ঢাকা ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের কঠিন অতীত নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে: দুদু স্থগিত সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর আহ্বান মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি: বিরোধীদলীয় নেতা স্কুলছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আটক প্রান্তিক মানুষের নাগালে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: মির্জা ফখরুল চীনে ভারি বৃষ্টিতে ভূমিধসে নিহত বেড়ে ২৫, বেইজিংসহ একাধিক অঞ্চলে সতর্কতা হামাসের দুই কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের হাসিনাকে গুম-খুন নিয়ে প্রশ্ন না করে অনেক সাংবাদিক তৈলমর্দনে ব্যস্ত ছিলেন: কাদের গনি ঢাকায় ফের ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ, যুক্ত হতে পারে বেসরকারি খাত জনগণ আপনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, কীভাবে আসবেন আসেন: শেখ হাসিনাকে পরওয়ার

শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি: খালেদা জিয়া

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে চতুর্থ দিনের বক্তব্য দিতে গিয়ে আদালতকে খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবেন না তিনি। প্রতিহিংসার রাজনীতিও করবেন না। শেখ হাসিনাকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের কথা স্মরণ করে বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) আদালতে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সঙ্গে কোনও সমঝোতা করিনি। তারা আমার সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছিল। নানা রকম প্রস্তাব আমার কাছে এসেছিল। আমি তাতে রাজি হইনি। জানিয়েছিল জরুরি অবস্থা তুলে দিয়ে তারা নির্বাচনে যেতে চায়। আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে গোপন আঁতাত করে ক্ষমতায় গিয়েছিল। সংবিধান ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। সরকারকে সহযোগিতার কথা বলেছিলাম। কিন্তু আমাদের সহযোগিতার আচরণের বিনিময়ে তারা কী আচরণ করেছে তা সবারই জানা।’

খালেদা বলেন, ‘প্রতিহিংসার বিপরীতে সংযম ও সহিষ্ণুতার পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা আমরা বারবার করে এসেছি। কিছুদিন আগেও আমি সংবাদ সম্মেলনে অতীতের তিক্ততার কথা তুলে ধরেছি। আমার ও শহীদ জিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ক্রমাগত অশোভন উক্তি, প্রতিহিংসামূলক বৈরী আচরণ সত্ত্বেও আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি তার প্রতি কোনও প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবো না।’

আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, রাজনীতিতে সহিষ্ণু, সুন্দর সংস্কৃতি গড়ে তুলি। যা গণতন্ত্রের জন্য খুবই প্রয়োজন। যাতে আমাদের কাছ থেকে ভবিষ্যত প্রজন্ম ভালো কিছু শিখতে পারে। প্রতিহিংসামূলক বৈরী আচরণের পরও আমি তাকে (শেখ হাসিনা) ক্ষমা করে দিয়েছি।’

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১ টা ৩৯ মিনিটে তিনি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে আসেন। ১১টা ৫৮ থেকে ১টা ৩২ পর্যন্ত বক্তব্য দেন। মাঝখানে আজানের জন্য কিছু সময়ের বিরতি ছিল।

খালেদা জিয়া আদালতে বলেন, ‘বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করেছি। সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়াসহ ভালো প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ভিশন টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ঘোষণা করেছি। এসব উদারতার জবাব আমাদের কোন ভাষায় দেওয়া হচ্ছে তা সবাই জানে, আপনিও (আদালত) জানেন। এদেশে গণতন্ত্র নেই, কার্যকর সংসদ নেই, প্রহসনের প্রশাসন চলছে। গুম, খুন, অপহরণ, নির্যাতন ও বিচারহীনতার রাজত্ব চলছে। ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে।’

আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য শেষ না হওয়ায় আগামী ১৬ নভেম্বরও তিনি আদালতে আসবেন। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর, ২৬ অক্টোবর ও ২ নভেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের কঠিন অতীত নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে: দুদু

শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি: খালেদা জিয়া

আপডেট সময় ০৩:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে চতুর্থ দিনের বক্তব্য দিতে গিয়ে আদালতকে খালেদা জিয়া বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রতি প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবেন না তিনি। প্রতিহিংসার রাজনীতিও করবেন না। শেখ হাসিনাকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের কথা স্মরণ করে বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) আদালতে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সঙ্গে কোনও সমঝোতা করিনি। তারা আমার সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছিল। নানা রকম প্রস্তাব আমার কাছে এসেছিল। আমি তাতে রাজি হইনি। জানিয়েছিল জরুরি অবস্থা তুলে দিয়ে তারা নির্বাচনে যেতে চায়। আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে গোপন আঁতাত করে ক্ষমতায় গিয়েছিল। সংবিধান ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। সরকারকে সহযোগিতার কথা বলেছিলাম। কিন্তু আমাদের সহযোগিতার আচরণের বিনিময়ে তারা কী আচরণ করেছে তা সবারই জানা।’

খালেদা বলেন, ‘প্রতিহিংসার বিপরীতে সংযম ও সহিষ্ণুতার পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা আমরা বারবার করে এসেছি। কিছুদিন আগেও আমি সংবাদ সম্মেলনে অতীতের তিক্ততার কথা তুলে ধরেছি। আমার ও শহীদ জিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ক্রমাগত অশোভন উক্তি, প্রতিহিংসামূলক বৈরী আচরণ সত্ত্বেও আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি তার প্রতি কোনও প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবো না।’

আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, রাজনীতিতে সহিষ্ণু, সুন্দর সংস্কৃতি গড়ে তুলি। যা গণতন্ত্রের জন্য খুবই প্রয়োজন। যাতে আমাদের কাছ থেকে ভবিষ্যত প্রজন্ম ভালো কিছু শিখতে পারে। প্রতিহিংসামূলক বৈরী আচরণের পরও আমি তাকে (শেখ হাসিনা) ক্ষমা করে দিয়েছি।’

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১১ টা ৩৯ মিনিটে তিনি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে আসেন। ১১টা ৫৮ থেকে ১টা ৩২ পর্যন্ত বক্তব্য দেন। মাঝখানে আজানের জন্য কিছু সময়ের বিরতি ছিল।

খালেদা জিয়া আদালতে বলেন, ‘বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করেছি। সমঝোতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়াসহ ভালো প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ভিশন টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ঘোষণা করেছি। এসব উদারতার জবাব আমাদের কোন ভাষায় দেওয়া হচ্ছে তা সবাই জানে, আপনিও (আদালত) জানেন। এদেশে গণতন্ত্র নেই, কার্যকর সংসদ নেই, প্রহসনের প্রশাসন চলছে। গুম, খুন, অপহরণ, নির্যাতন ও বিচারহীনতার রাজত্ব চলছে। ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে।’

আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য শেষ না হওয়ায় আগামী ১৬ নভেম্বরও তিনি আদালতে আসবেন। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর, ২৬ অক্টোবর ও ২ নভেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন।