলায় প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। নইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

মওদুদ বলেন, ‘আমাদের মহাসচিব বলেই দিয়েছেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। আমি তাদেরকে বলব এই অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে আপনাদের পদত্যাগ করতে হবে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসার পর আর তারা সরতে চায় না। তারা ক্ষমতায় এসে জনগণের ওপর এতো পরিমাণ নির্যাতন করেছে, তারা জানে ক্ষতায় ছাড়ার পরে তাদের ভাগ্যে কী আছে। সে জন্য তারা আর ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।’

মওদুদ বলেন, ‘৫ জানুয়ারী নির্বাচনের সময় তারা বলেছিল সংবিধানের মর্যাদা রাখতে এই নির্বাচন করা হচ্ছে। কিন্তু এখন সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে, নিরপেক্ষ তত্ত্ববোধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যাবে না। আসলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য বর্তমান সংবিধান কোন বাধা নয়।’

৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল অবৈধ

সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রধানমন্ত্রী মওদুদ আহমদ দাবি করেন, এরশাদের পতনের পর যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল সেটি বৈধ ছিল না।

মওদুদ বলেন, ‘সাহবুদ্দিন আহমেদ প্রধান বিচারপতি থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হতে চেয়েছিল। ৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল সম্পূর্ণ অনৈতিক, অসাংবিধানিক। তখন বলা হয়েছিল আগামী সংসদে এর বৈধতা দেয়া হবে। এই জন্য একাদশ সংশোধনী করা হয়েছিল। সেটা করা হয়েছিল জনগণের চাওয়া পূরণ করার জন্য।’

‘আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করার জন্য সংবিধান কোনো বাধা নয়। জনগণ হলো সকল ক্ষমতার উৎস। এর আগেও আমরা দেখেছি, সুতরাং সংবিধান বড় কথা নয়। সংবিধানের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য সংবিধান।’

বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপির ঢাকা জেলা সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মারণাস্ত্র নয়, কূটনীতিই হোক সংঘাতের পথ: জাতিসংঘে তারেক রহমান

খালেদার সম্পদ প্রমাণ না হলে হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে: মওদুদ

আপডেট সময় ০৪:৪২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৌদি আরবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অঢেল সম্পদ থাকার কথা প্রমাণ করতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অর্থপাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনায় ও দোয়ার অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ। পাকিস্তান আমলের মুখ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের ২৬তম মৃত্যুবাষির্কীতে এই আয়োজন করা হয়।

একটি বিদেশি গণমাধ্যমের সংবাদ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়াচ্ছে যাতে বলা হয়েছে করা হয়েছে খালেদা ও তার পরিবার সৌতি আরবম কাতারসহ ১২টি দেশে ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই এক লাখ কোটি টাকার সম্পদ এ দেশ থেকে পাচার করেই করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই ‘অসত্য’ অভিযোগ তোলায় প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। নইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

মওদুদ বলেন, ‘আমাদের মহাসচিব বলেই দিয়েছেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন। আমি তাদেরকে বলব এই অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে আপনাদের পদত্যাগ করতে হবে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসার পর আর তারা সরতে চায় না। তারা ক্ষমতায় এসে জনগণের ওপর এতো পরিমাণ নির্যাতন করেছে, তারা জানে ক্ষতায় ছাড়ার পরে তাদের ভাগ্যে কী আছে। সে জন্য তারা আর ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।’

মওদুদ বলেন, ‘৫ জানুয়ারী নির্বাচনের সময় তারা বলেছিল সংবিধানের মর্যাদা রাখতে এই নির্বাচন করা হচ্ছে। কিন্তু এখন সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে, নিরপেক্ষ তত্ত্ববোধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যাবে না। আসলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য বর্তমান সংবিধান কোন বাধা নয়।’

৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল অবৈধ

সেনা শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রধানমন্ত্রী মওদুদ আহমদ দাবি করেন, এরশাদের পতনের পর যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল সেটি বৈধ ছিল না।

মওদুদ বলেন, ‘সাহবুদ্দিন আহমেদ প্রধান বিচারপতি থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হতে চেয়েছিল। ৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল সম্পূর্ণ অনৈতিক, অসাংবিধানিক। তখন বলা হয়েছিল আগামী সংসদে এর বৈধতা দেয়া হবে। এই জন্য একাদশ সংশোধনী করা হয়েছিল। সেটা করা হয়েছিল জনগণের চাওয়া পূরণ করার জন্য।’

‘আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করার জন্য সংবিধান কোনো বাধা নয়। জনগণ হলো সকল ক্ষমতার উৎস। এর আগেও আমরা দেখেছি, সুতরাং সংবিধান বড় কথা নয়। সংবিধানের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য সংবিধান।’

বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিএনপির ঢাকা জেলা সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন প্রমুখ।