ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে: শিল্পমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের উন্নয়নে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

আমির হোসেন আমু বলেন, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের প্রসার ঘটছে। মোট কর্মসংস্থানের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগই হয়ে থাকে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বর্তমান বিশ্বে দারিদ্র দূরীকরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

ভারত সফররত শিল্পমন্ত্রী বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লীতে ২১তম আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন ফর স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেজ’- এর উদ্যোগে নয়াদিল্লীর ইন্ডিয়া হ্যাবিটেট সেন্টারে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি এম. ভেনকাইয়া নাইডু। আরও বক্তব্য রাখেন- ভারতের মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী গিরিরাজ সিং, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী সুরেশ প্রভু, মরিশাসের বাণিজ্য, শিল্প ও সমবায়মন্ত্রী সোমিলদূত ভোলা।
ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এখন বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদন্ড। বিশ্বের প্রতিটি দেশই এখন অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং দারিদ্র্যতা দূরীকরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প দিন দিন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে’।

সম্মেলনের ‘সাইড লাইনে’ আমির হোসেন আমু মরিশাসের বাণিজ্য, শিল্প ও সমবায়মন্ত্রী সোমিলদূত ভোলার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তারা দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিল্পখাতে যৌথ বিনিয়োগ, এসএমইখাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা করেন। শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, প্লাস্টিক, সিরামিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির জন্য মরিশাসের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেন।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, নয়াদিল্লীতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্মেলনের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে এসএমই শিল্পখাতে নতুন উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে এখন গোটা পৃথিবীতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখাতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহায়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে আমির হোসেন আমু বলেন, চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শতকরা ৪০ ভাগ এসএমইখাত যোগান দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার শতকরা ৯৮ ভাগ ব্যবসা এসএমইখাতের আওতাভূক্ত এবং এখাত থেকে দেশটিতে ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এসএমইখাতের কার্যকর বিকাশ ঘটাতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে: শিল্পমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৫৩:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের উন্নয়নে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

আমির হোসেন আমু বলেন, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের প্রসার ঘটছে। মোট কর্মসংস্থানের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগই হয়ে থাকে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বর্তমান বিশ্বে দারিদ্র দূরীকরণ, প্রাকৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

ভারত সফররত শিল্পমন্ত্রী বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লীতে ২১তম আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন ফর স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেজ’- এর উদ্যোগে নয়াদিল্লীর ইন্ডিয়া হ্যাবিটেট সেন্টারে দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি এম. ভেনকাইয়া নাইডু। আরও বক্তব্য রাখেন- ভারতের মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী গিরিরাজ সিং, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী সুরেশ প্রভু, মরিশাসের বাণিজ্য, শিল্প ও সমবায়মন্ত্রী সোমিলদূত ভোলা।
ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এখন বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদন্ড। বিশ্বের প্রতিটি দেশই এখন অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং দারিদ্র্যতা দূরীকরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প দিন দিন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে’।

সম্মেলনের ‘সাইড লাইনে’ আমির হোসেন আমু মরিশাসের বাণিজ্য, শিল্প ও সমবায়মন্ত্রী সোমিলদূত ভোলার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তারা দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিল্পখাতে যৌথ বিনিয়োগ, এসএমইখাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা করেন। শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, প্লাস্টিক, সিরামিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির জন্য মরিশাসের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেন।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, নয়াদিল্লীতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্মেলনের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে এসএমই শিল্পখাতে নতুন উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে এখন গোটা পৃথিবীতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখাতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহায়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে আমির হোসেন আমু বলেন, চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শতকরা ৪০ ভাগ এসএমইখাত যোগান দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার শতকরা ৯৮ ভাগ ব্যবসা এসএমইখাতের আওতাভূক্ত এবং এখাত থেকে দেশটিতে ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এসএমইখাতের কার্যকর বিকাশ ঘটাতে হবে।