ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্ষমতাসীনরা সংলাপকে ভয় পায়: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ। আর জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই ক্ষমতাসীনরা সংলাপকে ভয় পায়। আগামী নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বুধবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের করা বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে- এ অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না, হবে না। এ অবস্থায় নির্বাচনের মাঠে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নির্বাচনের মাঠ যদি সমতল না হয়, সেখানে প্রার্থীরা সঠিকভাবে তার প্রচারের কাজ করতে পারবে না। আর ভোটাররাও নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটও দিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, একটি দলের প্রধান হচ্ছেন শেখ হাসিনা। তিনিই যদি নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বপদে থাকেন, সেক্ষেত্রে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনকালীন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। কারণ তাদের পদোন্নতি থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে সরকার। নির্বাচনকালীন তারা কিছু সময়ের জন্য এরা নির্বাচন কমিশনে ন্যস্ত হন। ফলে ইসি নয়, সরকার যেভাবে চাইবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করতে বাধ্য হবে।

সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বিগত সময়ে বর্তমান সরকারের অধীনে যেসব স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে- তা কোনোটিই সুষ্ঠু হয়নি। এসব ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের চোখের সামনে ভোট কেন্দ্র দখল করে ক্ষমতাসীনরা তাদের প্রার্থীদের মার্কায় সিল মেরেছে। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তরাও এ কাজে সহায়তা করছে- এমন চিত্র গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার যদি নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন চাইলেও সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। তার মধ্যে নির্বাচন কমিশনও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ। এছাড়া সরকার নির্বাচনের আগে কয়েক স্তরে প্রশাসনকে নিজেদের লোক দিয়ে সাজায়। গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও একইভাবে নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক আকাশকে বলেন, অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় পার্লামেন্ট বহাল রেখে নির্বাচন হয় না।

পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করেই সেসব দেশে নির্বাচন হয়। এছাড়া গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নির্বাচন কমিশনকে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে হয় না। কিন্তু আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় থেকেছে, তখনই নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এজন্যই আমরা নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলেছি।

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই বিএনপি নেত্রী এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব দৈনিক আকাশকে বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট রয়েছে- সেখানে তা এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়- এটা আমরা বিশ্বাস করি। এটা চাপের কোনো বিষয় নয়। আমরা চাই, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল চাওয়া। জনগণও চায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। যেখানে জনগণের চাহিদার প্রতিফলন ঘটবে।

সংলাপ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, এ সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা মনে করে সংলাপে বসলেই জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সবকিছু করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ সংলাপকে ভয় পায়। সংলাপের প্রসঙ্গ এলেই আওয়ামী লীগ নেতারা অস্বস্তিতে পড়েন এবং উল্টাপাল্টা কথা বলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্ষমতাসীনরা সংলাপকে ভয় পায়: ফখরুল

আপডেট সময় ০২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ। আর জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই ক্ষমতাসীনরা সংলাপকে ভয় পায়। আগামী নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বুধবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের করা বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে- এ অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না, হবে না। এ অবস্থায় নির্বাচনের মাঠে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নির্বাচনের মাঠ যদি সমতল না হয়, সেখানে প্রার্থীরা সঠিকভাবে তার প্রচারের কাজ করতে পারবে না। আর ভোটাররাও নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটও দিতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, একটি দলের প্রধান হচ্ছেন শেখ হাসিনা। তিনিই যদি নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বপদে থাকেন, সেক্ষেত্রে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনকালীন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। কারণ তাদের পদোন্নতি থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে সরকার। নির্বাচনকালীন তারা কিছু সময়ের জন্য এরা নির্বাচন কমিশনে ন্যস্ত হন। ফলে ইসি নয়, সরকার যেভাবে চাইবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করতে বাধ্য হবে।

সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বিগত সময়ে বর্তমান সরকারের অধীনে যেসব স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে- তা কোনোটিই সুষ্ঠু হয়নি। এসব ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের চোখের সামনে ভোট কেন্দ্র দখল করে ক্ষমতাসীনরা তাদের প্রার্থীদের মার্কায় সিল মেরেছে। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তরাও এ কাজে সহায়তা করছে- এমন চিত্র গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার যদি নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন চাইলেও সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। তার মধ্যে নির্বাচন কমিশনও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ। এছাড়া সরকার নির্বাচনের আগে কয়েক স্তরে প্রশাসনকে নিজেদের লোক দিয়ে সাজায়। গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও একইভাবে নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক আকাশকে বলেন, অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় পার্লামেন্ট বহাল রেখে নির্বাচন হয় না।

পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করেই সেসব দেশে নির্বাচন হয়। এছাড়া গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নির্বাচন কমিশনকে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে হয় না। কিন্তু আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় থেকেছে, তখনই নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এজন্যই আমরা নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলেছি।

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই বিএনপি নেত্রী এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব দৈনিক আকাশকে বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার। ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

দেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট রয়েছে- সেখানে তা এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়- এটা আমরা বিশ্বাস করি। এটা চাপের কোনো বিষয় নয়। আমরা চাই, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল চাওয়া। জনগণও চায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। যেখানে জনগণের চাহিদার প্রতিফলন ঘটবে।

সংলাপ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, এ সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা মনে করে সংলাপে বসলেই জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সবকিছু করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ সংলাপকে ভয় পায়। সংলাপের প্রসঙ্গ এলেই আওয়ামী লীগ নেতারা অস্বস্তিতে পড়েন এবং উল্টাপাল্টা কথা বলেন।