ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে ভাষায় কথা বলেন, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়: প্রতিমন্ত্রী পরীক্ষা দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিলেন জাইমা রহমান ‘এক দফা’ ঘোষণার নেপথ্য ঘটনা তুলে ধরে বিস্ফোরক পোস্ট আব্দুল কাদেরের

খালেদার মাফ করার ঘোষণা বছরের সেরা রাজনৈতিক কৌতুক: ইনু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোববারের জনসভায় দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, খালেদা জিয়ার জাতির কাছে মাফ না চেয়ে শেখ হাসিনাকে মাফ করে দেয়ার কথা বলাটা বছরের সেরা রাজনৈতিক কৌতুক।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণা, খালেদা জিয়ার ভূতের সরকার প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত। বেগম জিয়া এবং তার স্বামী জিয়াই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে, একুশে আগস্টে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে, জঙ্গি আক্রমণ করে জঘন্য প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তখ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়ার ভাষণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০৮ সালের পর থেকে তিনি রাজনীতির যে অস্বাভাবিক পথ অনুসরণ করেছেন, তা অব্যাহত রেখেছেন। খালেদা জিয়া মোটেও বদলাননি, শোধরাননি। আজ অবধি যে চক্রান্তের ষড়যন্ত্রের পথে উনি হেঁটেছেন, তার পক্ষেই ওকালতি করেছেন তিনি। সেকারণেই তিনি পরিষ্কার বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে তিনি নির্বাচন করবেন না’।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কখনো সহায়ক সরকারের কথা বলেছেন, কখনো নিরপেক্ষ সরকারের কথা, কখনো নির্দলীয় সরকারের কথা বলেছেন। এ কথা বলার মধ্যদিয়ে তিনি কার্যত সংবিধানের অধীনে নির্বাচন না করে ‘ভূতের সরকার’ এর অধীনে নির্বাচন করে অস্বাভাবিক ‘ভূতের সরকার’ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রের জাল বুনলেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হবে।

সেনাবাহিনী নিয়ে বেগম জিয়ার বক্তব্যে ষড়যন্ত্রের আভাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে সেনা মোতায়েন এবং সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার কথা বলেছেন। এ বিষয়টি আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগাতেই পারে।

খালেদা জিয়ার বলা প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শেখ হাসিনার সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে না বরং বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠার রাজনীতি করছে। জঙ্গি, যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের খুনী, পঁচাত্তরের খুনী, একুশে আগস্টের খুনী, টাকা আত্মসাতকারী ও পাচারকারী এবং ৯৩ দিনের আগুনযুদ্ধের নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার কতিপয় কর্মী যারা সরাসরি মানুষ পোড়ানোর সাথে জড়িত, সেই আগুনসন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো প্রতিহিংসা নয়। বরং বেগম খালেদা জিয়া এবং তার স্বামী জিয়াউর রহমানই প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন।

একাত্তরে পাকিস্তানের দালাল হিসেবে যারা বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনা করেছে, সেই রাজাকার আলবদর গোষ্ঠী, যারা পঁচাত্তরে নারী-শিশুসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। যারা সেই একাত্তরের খুনী ও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের প্রশ্রয় দিয়ে পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করেছে, তারাই প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। তারা একুশে আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চক্রান্ত করেছিল, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে মাফ করে দেয়ার কথা বললেন। এটিই হচ্ছে বছরের সেরা রাজনৈতিক কৌতুক। মাফ তো চাইবেন বেগম খালেদা জিয়া জাতির কাছে- মানুষ পোড়ানোর জন্যে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চক্রান্তের জন্যে, আহসান উল্লাহ মাস্টার ও কিবরিয়াকে হত্যার জন্যে। মাফ চাইবেন জঙ্গিদের লালন করার জন্যে, খালেদা জিয়া জাতির কাছে মাফ চাইবেন রাজাকার পোষার জন্যে, মা-বেটার অপরাধের জন্যে।

‘সুতরাং যার মাফ চাওয়ার কথা, সেই খালেদা জিয়া জাতির কাছে মাফ না চেয়ে, শেখ হাসিনাকে মাফ করে দিলেন, এটা বছরের সেরা রাজনৈতিক কৌতুক হিসেবে আমি গণ্য করছি। ’ তথ্যমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের রাজনীতিতে থাকতে চাইলে, মানুষ পোড়ানোসহ যেসব জঘন্য অপরাধের সাথে তিনি জড়িত, তার জন্য জাতির কাছে মাফ চাইতে এবং রাজাকার, জামায়াত ও জঙ্গিদের জোট থেকে বাদ দেয়াসহ ভূতের সরকারের বদলে নিয়মতান্ত্রিক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার অঙ্গীকারের ঘোষণার আহবান জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প

খালেদার মাফ করার ঘোষণা বছরের সেরা রাজনৈতিক কৌতুক: ইনু

আপডেট সময় ১১:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোববারের জনসভায় দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, খালেদা জিয়ার জাতির কাছে মাফ না চেয়ে শেখ হাসিনাকে মাফ করে দেয়ার কথা বলাটা বছরের সেরা রাজনৈতিক কৌতুক।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণা, খালেদা জিয়ার ভূতের সরকার প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত। বেগম জিয়া এবং তার স্বামী জিয়াই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে, একুশে আগস্টে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে, জঙ্গি আক্রমণ করে জঘন্য প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তখ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়ার ভাষণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০৮ সালের পর থেকে তিনি রাজনীতির যে অস্বাভাবিক পথ অনুসরণ করেছেন, তা অব্যাহত রেখেছেন। খালেদা জিয়া মোটেও বদলাননি, শোধরাননি। আজ অবধি যে চক্রান্তের ষড়যন্ত্রের পথে উনি হেঁটেছেন, তার পক্ষেই ওকালতি করেছেন তিনি। সেকারণেই তিনি পরিষ্কার বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে তিনি নির্বাচন করবেন না’।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কখনো সহায়ক সরকারের কথা বলেছেন, কখনো নিরপেক্ষ সরকারের কথা, কখনো নির্দলীয় সরকারের কথা বলেছেন। এ কথা বলার মধ্যদিয়ে তিনি কার্যত সংবিধানের অধীনে নির্বাচন না করে ‘ভূতের সরকার’ এর অধীনে নির্বাচন করে অস্বাভাবিক ‘ভূতের সরকার’ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্রের জাল বুনলেন, যা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হবে।

সেনাবাহিনী নিয়ে বেগম জিয়ার বক্তব্যে ষড়যন্ত্রের আভাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে সেনা মোতায়েন এবং সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার কথা বলেছেন। এ বিষয়টি আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগাতেই পারে।

খালেদা জিয়ার বলা প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শেখ হাসিনার সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে না বরং বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠার রাজনীতি করছে। জঙ্গি, যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের খুনী, পঁচাত্তরের খুনী, একুশে আগস্টের খুনী, টাকা আত্মসাতকারী ও পাচারকারী এবং ৯৩ দিনের আগুনযুদ্ধের নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার কতিপয় কর্মী যারা সরাসরি মানুষ পোড়ানোর সাথে জড়িত, সেই আগুনসন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো প্রতিহিংসা নয়। বরং বেগম খালেদা জিয়া এবং তার স্বামী জিয়াউর রহমানই প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন।

একাত্তরে পাকিস্তানের দালাল হিসেবে যারা বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনা করেছে, সেই রাজাকার আলবদর গোষ্ঠী, যারা পঁচাত্তরে নারী-শিশুসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। যারা সেই একাত্তরের খুনী ও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের প্রশ্রয় দিয়ে পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করেছে, তারাই প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে। তারা একুশে আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চক্রান্ত করেছিল, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে মাফ করে দেয়ার কথা বললেন। এটিই হচ্ছে বছরের সেরা রাজনৈতিক কৌতুক। মাফ তো চাইবেন বেগম খালেদা জিয়া জাতির কাছে- মানুষ পোড়ানোর জন্যে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চক্রান্তের জন্যে, আহসান উল্লাহ মাস্টার ও কিবরিয়াকে হত্যার জন্যে। মাফ চাইবেন জঙ্গিদের লালন করার জন্যে, খালেদা জিয়া জাতির কাছে মাফ চাইবেন রাজাকার পোষার জন্যে, মা-বেটার অপরাধের জন্যে।

‘সুতরাং যার মাফ চাওয়ার কথা, সেই খালেদা জিয়া জাতির কাছে মাফ না চেয়ে, শেখ হাসিনাকে মাফ করে দিলেন, এটা বছরের সেরা রাজনৈতিক কৌতুক হিসেবে আমি গণ্য করছি। ’ তথ্যমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের রাজনীতিতে থাকতে চাইলে, মানুষ পোড়ানোসহ যেসব জঘন্য অপরাধের সাথে তিনি জড়িত, তার জন্য জাতির কাছে মাফ চাইতে এবং রাজাকার, জামায়াত ও জঙ্গিদের জোট থেকে বাদ দেয়াসহ ভূতের সরকারের বদলে নিয়মতান্ত্রিক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার অঙ্গীকারের ঘোষণার আহবান জানান।