ঢাকা ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ধামরাইয়ে স্বামীর মারধরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ পপি রাণী সরকার ওরফে সোমা (২৭)কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিটন সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকা থেকে পপি রাণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার সকালে আটক লিটন সরকারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোমগ্রাম এলাকার মৃত নরেশ সরকারের ছেলে অটোরিকশাচালক লিটন সরকার প্রায় আট বছর আগে একই ইউনিয়নের দেলুটিয়া গ্রামের পরিমল সরকারের মেয়ে পপি রাণীকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর লিটন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

রোববার দুপুরে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে তাদের সাত বছরের সন্তানের সামনেই লিটন লাঠি দিয়ে পপি রাণীকে মারধর করেন । একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে বাথরুমের সামনে ফেলে রেখে লিটন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

পরে সন্ধ্যায় পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লিটন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ৮টার দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে স্থানীয়রা লিটনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

নিহতের বাবা পরিমল সরকার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাতেন লিটন। এর আগেও মারধর করে একটি সেতুর নিচে ফেলে দিয়েছিলেন। প্রতিবার ক্ষমা চেয়ে মেয়েকে আবার বাড়িতে নিয়ে যেতেন। এবার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি এ ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের বাবা থানায় মামলা করেছেন। আটক লিটন সরকারকে সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ধামরাইয়ে স্বামীর মারধরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১২:১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ পপি রাণী সরকার ওরফে সোমা (২৭)কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিটন সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকা থেকে পপি রাণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার সকালে আটক লিটন সরকারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোমগ্রাম এলাকার মৃত নরেশ সরকারের ছেলে অটোরিকশাচালক লিটন সরকার প্রায় আট বছর আগে একই ইউনিয়নের দেলুটিয়া গ্রামের পরিমল সরকারের মেয়ে পপি রাণীকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর লিটন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

রোববার দুপুরে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে তাদের সাত বছরের সন্তানের সামনেই লিটন লাঠি দিয়ে পপি রাণীকে মারধর করেন । একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে বাথরুমের সামনে ফেলে রেখে লিটন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

পরে সন্ধ্যায় পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লিটন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ৮টার দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে এলে স্থানীয়রা লিটনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

নিহতের বাবা পরিমল সরকার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাতেন লিটন। এর আগেও মারধর করে একটি সেতুর নিচে ফেলে দিয়েছিলেন। প্রতিবার ক্ষমা চেয়ে মেয়েকে আবার বাড়িতে নিয়ে যেতেন। এবার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি এ ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের বাবা থানায় মামলা করেছেন। আটক লিটন সরকারকে সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।