ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঠেঙ্গার চরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে: অ্যামনেস্টি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর জনমানবহীন ঠেঙ্গার চরে (ভাষান চর) রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের সব পরিকল্পনা বাদ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ২ হাজার ৩১২ কেটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নের এ প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক বলেছেন, ওই দ্বীপটি শরণার্থীদের অন্যান্য আশ্রয়শিবির থেকে অনেক দূরে। বন্যায় তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিপজ্জনক এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেখানে। এমন জনমানবহীন একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে ভয়াবহ একটি ভুল সিদ্ধান্ত।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নিজস্ব ‘বাংলাদেশ: রোহিঙ্গা রিফিউজিস মাস্ট নট বি রিলোকেটেড টু আনইনহ্যাবিটেবল আইল্যান্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ওই ঠেঙ্গারচরে কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদেরকে এমন সব পরিকল্পনা অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

বিরাজ পাটনায়েক বলেন, তিন মাস ধরে বাংলাদেশ কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গার জন্য তার দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আর এখন তারাই ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে তারা। এতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে যে প্রশংসা কুড়িয়েছিল তা নষ্ট হবে।

রোহিঙ্গাদেরকে ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে বিরাজ পাটনায়েক বলেন, এখনও বাংলাদেশের হাতে সময় আছে এই অপরিণামদর্শী অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা। জোর করে রোহিঙ্গাদেরকে জোর করে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে অর্জিত সম্মান নষ্ট হবে, আর কিছু নয়। তাতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হবে এবং রোহিঙ্গারা সেই একই রকম ভয়াবহতার শিকার হবে।

এর আগে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরে সরকারি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেছিল, ‘বিরান’ ও ‘অনুন্নত উপকূলীয়’ এ দ্বীপে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর পরিকল্পনা ‘অসম্ভব’ ও ‘নিষ্ঠুর’। সংস্থার মতে, কক্সবাজার থেকে ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়া হলে চলাফেরা, জীবনযাপন, খাদ্য ও শিক্ষার অধিকার থেকে এসব মানুষকে বঞ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, ঠেঙ্গারচর স্থানীয়ভাবে ভাসানচর নামেও পরিচিত। এটি দৃশ্যমান হয় ১১ বছর আগে। বর্ষার মওসুমে তা মারাত্মকভাবে বন্যাকবলিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই জনমানবহীন এই দ্বীপে রোহিঙ্গাদেরকে পুনর্বাসন করার বিষয়ে যে বিপদ রয়েছে সে বিষয়ে মানবাধিকার বিষয়ক সম্প্রদায় সতর্কতা দিয়েছে। নিকটবর্তী বসতি থেকে এই দ্বীপে সময় লাগে দু’ঘন্টা। তাই রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে। গত সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির অধীনে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা।

২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের কারণে তারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এ সমস্যার মৌলিক কারণ নিয়ে সম্প্রতি একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাতে দেখানো হয়েছে, রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যসহ সব রকম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে করা হচ্ছে বর্ণবাদী আচরণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠেঙ্গার চরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে: অ্যামনেস্টি

আপডেট সময় ০৩:০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর জনমানবহীন ঠেঙ্গার চরে (ভাষান চর) রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের সব পরিকল্পনা বাদ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ২ হাজার ৩১২ কেটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নের এ প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক বিরাজ পাটনায়েক বলেছেন, ওই দ্বীপটি শরণার্থীদের অন্যান্য আশ্রয়শিবির থেকে অনেক দূরে। বন্যায় তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিপজ্জনক এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেখানে। এমন জনমানবহীন একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করা হবে ভয়াবহ একটি ভুল সিদ্ধান্ত।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নিজস্ব ‘বাংলাদেশ: রোহিঙ্গা রিফিউজিস মাস্ট নট বি রিলোকেটেড টু আনইনহ্যাবিটেবল আইল্যান্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ওই ঠেঙ্গারচরে কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদেরকে এমন সব পরিকল্পনা অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

বিরাজ পাটনায়েক বলেন, তিন মাস ধরে বাংলাদেশ কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গার জন্য তার দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আর এখন তারাই ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে তারা। এতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে যে প্রশংসা কুড়িয়েছিল তা নষ্ট হবে।

রোহিঙ্গাদেরকে ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে বিরাজ পাটনায়েক বলেন, এখনও বাংলাদেশের হাতে সময় আছে এই অপরিণামদর্শী অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা। জোর করে রোহিঙ্গাদেরকে জোর করে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে অর্জিত সম্মান নষ্ট হবে, আর কিছু নয়। তাতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হবে এবং রোহিঙ্গারা সেই একই রকম ভয়াবহতার শিকার হবে।

এর আগে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ঠেঙ্গারচরে স্থানান্তরে সরকারি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেছিল, ‘বিরান’ ও ‘অনুন্নত উপকূলীয়’ এ দ্বীপে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর পরিকল্পনা ‘অসম্ভব’ ও ‘নিষ্ঠুর’। সংস্থার মতে, কক্সবাজার থেকে ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়া হলে চলাফেরা, জীবনযাপন, খাদ্য ও শিক্ষার অধিকার থেকে এসব মানুষকে বঞ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, ঠেঙ্গারচর স্থানীয়ভাবে ভাসানচর নামেও পরিচিত। এটি দৃশ্যমান হয় ১১ বছর আগে। বর্ষার মওসুমে তা মারাত্মকভাবে বন্যাকবলিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই জনমানবহীন এই দ্বীপে রোহিঙ্গাদেরকে পুনর্বাসন করার বিষয়ে যে বিপদ রয়েছে সে বিষয়ে মানবাধিকার বিষয়ক সম্প্রদায় সতর্কতা দিয়েছে। নিকটবর্তী বসতি থেকে এই দ্বীপে সময় লাগে দু’ঘন্টা। তাই রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে। গত সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির অধীনে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা।

২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালের ২৫ শে আগস্ট থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের কারণে তারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এ সমস্যার মৌলিক কারণ নিয়ে সম্প্রতি একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাতে দেখানো হয়েছে, রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যসহ সব রকম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে করা হচ্ছে বর্ণবাদী আচরণ।