ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ মোদি-শাহ’র পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না: সরোয়ার তুষার বিএনপি সরকার হাওয়ায় ভেসে আসেনি: আযম খান ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন রাশেদ যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: জুবাইদা রহমান নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির প্রবাসী কার্ডধারীদের ভূমি সেবা সহজ করতে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ

নাবিকের সমুদ্রযাত্রার সাতকাহন

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ক্যাপ্টেন শামস উজ জামানের নুনকি একটি তারার নাম: নাবিকের সমুদ্রযাত্রা এমন একধরনের বই, এককথায় যার পাঠ নতুন এক অভিজ্ঞতার জারকে মনকে জারিত করে। বাংলা সাহিত্যের এত যে বিশাল ও বিস্তৃত পরিসর এবং তার যে বহুবর্ণিলতা, সেই প্রেক্ষাপটেও এ বই নতুন আবিষ্কৃত এক নক্ষত্রের মতোই জ্বলজ্বলে। সত্যি বলতে কি, নাবিকদের জীবন নিয়ে বাংলা সাহিত্যে বইয়ের সংখ্যা আঙুলে গোনা। সেদিক দিয়ে বইটির গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না।

ক্যাপ্টেন শামস উজ জামানের বইটির বড় বৈশিষ্ট্য, তিনি শুরু করেছেন শিক্ষানবিশির পুরোদস্তুর বিবরণ তুলে ধরার ভেতর দিয়ে। দেশ ও বিদেশের সেই শিক্ষানবিশির কালটি সহজ-সরল ছিল না, ছিল কঠোর শ্রমসাপেক্ষ।

বইটির একটি সংক্ষিপ্তসার উঠে এসেছে লেখকের দীর্ঘ ও সুলিখিত ভূমিকা মারফত। সেই ভূমিকার একেবারে শুরুতেই তিনি আমাদের জানাচ্ছেন, ‘লিখতে গিয়ে দেখি খুব লম্বা হয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমার সমুদ্রচারী জীবনের গল্পগুলোকে তিন পর্বে ভাগ করে লিখেছি। প্রথম পর্বে আছে জাহাজে আমার শিক্ষানবিশ জীবনের কথা। ক্যাপ্টেন হওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য, হংকং ও আয়ারল্যান্ডে লেখাপড়ার সময়টা নিয়ে লিখেছি দ্বিতীয় পর্ব। তৃতীয় বা শেষ পর্বে আমি ১৮০ দিনের সমুদ্রভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছি। এ পর্ব শেষ হয়েছে আমার বন্ধু আবুজার জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে। প্রসঙ্গক্রমে কোথাও কোথাও আমার বাল্য ও কৈশোরের দু-একটি ঘটনারও বর্ণনা দিয়েছি। পাঠক এ বইয়ে সমুদ্র, জাহাজ ও সমুদ্রচারী মেরিনারদের জীবনের একটি ধারণা পাবেন।’

নুনকি একটি তারার নাম: নাবিকের সমুদ্রযাত্রা বইটির ঘটনার শুরু কলকাতা বন্দর থেকে। তারপর লেখক এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন ও নিম্নতম স্তরের কর্মীরা জাহাজে চেপে যাচ্ছেন পৃথিবীর কত সব বন্দরে! যাচ্ছেন, সমুদ্রপথেই, ব্যাংকক-আবিদজান, আবিদজান-ওডেনস, ওডেনস-কলম্বো এবং কলম্বো থেকে কলকাতা। মোটা দাগে চারটি ভয়েজ বা সমুদ্রযাত্রা। এই সব যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ নাবিকদের বাঁধা কঠোর কাজকর্ম, পার্টি, হই-হুল্লোড়ের পাশাপাশি আছে খারাপ আবহাওয়া এবং ঝড়ঝঞ্ঝার মুখে সাহসের পরিচয় দেওয়ার কথা। আছে বিভিন্ন বন্দর ও সমুদ্রসংলগ্ন জনপদের জীবনযাত্রার বিবরণও। মনে রাখা দরকার, এ বইয়ের লেখক পেশাদার লেখকভুক্ত কেউ নন। কিন্তু তাঁর রচনাশৈলী অনেক ক্ষেত্রেই পেশাদার লেখককেও হার মানাবে। ক্যাপ্টেন শামসের দেখার চোখ ও দেখা ঘটনা তুলে ধরার পটুতা রীতিমতো ঈর্ষা-জাগানিয়া।

লেখক জানাচ্ছেন, ‘একবার ঝড়ে পড়ে আমার চোখে ভীতিচিহ্ন দেখে ক্যাপ্টেন রিচমন্ড বলেছিলেন, “ভয়ের কিছু নেই। জাহানের স্টিয়ারিং ও ক্যাপ্টেন ঠিক থাকলে জাহাজের কিছু হয় না।”

‘আরব সাগরে একবার জাহাজের মাপ এপাশ থেকে ওপাশে সরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। তাতে জাহাজ ডুবে যেতে বসেছিল। জাহাজ ডুবে গেলে সিএনএন, বিবিসিতে খবর বের হতো। কিন্তু সে যাত্রা রক্ষা পেয়েছি। কী জানি ক্যাপ্টেন রিচমন্ড ঠিক কথা বলেছিলেন কি না অথবা তাঁর কথায় সত্যি সত্যি কোনো মেসেজ ছিল কি না।’ লেখকের বর্ণনা থেকে এ জাতীয় ঘটনার কথা পড়লে মনে হয়, পাঠক হিসেবে আমি নিজেও বুঝি তাঁদের সঙ্গী-সহচর। এমনই তাঁর লেখনী-শক্তি!

এ রকম অসংখ্য ঘটনার সমাহার আলোচ্য বইখানি। কোথাও পড়তে গিয়ে একঘেয়েমির শিকার হতে হয় না। শেষতক, সেই মন ভারাক্রান্ত করা এপিসোডে চলে আসি আমরা। পড়ি আবুজার জাহাজেই প্রেম-ভালোবাসা ও পরিণয়ের কথা। তার সন্তানের জনক হওয়ার কথা। তার বিবাহবিচ্ছেদের কথা। অন্তিমে আবুজার মানসিক ভারসাম্য হারানোর বিবরণ পাঠ করতে গিয়ে কখন যে চোখ ভিজে যায়, বুঝতে পারি না! প্রথম সংস্করণ শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ বাজারে এসেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ

নাবিকের সমুদ্রযাত্রার সাতকাহন

আপডেট সময় ০৫:০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ক্যাপ্টেন শামস উজ জামানের নুনকি একটি তারার নাম: নাবিকের সমুদ্রযাত্রা এমন একধরনের বই, এককথায় যার পাঠ নতুন এক অভিজ্ঞতার জারকে মনকে জারিত করে। বাংলা সাহিত্যের এত যে বিশাল ও বিস্তৃত পরিসর এবং তার যে বহুবর্ণিলতা, সেই প্রেক্ষাপটেও এ বই নতুন আবিষ্কৃত এক নক্ষত্রের মতোই জ্বলজ্বলে। সত্যি বলতে কি, নাবিকদের জীবন নিয়ে বাংলা সাহিত্যে বইয়ের সংখ্যা আঙুলে গোনা। সেদিক দিয়ে বইটির গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না।

ক্যাপ্টেন শামস উজ জামানের বইটির বড় বৈশিষ্ট্য, তিনি শুরু করেছেন শিক্ষানবিশির পুরোদস্তুর বিবরণ তুলে ধরার ভেতর দিয়ে। দেশ ও বিদেশের সেই শিক্ষানবিশির কালটি সহজ-সরল ছিল না, ছিল কঠোর শ্রমসাপেক্ষ।

বইটির একটি সংক্ষিপ্তসার উঠে এসেছে লেখকের দীর্ঘ ও সুলিখিত ভূমিকা মারফত। সেই ভূমিকার একেবারে শুরুতেই তিনি আমাদের জানাচ্ছেন, ‘লিখতে গিয়ে দেখি খুব লম্বা হয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমার সমুদ্রচারী জীবনের গল্পগুলোকে তিন পর্বে ভাগ করে লিখেছি। প্রথম পর্বে আছে জাহাজে আমার শিক্ষানবিশ জীবনের কথা। ক্যাপ্টেন হওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য, হংকং ও আয়ারল্যান্ডে লেখাপড়ার সময়টা নিয়ে লিখেছি দ্বিতীয় পর্ব। তৃতীয় বা শেষ পর্বে আমি ১৮০ দিনের সমুদ্রভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছি। এ পর্ব শেষ হয়েছে আমার বন্ধু আবুজার জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে। প্রসঙ্গক্রমে কোথাও কোথাও আমার বাল্য ও কৈশোরের দু-একটি ঘটনারও বর্ণনা দিয়েছি। পাঠক এ বইয়ে সমুদ্র, জাহাজ ও সমুদ্রচারী মেরিনারদের জীবনের একটি ধারণা পাবেন।’

নুনকি একটি তারার নাম: নাবিকের সমুদ্রযাত্রা বইটির ঘটনার শুরু কলকাতা বন্দর থেকে। তারপর লেখক এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন ও নিম্নতম স্তরের কর্মীরা জাহাজে চেপে যাচ্ছেন পৃথিবীর কত সব বন্দরে! যাচ্ছেন, সমুদ্রপথেই, ব্যাংকক-আবিদজান, আবিদজান-ওডেনস, ওডেনস-কলম্বো এবং কলম্বো থেকে কলকাতা। মোটা দাগে চারটি ভয়েজ বা সমুদ্রযাত্রা। এই সব যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ নাবিকদের বাঁধা কঠোর কাজকর্ম, পার্টি, হই-হুল্লোড়ের পাশাপাশি আছে খারাপ আবহাওয়া এবং ঝড়ঝঞ্ঝার মুখে সাহসের পরিচয় দেওয়ার কথা। আছে বিভিন্ন বন্দর ও সমুদ্রসংলগ্ন জনপদের জীবনযাত্রার বিবরণও। মনে রাখা দরকার, এ বইয়ের লেখক পেশাদার লেখকভুক্ত কেউ নন। কিন্তু তাঁর রচনাশৈলী অনেক ক্ষেত্রেই পেশাদার লেখককেও হার মানাবে। ক্যাপ্টেন শামসের দেখার চোখ ও দেখা ঘটনা তুলে ধরার পটুতা রীতিমতো ঈর্ষা-জাগানিয়া।

লেখক জানাচ্ছেন, ‘একবার ঝড়ে পড়ে আমার চোখে ভীতিচিহ্ন দেখে ক্যাপ্টেন রিচমন্ড বলেছিলেন, “ভয়ের কিছু নেই। জাহানের স্টিয়ারিং ও ক্যাপ্টেন ঠিক থাকলে জাহাজের কিছু হয় না।”

‘আরব সাগরে একবার জাহাজের মাপ এপাশ থেকে ওপাশে সরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। তাতে জাহাজ ডুবে যেতে বসেছিল। জাহাজ ডুবে গেলে সিএনএন, বিবিসিতে খবর বের হতো। কিন্তু সে যাত্রা রক্ষা পেয়েছি। কী জানি ক্যাপ্টেন রিচমন্ড ঠিক কথা বলেছিলেন কি না অথবা তাঁর কথায় সত্যি সত্যি কোনো মেসেজ ছিল কি না।’ লেখকের বর্ণনা থেকে এ জাতীয় ঘটনার কথা পড়লে মনে হয়, পাঠক হিসেবে আমি নিজেও বুঝি তাঁদের সঙ্গী-সহচর। এমনই তাঁর লেখনী-শক্তি!

এ রকম অসংখ্য ঘটনার সমাহার আলোচ্য বইখানি। কোথাও পড়তে গিয়ে একঘেয়েমির শিকার হতে হয় না। শেষতক, সেই মন ভারাক্রান্ত করা এপিসোডে চলে আসি আমরা। পড়ি আবুজার জাহাজেই প্রেম-ভালোবাসা ও পরিণয়ের কথা। তার সন্তানের জনক হওয়ার কথা। তার বিবাহবিচ্ছেদের কথা। অন্তিমে আবুজার মানসিক ভারসাম্য হারানোর বিবরণ পাঠ করতে গিয়ে কখন যে চোখ ভিজে যায়, বুঝতে পারি না! প্রথম সংস্করণ শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ বাজারে এসেছে।