ঢাকা ০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

উত্তরার লেকের এই মাছগুলোর কি দোষ ছিল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টর–সংলগ্ন লেকে চাষ করা মাছ মরে ভেসে উঠেছে। কাজী আবদুল আজিজ নামের এক ব্যক্তি মাছ চাষের জন্য ওই লেক ইজারা নিয়েছেন। তার অভিযোগ, পানিতে বিষ ছড়িয়ে তাঁর চাষ করা মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতা জড়িত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, কি দোষ ছিল এই মাছগুলোর। এমন কাজ একজন মানুষের পক্ষে কিভাবে করা সম্ভব। এদিকে, উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।’

ইজারাদার আবদুল আজিজ বলেন, ২০১০ সাল থেকে তিনি লেকটি মাছ চাষের জন্য ইজারা নেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালে তাঁর ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। রাজউক লেক উন্নয়নের কাজ করবে বলে নতুন করে চুক্তিটি নবায়ন করেনি। তবে লেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় তিনি নতুন করে পোনা ছাড়েন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম তাঁকে ফোন করে নাসির সরকার নামের একজনের সঙ্গে মিলেমিশে মাছ চাষ করার প্রস্তাব দেন। এর কয়েক দিন পর মো. মিজান ও মো. শাহজাহান নামের দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে আসেন। তাঁরা একসঙ্গে মাছ চাষের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি এতে রাজি হননি। তিনি বলেন, তাঁদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পানিতে বিষ মিশিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘আমি তাঁকে (আজিজ) কোনো ফোন করিনি।’ তবে বলেন, রাজউক বলে দিয়েছে, লেক উন্নয়নের কাজ হবে। লেক এখন কারও ইজারায় নেই। তাহলে তিনি মাছ চাষ করছেন কী করে?

মো. শাহজাহান ও মো. মিজানের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে একজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যজন মো. মিজান বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ঠিক নয়।

ইজারার ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প ব্যবস্থাপক) এনামুল কাদির বলেন, ইজারার মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে। তবে এখনো আবদুল আজিজ মাছ চাষ করছেন। আজিজকে মাছ ধরে ফেলার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে মাছ মরে যাওয়ার ঘটনা তিনি জানেন না বলে জানান।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরা ৩ ও ৫ নম্বর সেক্টরের সংযোগ সেতুর দক্ষিণ দিকের লেকের পানিতে প্রচুর পরিমাণ মরা মাছ পানিতে ভেসে আছে। বেশির ভাগই তেলাপিয়া। এ ছাড়া রুই, গ্রাস কার্প, কাতল মাছও আছে। এসব মাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা বলে আবদুল আজিজ দাবি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যা থেকে লেকের পানিতে মাছের অস্বাভাবিক লাফালাফি শুরু হয়। কিছু মাছ লাফিয়ে ডাঙায় উঠে পড়ে। লেকের পাড়ে বেড়াতে আসা মানুষ সেগুলো ধরে নিয়ে যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

উত্তরার লেকের এই মাছগুলোর কি দোষ ছিল

আপডেট সময় ০২:২৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টর–সংলগ্ন লেকে চাষ করা মাছ মরে ভেসে উঠেছে। কাজী আবদুল আজিজ নামের এক ব্যক্তি মাছ চাষের জন্য ওই লেক ইজারা নিয়েছেন। তার অভিযোগ, পানিতে বিষ ছড়িয়ে তাঁর চাষ করা মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতা জড়িত বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, কি দোষ ছিল এই মাছগুলোর। এমন কাজ একজন মানুষের পক্ষে কিভাবে করা সম্ভব। এদিকে, উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।’

ইজারাদার আবদুল আজিজ বলেন, ২০১০ সাল থেকে তিনি লেকটি মাছ চাষের জন্য ইজারা নেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালে তাঁর ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। রাজউক লেক উন্নয়নের কাজ করবে বলে নতুন করে চুক্তিটি নবায়ন করেনি। তবে লেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় তিনি নতুন করে পোনা ছাড়েন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম তাঁকে ফোন করে নাসির সরকার নামের একজনের সঙ্গে মিলেমিশে মাছ চাষ করার প্রস্তাব দেন। এর কয়েক দিন পর মো. মিজান ও মো. শাহজাহান নামের দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে আসেন। তাঁরা একসঙ্গে মাছ চাষের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি এতে রাজি হননি। তিনি বলেন, তাঁদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পানিতে বিষ মিশিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘আমি তাঁকে (আজিজ) কোনো ফোন করিনি।’ তবে বলেন, রাজউক বলে দিয়েছে, লেক উন্নয়নের কাজ হবে। লেক এখন কারও ইজারায় নেই। তাহলে তিনি মাছ চাষ করছেন কী করে?

মো. শাহজাহান ও মো. মিজানের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে একজনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যজন মো. মিজান বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ঠিক নয়।

ইজারার ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প ব্যবস্থাপক) এনামুল কাদির বলেন, ইজারার মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে। তবে এখনো আবদুল আজিজ মাছ চাষ করছেন। আজিজকে মাছ ধরে ফেলার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে মাছ মরে যাওয়ার ঘটনা তিনি জানেন না বলে জানান।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরা ৩ ও ৫ নম্বর সেক্টরের সংযোগ সেতুর দক্ষিণ দিকের লেকের পানিতে প্রচুর পরিমাণ মরা মাছ পানিতে ভেসে আছে। বেশির ভাগই তেলাপিয়া। এ ছাড়া রুই, গ্রাস কার্প, কাতল মাছও আছে। এসব মাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা বলে আবদুল আজিজ দাবি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যা থেকে লেকের পানিতে মাছের অস্বাভাবিক লাফালাফি শুরু হয়। কিছু মাছ লাফিয়ে ডাঙায় উঠে পড়ে। লেকের পাড়ে বেড়াতে আসা মানুষ সেগুলো ধরে নিয়ে যায়।