ঢাকা ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন: পার্থ নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা দেখছি না: জি এম কাদের সংবিধানের দুর্বলতা দূর করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করব: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না : সুজন

বিশ্বমানের সেনাবাহিনী গড়ছে চীন, ভারতের উদ্বেগ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

২১ শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ আধুনিক ও বিশ্বমানের একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এতে উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, বেইজিংয়ের এই সামরিক উচ্চাশা বর্তমানে ভারতের জন্য কোনো কৌশলগত হুমকি নয়। সম্প্রতি চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসের সমাবেশে জিনপিং বলেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে সবকিছু স্বয়ংক্রিয় হবে এবং প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতায় বড় ধরনের উন্নয়ন হবে। আর ২০৩৫ সাল নাগাদ জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ সম্পূর্ণ শেষ হবে।’ একটি শক্তিশালী ও আধুনিক সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, রকেট বাহিনী এবং কৌশলগত সহযোগী বাহিনী তৈরি করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

জিনপিংয়ের এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় ও প্রস্তুত করছে চীন। গত ৩০ বছর ধরে দেশটির সামরিক বাজেট বেড়েই চলেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের চেয়ে তা এখনও তিন গুণ কম। বেইজিং এখন তা আরও বাড়াতে চায়। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক হিসাবে, ২০১৬ সালে দেশটির সামরিক ব্যয় ছিল ২১৫ বিলিয়ন ডলার। সামরিক বাজেটের দিক দিয়ে দেশটি এশিয়াতে প্রথম স্থানে রয়েছে। সামরিক খাতে ৫৬ বিলিয়ন ডলার বাজেট দিয়ে এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এর পরেই রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। দেশ দুটির সামরিক বাজেট যথাক্রমে ৪৬ বিলিয়ন ডলার ও ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

জেমস কর নামে একজন সামরিক বিশ্লেষক বলেন, প্রেসিডেন্ট জিনপিং তার জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে চীনের সেনাবাহিনীকে বিশ্বমানে উন্নীত করার চেষ্টা করছেন। তিনি অন্যান্য দেশকে দেখাতে চান যে, শক্তিশালী অর্থনীতির পাশাপাশি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়াও চীনের আকাক্সক্ষা। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে চীনের তথাকথিত এক শতাব্দীকালের অবমাননা শুরু হয়। এই সময়কালে দেশটি যতগুলো যুদ্ধ করেছে, প্রায় প্রত্যেকটা যুদ্ধেই তারা পরাজিত হয়েছে। ফলে প্রতিকূল চুক্তির অধীনে বড় ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়েছে দেশটি। সাংহাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন বিভাগের অধ্যাপক নি লেজিয়ং বলেন, ‘এ কারণেই চীন অন্যান্য দেশের চেয়ে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর স্বপ্ন বেশি করে দেখে। এটা অন্য দেশকে পদানত করার জন্য নয়, বরং নিজেদের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার জন্য। ‘১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। বর্তমানে দেশটির সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে একটি নতুন সামরিক পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন: পার্থ

বিশ্বমানের সেনাবাহিনী গড়ছে চীন, ভারতের উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৩:০৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

২১ শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ আধুনিক ও বিশ্বমানের একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এতে উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, বেইজিংয়ের এই সামরিক উচ্চাশা বর্তমানে ভারতের জন্য কোনো কৌশলগত হুমকি নয়। সম্প্রতি চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসের সমাবেশে জিনপিং বলেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে সবকিছু স্বয়ংক্রিয় হবে এবং প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতায় বড় ধরনের উন্নয়ন হবে। আর ২০৩৫ সাল নাগাদ জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ সম্পূর্ণ শেষ হবে।’ একটি শক্তিশালী ও আধুনিক সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, রকেট বাহিনী এবং কৌশলগত সহযোগী বাহিনী তৈরি করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

জিনপিংয়ের এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় ও প্রস্তুত করছে চীন। গত ৩০ বছর ধরে দেশটির সামরিক বাজেট বেড়েই চলেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের চেয়ে তা এখনও তিন গুণ কম। বেইজিং এখন তা আরও বাড়াতে চায়। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক হিসাবে, ২০১৬ সালে দেশটির সামরিক ব্যয় ছিল ২১৫ বিলিয়ন ডলার। সামরিক বাজেটের দিক দিয়ে দেশটি এশিয়াতে প্রথম স্থানে রয়েছে। সামরিক খাতে ৫৬ বিলিয়ন ডলার বাজেট দিয়ে এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এর পরেই রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। দেশ দুটির সামরিক বাজেট যথাক্রমে ৪৬ বিলিয়ন ডলার ও ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

জেমস কর নামে একজন সামরিক বিশ্লেষক বলেন, প্রেসিডেন্ট জিনপিং তার জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে চীনের সেনাবাহিনীকে বিশ্বমানে উন্নীত করার চেষ্টা করছেন। তিনি অন্যান্য দেশকে দেখাতে চান যে, শক্তিশালী অর্থনীতির পাশাপাশি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়াও চীনের আকাক্সক্ষা। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে চীনের তথাকথিত এক শতাব্দীকালের অবমাননা শুরু হয়। এই সময়কালে দেশটি যতগুলো যুদ্ধ করেছে, প্রায় প্রত্যেকটা যুদ্ধেই তারা পরাজিত হয়েছে। ফলে প্রতিকূল চুক্তির অধীনে বড় ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়েছে দেশটি। সাংহাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আইন বিভাগের অধ্যাপক নি লেজিয়ং বলেন, ‘এ কারণেই চীন অন্যান্য দেশের চেয়ে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর স্বপ্ন বেশি করে দেখে। এটা অন্য দেশকে পদানত করার জন্য নয়, বরং নিজেদের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার জন্য। ‘১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। বর্তমানে দেশটির সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে একটি নতুন সামরিক পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে।