ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

প্যারাডাইজ পেপারর্স কেলেঙ্কারিতে বিশ্বনেতাদের নাম

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আবারও ফাঁস হলো বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধরের গোপন তথ্য। এবারে ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে আলোচিত-সমালোচিত বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ,কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো!

এই কেলেঙ্কারির নাম দেয়া হয়েছে ‘প্যারাডাইজ পেপারস’। এতে গোপনে বিপুল পরিমাণ অর্থ করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত দেশ ও অঞ্চলের অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আর এসব আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা।

গত বছর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির ঘটনা সামলাতে না সামলাতে নতুন করে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হলো। এবারও পানামা পেপার্সের মতো এসব নথি প্রথমে জার্মান দৈনিক সুইডয়চে সাইটংয়ের হাতে আসে। পরে সেসব নথি ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকের (আইসিআইজে) হাতে তুলে দেয় তারা। বারমুডায় অবস্থিত অ্যাপলবাই নামের এক আইনি সহযোগী সংঘটনের গোপন নথি এসব। যার মধ্যে ১ কোটি ৩৪ লাখ ডকুমেন্টস এখন তদন্ত করে দেখছে ৬৭টি দেশের ৩৮০ জন সাংবাদিক। এসব নথি পেয়েছে বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের ১০০টি সংবাদমাধ্যম।

এ দিকে গতবার পানামা কেলেঙ্কারিতে লিওনেল মেসির নাম এসেছিল। এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব এভারটনের নাম এসেছে। যেখানে এফসিতে বিনিয়োগ করা বড় একটা অংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সম্পৃক্ততা:

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ব্যক্তিগত অর্থের প্রায় এক কোটি পাউন্ড অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ হয়েছে। এসব অর্থে কেম্যান আইল্যান্ড ও বারমুডায় রানির নামে আলাদা তহবিল সৃষ্টি করা হয়েছে। ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব অর্থ সেখানে গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি রানির ব্যক্তিগত সম্পদ ৫০ কোটি পাউন্ডের বিনিয়োগ দেখভাল করে এবং তাকে মুনাফা তুলে দেয়।

তবে এই বিনিয়োগে অবৈধ কিছুর ইঙ্গিত নেই, বা বলা হয়নি রানি কর দিচ্ছেন না। কিন্তু রাজপরিবারের কারও অন্য দেশে বিনিয়োগ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্রাইট হাউস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে রানির বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে দরিদ্রদের নিষ্পেষিত করার অভিযোগ আছে। এই প্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার লোক তাদের চাকরি হারিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প:

নব্বইয়ের দশকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন উইলবার রস। এ জন্য এই ব্যক্তিকে বাণিজ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী:

নব্বইয়ের দশকে ট্রাম্পকে দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচানোয় মার্কিন প্রশাসনে আজকের অবস্থানে বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী একটি শিপিং কোম্পানি থেকে লাভের অর্থ নেন। যারা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জামাতা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা দুই রুশের মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানিকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করে।

মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে ট্রাম্প এরমধ্যেই ঘরে-বাইরে প্রশ্নের মুখে রয়েছেন। ফাঁস হওয়া তথ্য আবারও নতুন করে প্রশ্ন তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। উইলবার রস ছাড়াও ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য, অর্থদাতা ও মিত্র ডজনখানেক ব্যক্তির নাম এসব নথিতে উঠে এসেছে বলে আইসিজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর এক ঘনিষ্ঠজনের অফশোর কোম্পানিতে লেনদেনে সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। স্টেফেন ব্রনফম্যান নামের ওই ব্যক্তি ট্রুডোর দল লিবারেল পার্টির প্রধান তহবিল সংগ্রাহক। বিদেশে কর ফাঁকি ঠেকাতে অফশোর বিনিয়োগ বন্ধের পক্ষে সোচ্চার ট্রুডোর জন্য লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান ও অন্যতম অর্থদাতা লর্ড অ্যাশক্রফটের অফশোর বিনিয়োগের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অ্যাপল, নাইকি ও উবারসহ প্রায় ১০০ বহুজাতিক কোম্পানির কর পরিকল্পনার বিস্তারিত উঠে এসেছে।

বিভিন্ন নথিতে দেখা গেছে রস এমন এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত, যারা রাশিয়ান সংস্থাকে তেল ও গ্যাস শিপিং করে। এর মাধ্যমে এক বছরেই উইলবার রস মিলিয়ন ডলার আয় করেন। তবে কথা হচ্ছে, যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উইলবার রস জড়িত তার অংশীদার ভ্লাদিমির পুতিনের জামাই এবং আরও দুজন ব্যক্তি। যারা যুক্তরাষ্ট্রের চোখে অপরাধী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

প্যারাডাইজ পেপারর্স কেলেঙ্কারিতে বিশ্বনেতাদের নাম

আপডেট সময় ০৩:৪১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আবারও ফাঁস হলো বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধরের গোপন তথ্য। এবারে ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে আলোচিত-সমালোচিত বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ,কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো!

এই কেলেঙ্কারির নাম দেয়া হয়েছে ‘প্যারাডাইজ পেপারস’। এতে গোপনে বিপুল পরিমাণ অর্থ করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত দেশ ও অঞ্চলের অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আর এসব আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা।

গত বছর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির ঘটনা সামলাতে না সামলাতে নতুন করে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হলো। এবারও পানামা পেপার্সের মতো এসব নথি প্রথমে জার্মান দৈনিক সুইডয়চে সাইটংয়ের হাতে আসে। পরে সেসব নথি ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকের (আইসিআইজে) হাতে তুলে দেয় তারা। বারমুডায় অবস্থিত অ্যাপলবাই নামের এক আইনি সহযোগী সংঘটনের গোপন নথি এসব। যার মধ্যে ১ কোটি ৩৪ লাখ ডকুমেন্টস এখন তদন্ত করে দেখছে ৬৭টি দেশের ৩৮০ জন সাংবাদিক। এসব নথি পেয়েছে বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের ১০০টি সংবাদমাধ্যম।

এ দিকে গতবার পানামা কেলেঙ্কারিতে লিওনেল মেসির নাম এসেছিল। এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব এভারটনের নাম এসেছে। যেখানে এফসিতে বিনিয়োগ করা বড় একটা অংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সম্পৃক্ততা:

ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ব্যক্তিগত অর্থের প্রায় এক কোটি পাউন্ড অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ হয়েছে। এসব অর্থে কেম্যান আইল্যান্ড ও বারমুডায় রানির নামে আলাদা তহবিল সৃষ্টি করা হয়েছে। ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব অর্থ সেখানে গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি রানির ব্যক্তিগত সম্পদ ৫০ কোটি পাউন্ডের বিনিয়োগ দেখভাল করে এবং তাকে মুনাফা তুলে দেয়।

তবে এই বিনিয়োগে অবৈধ কিছুর ইঙ্গিত নেই, বা বলা হয়নি রানি কর দিচ্ছেন না। কিন্তু রাজপরিবারের কারও অন্য দেশে বিনিয়োগ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্রাইট হাউস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে রানির বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে দরিদ্রদের নিষ্পেষিত করার অভিযোগ আছে। এই প্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার লোক তাদের চাকরি হারিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প:

নব্বইয়ের দশকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন উইলবার রস। এ জন্য এই ব্যক্তিকে বাণিজ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী:

নব্বইয়ের দশকে ট্রাম্পকে দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচানোয় মার্কিন প্রশাসনে আজকের অবস্থানে বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী একটি শিপিং কোম্পানি থেকে লাভের অর্থ নেন। যারা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জামাতা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা দুই রুশের মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানিকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করে।

মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে ট্রাম্প এরমধ্যেই ঘরে-বাইরে প্রশ্নের মুখে রয়েছেন। ফাঁস হওয়া তথ্য আবারও নতুন করে প্রশ্ন তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। উইলবার রস ছাড়াও ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য, অর্থদাতা ও মিত্র ডজনখানেক ব্যক্তির নাম এসব নথিতে উঠে এসেছে বলে আইসিজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর এক ঘনিষ্ঠজনের অফশোর কোম্পানিতে লেনদেনে সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। স্টেফেন ব্রনফম্যান নামের ওই ব্যক্তি ট্রুডোর দল লিবারেল পার্টির প্রধান তহবিল সংগ্রাহক। বিদেশে কর ফাঁকি ঠেকাতে অফশোর বিনিয়োগ বন্ধের পক্ষে সোচ্চার ট্রুডোর জন্য লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান ও অন্যতম অর্থদাতা লর্ড অ্যাশক্রফটের অফশোর বিনিয়োগের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অ্যাপল, নাইকি ও উবারসহ প্রায় ১০০ বহুজাতিক কোম্পানির কর পরিকল্পনার বিস্তারিত উঠে এসেছে।

বিভিন্ন নথিতে দেখা গেছে রস এমন এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত, যারা রাশিয়ান সংস্থাকে তেল ও গ্যাস শিপিং করে। এর মাধ্যমে এক বছরেই উইলবার রস মিলিয়ন ডলার আয় করেন। তবে কথা হচ্ছে, যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উইলবার রস জড়িত তার অংশীদার ভ্লাদিমির পুতিনের জামাই এবং আরও দুজন ব্যক্তি। যারা যুক্তরাষ্ট্রের চোখে অপরাধী।