ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

আদালতে কোকোর কথা বলে আবেগাপ্লুত খালেদা জিয়া

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিতে গিয়ে একপর্যায়ে ছোট ছেলে কোকোর মৃত্যুসংবাদের কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে আজ বৃহস্পতিবার আত্মপক্ষ সমর্থন করে দ্বিতীয় দিনের মতো লিখিত বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। ওই মামলায় তিনি একজন অন্যতম প্রধান আসামি।

দ্বিতীয় দিনেও নিজের বক্তব্য শেষ না করে খালেদা জিয়া পরবর্তী সময়ে বাকি বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি চাইলে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান তা মঞ্জুর করে আগামী ২ নভেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করে দেন। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য দেন।

আজ প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার লিখিত বক্তব্যে খালেদা জিয়া তার রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপট, সেনানিবাসে চার দশকে স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে তার উৎখাত, রাজনীতি করতে গিয়ে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেয়া, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, ২০১৫ সালে প্রায় তিন মাস গুলশানের কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ থাকা, বিভিন্ন মামলায় হয়রানিসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন।

আদালতের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আপনি নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করা হচ্ছে। জারি করা হচ্ছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। প্রায় চার দশকের স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়ি থেকে আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।’

তার নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাকে আমার বাসা ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে বালির ট্রাক দিয়ে কয়েক দফায় দীর্ঘদিন অবরোধ করে রাখা হয়েছে। আমি আমার অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় সে সময় বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমাকে যখন গুলশানের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল, তখন আমার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুসংবাদ পাই।’ এ পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

পরে নিজেকে সামলে নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আর সেদিনই আমার এবং আমার সঙ্গে অবরুদ্ধদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি মামলা করা হয়। অভিযোগ করা হয়, রাস্তায় গাড়ি পোড়ানো এবং বিস্ফোরক দিয়ে মানুষ হত্যার। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায়ই নাকি আমরা এসব করেছি।’

‘মাননীয় আদালত’, খালেদা জিয়া বলতে থাকেন, ‘আপনি দেখেছেন, শাসক মহলের নির্দেশে আমার স্বাধীন চলাচল বিভিন্নভাবে ব্যাহত করা হয়েছে। প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে আমার ওপর বারবার হামলার ঘটনা সারা বিশ্ব দেখেছে। আমার গাড়ির ওপর গুলি চালানো হয়েছে। আমার গাড়িবহরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা তাতে আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা কেউ আটক হয়নি। কোনো ঘটনার বিচার হয়নি আজ পর্যন্ত। আমার বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে অসত্য ও কুৎসিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে।’

এর কোনো কিছুই বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যাপার নয় উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং এ দেশের জনগণের বর্তমান সার্বিক দুর্দশার সঙ্গে আমার এসব হেনস্তা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত বলেই আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস।’ এ সময় তিনি মামলার সঠিক চিত্র পেতে সময় দিতে আদালতের প্রতি আবেদন জানান।

আদালতের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি আপনাকে অনুরোধ করব আমার কথাগুলো একটু শুনবেন। আমাকে সময় দেবেন, যাতে আমি আমার সব কথা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারি। যাতে আমি পুরো প্রেক্ষাপট ও পটভূমি তুলে ধরতে পারি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আদালতে কোকোর কথা বলে আবেগাপ্লুত খালেদা জিয়া

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিতে গিয়ে একপর্যায়ে ছোট ছেলে কোকোর মৃত্যুসংবাদের কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে আজ বৃহস্পতিবার আত্মপক্ষ সমর্থন করে দ্বিতীয় দিনের মতো লিখিত বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। ওই মামলায় তিনি একজন অন্যতম প্রধান আসামি।

দ্বিতীয় দিনেও নিজের বক্তব্য শেষ না করে খালেদা জিয়া পরবর্তী সময়ে বাকি বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি চাইলে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান তা মঞ্জুর করে আগামী ২ নভেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করে দেন। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য দেন।

আজ প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার লিখিত বক্তব্যে খালেদা জিয়া তার রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপট, সেনানিবাসে চার দশকে স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে তার উৎখাত, রাজনীতি করতে গিয়ে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেয়া, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, ২০১৫ সালে প্রায় তিন মাস গুলশানের কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ থাকা, বিভিন্ন মামলায় হয়রানিসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন।

আদালতের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আপনি নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করা হচ্ছে। জারি করা হচ্ছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। প্রায় চার দশকের স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়ি থেকে আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।’

তার নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাকে আমার বাসা ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে বালির ট্রাক দিয়ে কয়েক দফায় দীর্ঘদিন অবরোধ করে রাখা হয়েছে। আমি আমার অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় সে সময় বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমাকে যখন গুলশানের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল, তখন আমার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুসংবাদ পাই।’ এ পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

পরে নিজেকে সামলে নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আর সেদিনই আমার এবং আমার সঙ্গে অবরুদ্ধদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি মামলা করা হয়। অভিযোগ করা হয়, রাস্তায় গাড়ি পোড়ানো এবং বিস্ফোরক দিয়ে মানুষ হত্যার। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায়ই নাকি আমরা এসব করেছি।’

‘মাননীয় আদালত’, খালেদা জিয়া বলতে থাকেন, ‘আপনি দেখেছেন, শাসক মহলের নির্দেশে আমার স্বাধীন চলাচল বিভিন্নভাবে ব্যাহত করা হয়েছে। প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে আমার ওপর বারবার হামলার ঘটনা সারা বিশ্ব দেখেছে। আমার গাড়ির ওপর গুলি চালানো হয়েছে। আমার গাড়িবহরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা তাতে আহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা কেউ আটক হয়নি। কোনো ঘটনার বিচার হয়নি আজ পর্যন্ত। আমার বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে অসত্য ও কুৎসিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে।’

এর কোনো কিছুই বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যাপার নয় উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং এ দেশের জনগণের বর্তমান সার্বিক দুর্দশার সঙ্গে আমার এসব হেনস্তা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত বলেই আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস।’ এ সময় তিনি মামলার সঠিক চিত্র পেতে সময় দিতে আদালতের প্রতি আবেদন জানান।

আদালতের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি আপনাকে অনুরোধ করব আমার কথাগুলো একটু শুনবেন। আমাকে সময় দেবেন, যাতে আমি আমার সব কথা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারি। যাতে আমি পুরো প্রেক্ষাপট ও পটভূমি তুলে ধরতে পারি।’