অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
যাঁরা নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন তাঁদের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা বন্ধ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলের নিয়ম মানতে হবে। দলের প্রার্থীকে মানতে হবে। এবার প্রার্থী নৌকা, দলের প্রতীক। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধুর প্রতীক নৌকা, শেখ হাসিনার প্রতীক নৌকা। এই নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে আবারও। যারা নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেবেন, আওয়ামী লীগের দরজা তাদের জন্য বন্ধ।’
আজ বুধবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরাতন সদস্য নবায়ন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কায়ছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
কয়েকজন পুরোনো সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির পর প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লগের সাধারণ সম্পাদক দলে কাদের সদস্য করা যাবে না, সে বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের দিক নির্দেশনা দেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজশাহীতে দাগী কোনো অপরাধী আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। চিহ্নিত কোনো সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। চিহ্নিত কোনো ভূমিদস্যু, ভূমি দখলকারী, জমি দখলকারী, বাড়ি দখলকারী আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী কোনো অপশক্তি আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। নেতাদের বলছি, এটা আমার নেত্রীর নির্দেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা আজকের বাংলাদেশের উন্নয়নের রোলমডেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রাজশাহীর জনগণের কাছে অপছন্দ, অগ্রহণযোগ্য এসব লোককে আওয়ামী লীগ থেকে বের করে দিন। এতে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। অপকর্মকারী কাউকে দলভারি করার জন্য দলে টানবেন না। আমার খারাপ লোকের দরকার নেই। ভালো লোক নিয়ে চলব। খারাপ লোক বাদ দিতে হবে। ভালো লোকদের আপনি সদস্য করুন। রাজশাহী ইউনিভার্সিটির তরুণ তুর্কিদের সামলান। কেন বারবার এসব ঘটনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডারের কাজ এতে কেন একশ্রেণির অনুপ্রবেশকারী, আমি তাদের অনুপ্রবেশকারী বলব, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বিশ্বাস করে না, তারাই এ ধরনের অপকর্মে জড়িত হতে পারে। এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে নেতাদে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিষ্কার বলছি, একটি ভোটের জন্য আমরা রাজনীতি করি না। আমরা রাজনীতি করি আগামী জেনারেশনের জন্য।’
নেতাদের আচরণ খারাপ হলে উন্নয়ন কোনো কাজে আসবে না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাই উন্নয়নের আগে নিজেকে আগে ভালো হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির না, সারা বিশ্বের নেতা। যত দিন এই দেশে পদ্মা-মেঘনা বহমান থাকবে, তত দিন বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদয়ে থাকবেন। জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবেই থাকবেন। ইতিহাসে যার নাম লেখা আছে, তাঁর নাম আর কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উত্তরাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য নূরুল ইসলাম ঠান্ডু, রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















