ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে আজ রাত থেকেই: ইরান তৌহিদ আফ্রিদি প্রতারণা মামলায় ফের গ্রেফতার দেশ মাদকমুক্ত না হলে বাজেট উপকারে আসবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে বাতিল হচ্ছে হান্নান মাসউদের এমপি পদ?, প্রশ্ন রাশেদের আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির পলক, ভিডিও ভাইরাল দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন ডা. জাহেদ উর রহমান হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে, দাবি ট্রাম্পের ব্রাজিলে দুই হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ, সব আরোহী নিহত ৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই তিউনিসিয়ার জালে সুইডেনের ৫ গোল

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের নতুন প্রস্তাব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবের পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। এ প্রসঙ্গে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন,এখন আমরা সেটি পর্যালোচনা করে আমাদের প্রস্তাব দেব। এভাবেই দুই পক্ষের প্রস্তাব-পাল্টা প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনা করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।

সরকারের এই কর্মর্কতা আরো বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব পাঠানোর তিন সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার ফিরতি প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি।’

সে সব প্রস্তাবে মিয়ানমারের অসম্মতি
বাংলাদেশের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সাল থেকে এ পর্যন্ত যত রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে, তাদের সবাইকে ফেরত নিতে হবে। এই প্রসঙ্গে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ‘মিয়ানমারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরের আগে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা কোনও প্রতিশ্রুতি দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবর থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। এছাড়া আগে থেকেই প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল।’

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের আরেকটি ধারায় বলা হয়েছিল, ফেরত পাঠানোর জন্য ১৯৯২ সালের নির্ধারিত মানদণ্ড এখানে প্রযোজ্য হবে না। এ জন্য পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। এই প্রসঙ্গে সরকারের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই প্রস্তাবের বিপরীতে তারা একটি শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তাদের প্রস্তাব হচ্ছে, ১৯৯২ সালের সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে ২০০০ সালে আরেকটি সমঝোতা হয়েছিল অল্প কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাই করার জন্য। সেটিকে তারা মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রস্তাবে ছিল রোহিঙ্গারা তাদের গৃহে প্রত্যাবর্তন করবে। এ প্রস্তাবের বিপরীতে মিয়ানমার প্রস্তাব করেছে, তারা তাদের গৃহে নয়, এর কাছাকাছি একটি জায়গায় প্রত্যাবর্তন করতে পারবে।

এ বিষয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি অনেকাংশে গ্রহণযোগ্য। কারণ তাদের অধিকাংশের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের জন্য নতুন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

বাংলাদেশের প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দফা হলো, জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা ফেরত-প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে মিযানমারের আপত্তি জানিয়েছে। এই প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘টিন্ট সোয়ে যখন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তখনই এ বিষয়ে তার আপত্তির কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন।’

দুই দেশের মধ্যে তথ্যের মধ্যে অমিল হলে, যৌথভাবে যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাব ছিল বাংলাদেশের। তবে মিয়ানমার এ প্রস্তাবেও রাজি হয়নি। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘১৯৯২ সালের সমঝোতা করতে ছয় মাসের বেশি সময় লেগেছিল। এখন আলোচনার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে। আলোচনার এ প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব-পাল্টা প্রস্তাব চলতে থাকবে। এরমধ্যে বাংলাদেশ কতটুকু বের করে নিয়ে আসতে পারবে, এটি নির্ভর করবে, দর কষাকষির দক্ষতার ওপর।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের নতুন প্রস্তাব

আপডেট সময় ০২:০৭:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবের পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। এ প্রসঙ্গে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন,এখন আমরা সেটি পর্যালোচনা করে আমাদের প্রস্তাব দেব। এভাবেই দুই পক্ষের প্রস্তাব-পাল্টা প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনা করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।

সরকারের এই কর্মর্কতা আরো বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব পাঠানোর তিন সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার ফিরতি প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি।’

সে সব প্রস্তাবে মিয়ানমারের অসম্মতি
বাংলাদেশের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সাল থেকে এ পর্যন্ত যত রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে, তাদের সবাইকে ফেরত নিতে হবে। এই প্রসঙ্গে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ‘মিয়ানমারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরের আগে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা কোনও প্রতিশ্রুতি দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবর থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। এছাড়া আগে থেকেই প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল।’

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের আরেকটি ধারায় বলা হয়েছিল, ফেরত পাঠানোর জন্য ১৯৯২ সালের নির্ধারিত মানদণ্ড এখানে প্রযোজ্য হবে না। এ জন্য পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। এই প্রসঙ্গে সরকারের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই প্রস্তাবের বিপরীতে তারা একটি শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তাদের প্রস্তাব হচ্ছে, ১৯৯২ সালের সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে ২০০০ সালে আরেকটি সমঝোতা হয়েছিল অল্প কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গার যাচাই-বাছাই করার জন্য। সেটিকে তারা মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রস্তাবে ছিল রোহিঙ্গারা তাদের গৃহে প্রত্যাবর্তন করবে। এ প্রস্তাবের বিপরীতে মিয়ানমার প্রস্তাব করেছে, তারা তাদের গৃহে নয়, এর কাছাকাছি একটি জায়গায় প্রত্যাবর্তন করতে পারবে।

এ বিষয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি অনেকাংশে গ্রহণযোগ্য। কারণ তাদের অধিকাংশের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের জন্য নতুন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

বাংলাদেশের প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দফা হলো, জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা ফেরত-প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে মিযানমারের আপত্তি জানিয়েছে। এই প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘টিন্ট সোয়ে যখন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তখনই এ বিষয়ে তার আপত্তির কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন।’

দুই দেশের মধ্যে তথ্যের মধ্যে অমিল হলে, যৌথভাবে যাচাই-বাছাইয়ের প্রস্তাব ছিল বাংলাদেশের। তবে মিয়ানমার এ প্রস্তাবেও রাজি হয়নি। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘১৯৯২ সালের সমঝোতা করতে ছয় মাসের বেশি সময় লেগেছিল। এখন আলোচনার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে। আলোচনার এ প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব-পাল্টা প্রস্তাব চলতে থাকবে। এরমধ্যে বাংলাদেশ কতটুকু বের করে নিয়ে আসতে পারবে, এটি নির্ভর করবে, দর কষাকষির দক্ষতার ওপর।’