ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মহাত্মা গান্ধীর ‘জীবন রক্ষাকারী’ সেই ব্যক্তির মৃত্যু

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জীবন রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি মারা গেছেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের যোদ্ধা ভিকু দাজি ভিলার ১৯৪৪ সালে নাথুরাম গডসের হামলা থেকে মহাত্মা গান্ধীকে রক্ষা করেছিলেন।বুধবার মহারাষ্ট্রের ভিলারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ভিলার গুরুজি নামে পরিচিত ছিলেন মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধীর এই একান্ত সহচর। তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিলার গুরুজি বলেছেন, ‘মহারাষ্ট্রে পঞ্চগানিতে মহাত্মা গান্ধীর প্রার্থনা সভায় সবাই আসতে পারতেন। সেই দিনও তার সহযোগী ঊষা মেহতা, পেয়ারিলাল, অরুণা আসাফ আলী ও অন্যরা প্রার্থনার জন্য উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ ছুরি হাতে নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর দিকে তেড়ে আসেন গডসে এবং বলেন, তার কিছু প্রশ্ন আছে। আমি তাকে থামিয়েছিলাম, তার হাত বাঁকিয়ে ধরে ছুরি কেড়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু গান্ধীজি কিছুই না বলে তাকে ছেড়ে দেয়।’

গান্ধীজির পরিবারের কাছে থাকা সেই ঘটনার রেকর্ড থেকে জানা যায়, ভিলার ও মনিশংকর পুরোহিত সেদিন গডসেকে ধরে ফেলেছিলেন।

তবে গান্ধীজির জীবন রক্ষা নিয়ে ভিলার গুরুজির দাবির বিষয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে। এ বিষয়ে কাপুর কমিশন জানায়, ‘১৯৪৪ সালের জুলাই মাসের সেই ঘটনার যথার্থতা, এমন কি সেই ঘটনা আসলেই ঘটেছিল কিনা, তা প্রমাণিত নয়।’

কমিশনের সামনে মনিশংকর পুরোহিত যে বয়ান দেন, তাতে তিনি বলেন, ১৯৪৪ নয়, ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে ঘটেছিল পঞ্চগানির প্রার্থনা সভার সেই হামলার ঘটনা। তা ছাড়া সেই ঘটনায় ভিলার গুরুজির এগিয়ে এসে গডসেকে থামানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কমিশন যতটুকু জানতে পারে, ১৯৪৪ সালে পঞ্চগানের প্রার্থনা সভায় একদল মানুষের মধ্যে হট্টগোল হয়েছিল।

গান্ধীজির সঙ্গে ভিলার গুরুজির ভালো সম্পর্কের বেশ কিছু প্রমাণ রয়েছে। বিতর্ক থাকলেও জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি দাবি করেছেন গান্ধীজির জীবন রক্ষার সেই ঘটনায় তিনি ছিলেন। তা ছাড়া ভিলার গুরুজি গান্ধীজির অহিংস মতবাদের অনুসারী ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মহাত্মা গান্ধীর ‘জীবন রক্ষাকারী’ সেই ব্যক্তির মৃত্যু

আপডেট সময় ১২:৪৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জীবন রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি মারা গেছেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের যোদ্ধা ভিকু দাজি ভিলার ১৯৪৪ সালে নাথুরাম গডসের হামলা থেকে মহাত্মা গান্ধীকে রক্ষা করেছিলেন।বুধবার মহারাষ্ট্রের ভিলারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ভিলার গুরুজি নামে পরিচিত ছিলেন মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধীর এই একান্ত সহচর। তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিলার গুরুজি বলেছেন, ‘মহারাষ্ট্রে পঞ্চগানিতে মহাত্মা গান্ধীর প্রার্থনা সভায় সবাই আসতে পারতেন। সেই দিনও তার সহযোগী ঊষা মেহতা, পেয়ারিলাল, অরুণা আসাফ আলী ও অন্যরা প্রার্থনার জন্য উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ ছুরি হাতে নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর দিকে তেড়ে আসেন গডসে এবং বলেন, তার কিছু প্রশ্ন আছে। আমি তাকে থামিয়েছিলাম, তার হাত বাঁকিয়ে ধরে ছুরি কেড়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু গান্ধীজি কিছুই না বলে তাকে ছেড়ে দেয়।’

গান্ধীজির পরিবারের কাছে থাকা সেই ঘটনার রেকর্ড থেকে জানা যায়, ভিলার ও মনিশংকর পুরোহিত সেদিন গডসেকে ধরে ফেলেছিলেন।

তবে গান্ধীজির জীবন রক্ষা নিয়ে ভিলার গুরুজির দাবির বিষয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক আছে। এ বিষয়ে কাপুর কমিশন জানায়, ‘১৯৪৪ সালের জুলাই মাসের সেই ঘটনার যথার্থতা, এমন কি সেই ঘটনা আসলেই ঘটেছিল কিনা, তা প্রমাণিত নয়।’

কমিশনের সামনে মনিশংকর পুরোহিত যে বয়ান দেন, তাতে তিনি বলেন, ১৯৪৪ নয়, ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে ঘটেছিল পঞ্চগানির প্রার্থনা সভার সেই হামলার ঘটনা। তা ছাড়া সেই ঘটনায় ভিলার গুরুজির এগিয়ে এসে গডসেকে থামানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কমিশন যতটুকু জানতে পারে, ১৯৪৪ সালে পঞ্চগানের প্রার্থনা সভায় একদল মানুষের মধ্যে হট্টগোল হয়েছিল।

গান্ধীজির সঙ্গে ভিলার গুরুজির ভালো সম্পর্কের বেশ কিছু প্রমাণ রয়েছে। বিতর্ক থাকলেও জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি দাবি করেছেন গান্ধীজির জীবন রক্ষার সেই ঘটনায় তিনি ছিলেন। তা ছাড়া ভিলার গুরুজি গান্ধীজির অহিংস মতবাদের অনুসারী ছিলেন।